ফেলানীকে খুনের জন্যে ভারতকে ক্ষমা চাইতে হবে, না চাইলে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার হুমকি নিউইয়র্ক থেকে । ফেলানী হত্যাকান্ডে জড়িতদের সাসপেন্ড নয়, ভারতীয় আইন অনুযায়ী বিচারে সোপর্দ করার পাশাপাশি প্রকাশ্যে বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যতে আর কোন বাংলাদেশীকে গুলী করে হত্যা না করার নিশ্চয়তা প্রদান করা না হলে ভারতের বিরুদ্ধে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা হবে। মামলার জন্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এটর্নী ও ব্যারিস্টারগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। ইতোমধ্যেই তারা বাংলাদেশ হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। বাংলাদেশের আদালত মামলাটি আমলে না নিয়ে মানবতার প্রতি সামান্যতম শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শনেও ব্যর্থ হয়েছে। এসব তথ্য জানানো হয় ৩১ জানুয়ারি সোমবার রাতে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল) নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে। মার্কিন এটর্নী রণ ক্যাটিরায়েল এবং ব্যারিস্টার মুফাসসিল মাযহার উপরোক্ত তথ্য উপস্থাপন করেন।
জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী সীমান্তে কোন অবৈধ ইমিগ্র্যান্টকেই গুলী করে হত্যা করা বেআইনী। এতদসত্ত্বেও ভারতীয় বিএসএফ সপ্তাহে গড়ে ৪ বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। এ অবস্থা কোন সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা চুপ থাকতে পারি না। এজন্যেই আমরা প্রথমে ভারতকে সংশোধনের সুযোগ দিতে চাই। তারা প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইবে, আর একজনকে গুলী করবে না-তার গ্যারান্টি দেবে এবং ফেলানীকে হত্যার জন্যে দায়ী অফিসারদের বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
ভারত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য লাভের চেষ্টা করছে, তা হতে দেব না। নিকট প্রতিবেশী দেশের সাথে অমানবিক আচরণ, দাদাসুলভ আচরণ বন্ধ না করলে আমরা সারাবিশ্বে ভারতের কদর্য চেহারা তুলে ধরবো।
বার্তা সংস্থা এনার এক প্রশ্নের জবাবে মানবাধিকার আইনজীবী এটর্নী রণ ক্যাটিরায়েল এবং ব্যারিস্টার মাযহার বলেন, বিশ্বায়নের এ যুগে অমানবিক কোন আচরণকে মেনে নেয়া হবে না। ভারত যা করেছে তা সভ্য সমাজের আচরণ নয়। অথচ তারা চেষ্টা করছে জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য হতে। এহেন আচরণ থেকে বিরত না করা গেলে ভবিষ্যতে তারা যদি নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য গতে সক্ষম হয় তাহলে নিকট প্রতিবেশীদের সাথে আরো চরম আচরণ করতে ভারত দ্বিধা করবে না। এটর্নীরা বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে যোগাযোগ করেছি। বাংলাদেশের আইনজীবীগণের কাছ থেকে যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি। অস্ট্রেলিয়া, লন্ডন, কানাডা এবং আমেরিকায় বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত শতাধিক আইনজীবীর সাথে যোগযোগ হয়েছে। শিগগিরই একটি ফোরাম গঠন করা হবে। তারা আরো বলেন, আমাদের ঘনিষ্ঠ অনেক বেশী আইনজীবী রয়েছেন তাদেরকেও মানবতার জন্যে এ প্রকল্পে সম্পৃক্ত করা হবে। এনার অপর এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মাযহার বলেন, বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে ৩ লক্ষাধিক ভারতীয় কাজ করছেন অবৈধভাবে। এরা কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার হিসেবেও রয়েছেন। এভাবেই বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে নাজুক পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে সরকারের নাকের ডগায়-এ অভিযোগও করা হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


