Education শব্দটি এসেছে Educe থেকে। Educe অর্থ “প্রকাশ করা”। শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের সুপ্ত প্রতিভা প্রকাশ করতে পারে সেই জন্যই Education. আমাদের দেশে এত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন? তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য একটি শিক্ষিত জাতি তৈরী করা। আর সে জাতি সু-শিক্ষিত না কু-শিক্ষিত তা নির্ধারণ করা হবে দেশের অবস্থার উপর।
১.
বর্তমানে আমাদের দেশে শিক্ষার্থীদের উপর তথ্যের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়। সে সব তথ্য মনে রাখা এবং পরীক্ষার খাতায় উদগিরন করা এটাই তাদের মূল লক্ষ্য। তথ্যগুলো তারা তাদের জীবনে কিভাবে ইমলিমেন্ট করবে সে সম্পর্কে ক’জন শিক্ষক দিক নির্দেশনা দেন তা নিয়ে একটি তর্ক হতে পারে। ক’জন শিক্ষক চেষ্টা করেন, শিক্ষার্থীদের মনের মধ্যে যে জ্ঞানের বাতি আছে তা জ্বলিয়ে দেবার এবং মনকে সুশৃঙ্খল করে গড়ে তোলার?
আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষকদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান পাঠ্য বইয়ের মধ্যে আটকে রাখা। এমন বিশাল প্রাচীর তৈরী করে দেয়া যে মনজগতের এক্সপান্ড হওয়ার কোন সুযোগই নেই।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও একটি খারাপ দিক হচ্ছে Back Benched শিক্ষার্থীদের দিকে নজর না দেয়া। তাদেরকে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা। এতে করে একজন শিক্ষার্থীর যে আত্মসম্মানবোধ এবং মনবলের যে কি পরিমাণ ক্ষতি হয় তা বলার বাইরে। আমার নিজেরই পরিচিত অনেক শিক্ষক আছেন যাঁরা অপেক্ষাকৃত দূর্বল শিক্ষার্থীদের কোন রকম সহযোগিতা দিতে নারাজ। অনেক সময় তো তাঁরা এড়িয়েও চলার চেষ্টা করেন। ভালো কে ভালো করার মাঝে একজন শিক্ষকের কোন সার্থকতা নেই। একজন শিক্ষক তখনই সার্থক হবেন যখন কোন খারাপকে তিনি ভালো করতে পারবেন। কারণ, দূর্বল শিক্ষার্থীদের অবজ্ঞা করা হলে তাদের উৎসাহ এবং উদ্যমতা থমকে যায়। তারা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে, ডিপ্রেশান এ ভোগে। এবং সেখান থেকেই হিংসাত্মক মনোভাবের সৃষ্টি হয়।
২.
একটা সময়ে মুসলমান সমাজে শিক্ষা মানেই ছিল ধর্ম শিক্ষা। তবে এখন যুগ পাল্টিয়েছে। মানুষ আধুনিক ও সচেতন হয়েছে। কিন্তু আমাদের মাদ্রাসা গুলোতে সেই গোঁড়ামী ভাবটা রয়েই গেছে। তাঁরা ধর্ম শিক্ষা মানে, শুধু ধর্মকেই বোঝায়। এর বাইরে পৃথিবীকে বোঝা কিংবা মনের দুয়ারকে খুলে দেয়ার মত পাঠ্য তারা নিতে নারাজ। তাঁরা কোরআন পড়ছে কিন্তু তাঁর মর্মার্থ বোঝার চেষ্টা করছে না। সুতরাং তাঁরা যা বোঝে না সে অনুযায়ী চলবে কি করে!
তাই মাদ্রাসা গুলোতে শিক্ষা ব্যবস্থায় যাঁরা আছেন তাঁদের গোঁড়ামী ভাবটা ত্যাগ করে ধর্মের যে নীতির অংশটুকু আছে তার উপর জোর দিতে হবে। ধর্মের যে নানা রুপ কথা-উপকথা আছে সেগুলো সুন্দর করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরতে হবে। তাছাড়া মাদ্রাসায় কেবল আরবি পড়তে হবে এমন তো কথা নেই। পবিত্র কোরআনে আছে “তাতাফাক্কারো ফি খালকিল্লাহ” যার অর্থ, আমার যাবতীয় সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা কর।
আসলে সবচাইতে বড় কথা হলো, কোন শিক্ষানীতি পরিবর্তন করে এদেশকে পরিবর্তন করা যাবে না। যতদিন না এদেশের হর্তাকর্তাবৃন্দ এবং শিক্ষকদের নীতি পরিবর্তন করা যাবে। তা নাহলে শিক্ষার্থীরা শুধু তোতা পাখির মত বই মুখস্ত করবে। এতে করে তাদের মাঝে না আসবে স্বদেশ প্রীতি, না আসবে ধর্ম প্রীতি, না আসবে মনুষত্ববোধ। ফলে না হবে বাঙালী জাতির উন্নতি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


