নিউইয়র্ক-ভিত্তিক বাংলা বার্তা সংস্থা নিউজ ওয়ার্ল্ড প্রথম ১৪ নভেম্বর সৈয়দ আশরাফ পদত্যাগ করেছেন বলে খবরটি প্রকাশ করলে এ নিয়ে হৈচৈ পড়ে যায়। ওই দিনই বাংলাদেশের অনলাইন বার্তা সংস্থা এবং দৈনিক পত্রিকাগুলোর অনলাইন এডিশনে খবরটি স্থান পায়। পরদিন ১৫ নভেম্বর প্রায় সব দৈনিকের প্রথম পাতায় সৈয়দ আশরাফের ছবি দিয়ে নানা হেডিংয়ে খবরটি ছাপা হয়। অবশ্য আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে সৈয়দ আশরাফের পদত্যাগ সম্পর্কে গুঞ্জন কয়েক দিন ধরেই চলছিল। সাবেক স্বরাষ্টপ্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ যখন পদত্যাগের খবর রটেছিল, তখন আওয়ামীলিগের অনেক নেতা-মন্ত্রীও বলেছিলেন, গুজব। এমনকি স্বরাষ্টমন্ত্রীও বলেছেন, সে আমাকে বলেছে খালাম্মা আমি ছুটিতে যাব পরিবারের কাছে। আমি তো আর না করতে পারিনা। একজন মন্ত্রী হয়ে এরকম ডাহা মিথ্যা বলেন। কিছুদিনের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করেন। তাদের মিথ্যাচার শ্রবণ করতে করতে জনগনের বদহজমের হয়েগেছে। তবে যাহা রটে তাহা কিছুটা বটে এ আবহমান সত্য।
নিউজ ওয়ার্ল্ডের খবরটিতে বলা হয়, সৈয়দ আশরাফ মন্ত্রী ও দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মালদ্বীপ যাওয়ার আগেই তিনি তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করলেও সৈয়দ আশরাফ তার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন এবং সরকার ও দলের সব ধরনের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রয়েছেন। সরকার পরিচালনা ও দলের নীতিনির্ধারণের মৌলিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতপার্থক্য দেখা দেয়ার কারণে সৈয়দ আশরাফ পদত্যাগ করেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে খবরটিতে জানানো হয়।
নিউজ ওয়ার্ল্ডের এ খবর প্রচারিত হওয়ার পর এটি টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মিডিয়ায় এ নিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়েছে। এতে বলা হয়, খবরটি স্রেফ গুজব। সরকারকে বিব্রত করার জন্য স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে খবরটি রটিয়েছে বলে আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাশ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেন। ওই দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাসৈনিক ইমদাদ হোসেনের মরদেহে শ্রদ্ধা জানাতে যান সৈয়দ আশরাফ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বান কি মুনের একটি অনুষ্ঠানেও সৈয়দ আশরাফকে অংশ নিতে দেখা যায়।
এর আগে মন্ত্রণালয়ের অফিসে যাওয়া এবং দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান থেকে সৈয়দ আশরাফ বিরত ছিলেন। পদত্যাগের বিষয়টি খবর হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে তিনি পরের অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ দেন বলে জানা গেছে।
তবে সৈয়দ আশরাফ ওইসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ছবি মিডিয়ায় রিলিজ হলেও পদত্যাগ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কোনো মন্তব্য করেননি। পদত্যাগের খবরটি স্রেফ গুজব হলে সৈয়দ আশরাফ নিজেই এক কথায় তা উড়িয়ে দিতেন। তার মুখ থেকে ‘পদত্যাগ করিনি’—এই একটি বাক্যই যথেষ্ট ছিল। মানুষ বিশ্বাস করত, তিনি পদত্যাগ করেননি। তার বিষয়, অথচ তিনি কিছু বলছেন না। বলছেন দলের উপদফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাশ। ফলে পদত্যাগ নিয়ে রহস্য রয়েই গেছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



