somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভোটের বাক্সে লাথি মারো, বাংলাদেশ কায়েম করো--ভাসানী

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১১ ভোর ৪:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাওলানা ভাসানী সত্তুরের নির্বাচন প্রত্যাখান করে বলেছিলেন, ভোটের বাস্কে লাথি মারো, বাংলাদেশ কায়েম করো!
যাদের সাথে থাকবনা তাদের সাথে নির্বাচন কিসের?
এসব কথা বলতে পেরেছিলেন তিনি কারণ ক্ষমতার লোভী ছিলেন না। কিন্তু সেই নির্বাচনের ভোটের বাস্কে সালাম করে আওয়ামিলীগ অংশগ্রহণ করে এবং জয়ী হয়। কিন্তু ক্ষমতা না পাওয়ায় ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু বলেন যার যা কিছু আছে তা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ো! এতদ্ সত্বেও ২৭শে মার্চের আগ পর্যন্ত ক্ষমতা লাভের জন্য লিয়াজো করতে থাকেন তাদের সাথে। পকৃতপক্ষে তারা চেয়েছিল ক্ষমতা। কিন্তু মাওলানা ভাসানী চেয়েছিলেন দেশের স্বাধীনতা।

শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ১২ দিন পর যখন ঢাকায় পত্রপত্রিকায় মওলানা ভাসানীকে নিয়ে নানা ধরনের লেখালেখি শুরু হয়েছে, তখন ভারতের সরকার মওলানা ভাসানীকে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেন। তখন তাঁর স্বাস্থ্য বিশেষ ভালো ছিলো না। দিল্লী থেকে দেশে ফেরার আগে তিনি আসাম যান। সেখানে তাঁর পরিচিত জনদের সাথে দেখা করার অনুমতি চেয়েছিলেন ভারত সরকারের কাছে। ভারত সরকার তাতে সম্মত হয়েছিলেন। ২১ জানুয়ারি ১৯৭২ আসামের ফরিগঞ্জে তিনি এক জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন, সেখানে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে দীর্ঘ ইতিহাস, পাকিস্তানের বর্বরতা ও ২৩ বছরের শোষণের একটি চিত্র তুলে ধরেছিলেন। ২২ জানুয়ারি মেঘালয় থেকে তিনি ভারত সরকারের একটি জীপে বাংলাদেশের হালুয়াঘাটে পৌঁছেন। তাঁর সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন চিকিৎসক ছিলেন। হালুয়াঘাটে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা মহান এই জাতীয় নেতা মওলানা ভাসানীকে মামুলি অভ্যর্থনা জানিয়েছিল ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক খসরুজ্জামান চৌধুরী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও তার ভক্তমন্ডলী।
সড়কপথে ক্লান্তশ্রান্ত দেহে ২২ জানুয়ারি ৭২-এ শেষ রাতে তিনি পৌঁছেন টাঙ্গাইলে। রাতে সার্কিট হাউসেই রইলেন তিনি। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই পাকিস্তানী সেনারা তাঁর অসন্তোষের বাড়িটি পুড়িয়ে দিয়েছিল। পরদিন অর্থাৎ ২৩ জানুয়ারি সকালে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ন্যাপ-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তাঁকে দেখতে সমবেত হন সার্কিট হাউসে। বহুদিন পর পরিচিত মানুষ ও সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় উৎফুল্ল হয়ে উঠেন মজলুম জননেতা। পকেট থেকে ১০ টাকা বের করে একজনকে দিয়ে বললেন, সন্দেশ নিয়ে এসো। ওই ১০ টাকার সাথে আরো টাকা যোগ করে আনা হলো সন্দেশ। সকলকেই মিষ্টিমুখ করালেন তিনি।
দেখতে দেখতে অসংখ্য মানুষ জড় হল, যেন ছোটখাটো জনসমাবেশ। ফুটপাতের এক দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে নাতিদীর্ঘ স্বভাবসুলভ ভাষণ দেন তিনি। বহুদিন পর টাঙ্গাইলবাসী শুনতে পায় তাদের পরিচিত কণ্ঠ। আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে উপস্থিত জনতা। এরপর টাঙ্গাইল থেকে গেলেন সন্তোষের নিজ বাড়িতে। তাঁর পোড়া ভিটেয় গিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখলেন সব, কোথায় কি ছিল তা সনাক্ত করলেন। তাঁর যেসব প্রিয় বস্তু খোয়া গেছে সেগুলোর জন্য আপসোস করলেন। তাঁর গভীর অথচ চাপা দীর্ঘনিশ্বাস গোপন থাকলো না উপস্থিত শ্রোতাদের কাছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ : ‘‘দলে দলে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ভক্তারা এসে পা ছুঁয়ে সালাম করতে লাগলো তাদের প্রিয় হুজুর ও পীরবাবাকে। যেন মাটিরই পৃথিবীতে এই সদ্য এসেছেন পথ ভুলে এক মহামানব মাটির মানুষের পরমাত্মীয়। এলাকার কে কোথায় মারা গেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা কেমন আছে সে খবর নিলেন তিনি। ঘনিষ্ঠ কারো কারো নিহত হবার কথা শুনে তা চোখ অশ্রুসিক্ত ও কণ্ঠ বারুদ্ধ হলো।’’
মওলানা ভাসানীর প্রতিষ্ঠিত তাঁরই স্বপ্নের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো দালানের একটি কক্ষে তাঁর থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল। ইতোমধ্যেই যথা পূর্ব খিচুরী রান্না শুরু হয়ে গিয়েছিল সেখানে। কলার পাতায় যার যেমন খুশি খাচ্ছে। সকলের সঙ্গে মওলানা ভাসানীও খেলেন বেশ পরিতৃপ্তি সহকারে। শীতের ছোট দিন, তাড়াতাড়ি সন্ধ্যা এলো, দর্শনার্থীদের ভিড় কমলো কিছু। ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র বিছানা, মলিন কাথা-বালিশ পর্যন্ত ভস্ম করে দিয়েছিল ইয়াহিয়ার ফৌজ। তীব্র শীত পড়েছিল সেদিন। নেতার বিছানাপত্রের ব্যাপারে ভক্তেরা সত্যি সত্যি পুরু করে নাড়া বিছিয়ে তার ওপরে একটি চট দিয়ে বিছানা করে দিলেন তাঁকে। আশপাশের কারো বাড়ি থেকে যোগাড় হয়েছিল একটি জীর্ণ কাঁথা অপেক্ষাকৃত তাড়াতাড়ি সেদিন শুয়ে পড়লেন মওলানা। স্বাধীন দেশে ফিরে এসে মাটির শয্যায় প্রথমবার স্বাধীনভাবে পরম শান্তিতে ঘুমালেন এ মাটির এক উঁচু মানব।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১১ ভোর ৪:৪২
২১টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×