somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি চিঠির অপেক্ষায়.....

১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হরিপদ লাল। নন্দীগ্রাম পোষ্ট অফিসের পোষ্টম্যান। অপেক্ষা করছেন একটি চিঠির। যে চিঠি তিনি পৌছে দেবেন গ্রামের কোনো এক ঘরে। সেই ঘরের মানুষগুলোর চোখে হরিপদ সেই উচ্ছলতা, সেই আবেগ দেখতে পাবে।
কতোদিন তা দেখা হয় না! চিঠি যে আসে না!
আধুনিকযুগে মানুষ যে চিঠি লেখা ভুলেই গেছে। তারা এখন মোবাইল পেয়েছে। গ্রামের প্রতিটি ঘরে পৌছে গেছে কন্ঠস্বর শোনার যন্ত্রটি। কোনো মা তার সন্তান, কোনো স্ত্রী তার স্বামীর অনুভূতি সম্বলীত কাগজ বন্দী করা চিঠির জন্য আর অপেক্ষা করে না। আপেক্ষা এখন ফোনের আওয়াজের। ফোন আসবে সুদূর থেকে। আওয়াজ হবে। একটি বাটনে চাপ দিবে। বলবে, হ্যালো। তারপর ওপাশ থেকে ভেসে আসবে জীবন্ত মানুষের গলার আওয়াজ। এত সহজভাবে কাছের মানুষকে পেলে কি আর চিঠির প্রয়োজন আছে!!
পোষ্ট মাষ্টারও অফিসে আসা ছেড়ে দিয়েছেন। মাঝে মাঝে আসেন। পাঁচ-দশমিনিট অফিসে থেকে চলে যান। একদিন তিনি হরিপদকে বলছিলেন, হরি রে, চিঠির মধ্যে যে তীব্র মায়া, তীব্র আবেগ, তীব্র ভালোবাসা ফুটে উঠতে পারে তা যেন মানুষ ভুলেই গেছে। তারপর দীর্ঘ এক নিশ্বাস ছেড়ে বলেন, অন্যের কথা আর কি বলবো! আমিই নিজেই তো প্রযুক্তির কাছে হার মেনেছি রে। প্রযুক্তি আমাদের সবার আবেগকেও হাত করে ফেলেছে।
হরিপদ এসব কথার মানে বোঝে। আগে যখন সেই দূর থেকে সে চিৎকার করে বলে উঠতো, চিঠি, চিঠি। ঘর থেকে বউ-ঝিরা দৌড়ে বেরিয়ে আসতো। মানুষের অপেক্ষার দেয়াল ভাঙার যে দৃশ্য! তা যে কি মধুর হতে পারে! এসব দেখে হরিরও মাঝে মাঝে চোখে জল চলে আসতো। হরির সামনেই চিঠি খুলে পড়া শুরু করে দিতো। তারপর ঘরের কর্তা বলতেন, কোথায় রে সব? হরি রে সরবত দাও। চেহারাটা যে শুকাইয়া গেছে। হরি যেন সবার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।
হরি কে দেখা মাত্রই সবার মাঝে যে আবেগ ফুটে উঠতো। তা হরি আজও ভুলতে পারে না। কতোদিন সে আবেগ হরি দেখে না গ্রামের মানুষগুলোর মাঝে!
হরি তার বউকে একদিন বলছিল, বুজলা লক্ষীর মা, মানুষ তো ভালোবাসা কি জিনিস ভুইলাই যাইবো।
- কেন?
- আরে, কাছের মানুষরে যদি এতো সহজে পাইয়া যায় তাহলে ভালোবাসা কি জিনিস, তা কি করে বুজবো ওরা!! ভালোবাসা তখন গভীর হয় যখন অপেক্ষার প্রহর থাকে। দীর্ঘ প্রহর।
- মানি তো বুঝলাম না।
- দেহো না! মানুষের এহন আর চিঠির দরকার হয় না। কেউ কাউরে আর চিঠি লেহে না। তাই আর চিঠির অপেক্ষা করারও দরকার হয় না।
লক্ষীর মা মাথায় এতো কিছু ঢুকে না। তবে সে বুঝতে পারে, হরি কষ্টে আছে তার কর্মহীনতা নিয়ে। তার কাজ চিঠি পৌছে দেয়া। চিঠি না আসলে কাজ যে নেই! তাই তো এখন হরিপদই অপেক্ষা করছে একটি চিঠির। যে চিঠি তাকে পৌছে দিতে হবে গ্রামের কোনো এক ঘরে।
একদিন তপ্ত রৌদ্রদাহ দুপুরে একটি চিঠি এলো। হরিপদ আনন্দে আত্মহারা। যাক্, অনেকদিন পর তার কাজ করা হবে। অনেকদিন পর কারও অপেক্ষার প্রহর ভাঙবে। অনেকদিন পর কারও চোখে আনন্দের জল আসবে। চিঠিটি হাতে নিলো হরিপদ। আরে! এতো তার নামে! তাকে আবার চিঠি লিখলো কে? খাম খুলে পড়ে নিলো। চিঠি হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। চিঠিটিতে লেখা,

লক্ষীপুর জেলার রামগন্জ থানার নন্দীগ্রাম পোষ্ট অফিসটি সরকার বন্ধ ঘোষনা করেছে। আর তাই কর্তৃপক্ষ, পোষ্টম্যান, "হরিপদ লালকে" সকল পাওনা বুঝে নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। এই চিঠির পাওয়ার পর হরিপদকে পোষ্টমাষ্টারের সাথে যোগাযোগ করে হেড অফিসে আসার অনুরোধ জানানো হলো।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:২১
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×