(রাজাকারদের লিস্ট প্রকাশ করা হলো)
একাত্তরে রাজাকার-আলবদরদের চেনে অনেকেই। অনেকেই আবার চিনেও না চেনার ভান করে বসে থাকেন। যত সাক্ষি-সাবুত তাদের সামনে উপস্থাপনা করা হোক না কেনো তারা হয় নিশ্চুপ থাকবে নাহলে বলবে, অতীতকে নিয়ে ঘাটাঘাটি না করাই ভালো। কিন্তু বাঙালী জাতির কাছে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল তাদের অস্তিত্বের লড়াই। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের মুক্তিকামী মানুষগুলোর অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে। নয় মাসের যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছে তা বাঙালী জাতির কাছে ভুলবার কোন ইতিহাস নয়। আমরা ঘৃনা জানাই তাদের যারা সেদিন আমাদের বিরুদ্ধে ছিল। আমরা ঘৃনা জানাই তাদের যারা এখন এই রাজাকার দেশদ্রোহীদের চিনেও না চেনার ভান করে।
৭১- এ হাইকমান্ডে যারা যারা ছিল তাদের একটি তালিকা প্রকাশ হয়েছিল বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। সেখান থেকে সংগ্রহ করে আমি পুনরায় পরিচয় প্রকাশ করছি সেই সব দেশদ্রোহীদের।
নিম্নলিখিত সকলে আল বদর হাই কমান্ড এবং ইসলামী ছাত্র সংঘের কেন্দীয় কমিটির সদস্য:
১. মতিউর রহমান নিজামী- সারা পাকিস্তানের প্রধান
২. আলী আহসান মুজাহিদ- পূর্ব পাকিস্তান প্রধান
৩. মীর কাশেম আলী- আল বদর বাহিনীর তৃতীয় স্থানীয় প্রধান নেতা
৪. মোহাম্মদ কামারুজ্জামান- বদর বাহিনীর প্রধান সংগঠক
৫. আশরাফুজ্জামান খান- ঢাকা শহর বদও বাহিনীর হাই কমান্ড সদস্য এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের “চীফ এক্রিকিউটর” প্রধান জল্লাদ
৬. মোহাম্মদ শামসুল হক- ঢাকা শহর প্রধান
৭. মোহাম্মদ ইউনূস।
৮. আশরাফ হোসাইন- বদর বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ও ময়মনসিংহ জেলার প্রধান
৯. মোস্তফা শওকত ইমরান- ঢাকা শহর বদর বাহিনীর অন্যতম নেতা
১০. আ.শ.ম. রুহুল কুদ্দুস- ঢাকা শহর বদর বাহিনীর অন্যতম নেতা
১১. সরদার আব্দুস সালাম- ঢাকা জেলা প্রধান
১২. খুররাম ঝা মুরাদ
১৩. আব্দুল বারী- জামালপুর প্রধান
১৪. আব্দুল হাই ফারুকী- রাজশাহী জেলা প্রধান
১৫. আব্দুল জাহেব মোহাম্মদ আবু নাসের- চট্টগ্রাম জেলা প্রধান
১৬. মতিউর রহমান খান- খুলনা জেলা প্রধান
১৭. চৌধুরী মইনুদ্দীন - বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের অপারেশান ইনচার্জ
১৮. নূর মোহাম্মদ মল্লিক - ঢাকা শহর বদর বাহিনী নেতা
১৯. এ. কে. মোহাম্মদ আলী
২০. মাজহারুল ইসলাম- রাজশাহী জেলা বদর বাহিনী প্রধান
(সূত্র: দৈনিক বাংলা, ইত্তেফাক, আজাদ, ১৯৭২)
এই নিকৃষ্ট পাপীগুলোর বিচার হয়নি। তাই বলে কি বিচার হবে না? যে ঘৃন্য হত্যাকান্ড তারা চালিয়েছে তা কি করে এ জাতি ভুলে যাবে। তবে জাতির জন্য দুঃখজনক এদের অনেকেই এখনও রাজনীতি করছে এমনকি সরকারে বসে পতাকাবাহী গাড়িতে চড়ে বেড়িয়েছে। যে পতাকা তারা চায় নি সেই পতাকাবাহী গাড়ী তাদের এই জনগণ দিয়েছে!! ভাবতেই অবাক লাগে। তারপরও, তারপরও বাংলার ইতিহাস তাদের কোনদিন ক্ষমা করবে না। বাংলার মাটি, বাতাস, মানুষ, আজ তাদের বিচার চায়। চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে, এই অমানুষ দেশদ্রোহী, আল বদর, আল সামস, রাজাকারদের বিচার চাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


