গজে চড়ে দুর্গা আসার কারণে দেশের উন্নয়ন হয়েছে, একজন মুসলমান একথা বললে তার ঈমান থাকতে পারে না।
আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দূর্গাপূজা উপলক্ষে জয়কালি মন্দির ও জয়কৃষ্ণ মিশনে পূজামন্ডপ পরিদর্শন করতে যান। তিনি মুসলমান হলেও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সকল ধর্মের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান এবং সহযোগিতা করা তার উচিত। কিন্তু তিনি পূজামন্ডপে গিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা তাওহিদী জনতার ধর্মীয় অনুভূতিতে দারুনভাবে আঘাত হেনেছে। তার বক্তব্যটাই ছিল নির্ভেজাল শিরক। যে কারণে দেশের সর্বদলীয় উলামা মাশায়েক ও ধর্মপরায়ণ ব্যক্তিগণ প্রচন্ডভাবে তার প্রতি ক্ষিপ্ত হন এবং অনতিবিলম্বে তাকে তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যটি ছিল ‘আমরা জানি এবং শুনেছি মা দূর্গা প্রত্যেক বছর বিভিন্ন বাহনে চড়ে আমাদের বসুন্ধরায় আসেন। এবার আমাদের দেবী এসেছেন গজে (হাতিতে) চড়ে। জানি গজে চড়ে আসলে এ পৃথিবী ধন-ধান্যে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। জিডিপি বৃদ্ধি পেয়ে সাত ভাগে দাঁড়িয়েছে। এ দাবি কোন হিন্দু পুরোহিত করেননি। অথচ তিনি একজন স্বনামধন্য মুসলিম নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা এবং তিনি নিজেও একজন ঈমানদার নামাযী মহিলা। কোন ঠেকায় পড়ে তিনি আল্লাহর স্থানে দূর্গা দেবীকে বসিয়ে দিলেন। কোন হিন্দু ভাই-বোন এ বক্তব্য দিলে কারো কিছু বলার ছিল না। কেননা, দূর্গা দেবীর হাতে কল্যাণ-অকল্যাণ-উন্নতি-অবনতি এটা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের মৌল বিষয়। প্রধানমন্ত্রী কেন এমন ঈমান বিধ্বংসী বক্তব্য রাখলেন! আল্লাহ সর্বশক্তির আধার। কল্যাণ, অকল্যাণ উন্নতি-অবনতি সবই তার ইখতিয়ারে আর কারো হাতে নেই। তিনি কোন নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আল্লাহকে বাদ দিয়ে দূর্গাদেবীকে কল্যাণ অকল্যাণ ও উন্নতি অবনতির ইখতিয়ার দান করলেন?
অনেকেই বলেছেন, হয়ত তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মন জয় করার জন্যেই এই চটকদার কথা বলেছেন। নয়ত তিনি আদৌ আল্লাহ-খোদা বিশ্বাস করেন না। তার কুরআন তিলাওয়াত, নামাজ পড়া হজ্ব-উমরা করা এগুলো সবই মুসলমানদের মন খুশী রাখার জন্য। যাতে মুসলমানরা তাকে ভোট দেয়।
তার বক্তব্য হওয়া উচিত ছিল-সারাদেশে শারদীয় দূর্গাপূজা অত্যন্ত শান্তি ও শৃক্মখলার সঙ্গেই উদযাপিত হচ্ছে। এতে আমি দারুণভাবে খুশী হয়েছি। তাই এই পূজা উপলক্ষে আমি সকল হিন্দু ভাইবোনদের জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন এভাবে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃস্টান সকলে মিলেমিশে শান্তিতে ধর্মকর্ম করার তাওফিক দান করেন। তাহলে সকল হিন্দু ভাইবোনই খুশী হতেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। এতে নিজের ঈমানের মূলেও কুঠার আঘাত করার প্রয়োজন হতো না। কোন মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে না। তবে ভুল করলে তাওবার মাধ্যমে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হতে না চান তাহলে তার উচিত তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট কান্নাকাটি করে মাফ চেয়ে নেয়া। নইলে তার লাশ দাহ্য করা হবে না কবর দেয়া হবে এ দেশের মানুষ তা নিয়ে সমস্যায় পড়ে যাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


