somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যদি চোর হতে পারতাম!! তাহলে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হতাম

২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমরা কেউ পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত, কেউ চাকুরী কিংবা কেউ ব্যবসা। এই সব কাজই কি আমরা মন দিয়ে করি? মানে আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, আমরা কি সার্বক্ষণীক নিজের মনকে সেই কাজের প্রতি আটকে রাখতে পারছি?
এত চিন্তা করতে গেলে তো অনেক কথাই চলে আসে। যে যেই প্রফেশানে থাকুক না কেনো। বড় কথা হচ্ছে, আমরা কিছু করার চেষ্টা করি। একশ ভাগ (যদিও এটা নিয়ে প্রশ্ন আছে, তাও ধরে নিলাম আমরা একশ ভাগই দেই) এফোর্ট দিয়ে কিছু পাওয়ার চেষ্টা করি। কিংবা বলা যেতে পারে, আমরা সফলতা পাওয়ার চেষ্টা করি। যদি সফলতা না আসে তাহলে খুব বেশী হলে কিছুদিনের হতাশা।
কিন্তু একজন চোরের কথা ভেবে দেখেছেন? তার কাজ কিন্তু দিনে-রাতে। তার কোনো অবসর সময় নেই। যে রাতে আমরা গভীর ঘুমে অচেতন সেই রাতে বরং সে পূর্ণ উদ্যমে তার কাজ চালায়। আর কাজ করার সময় সে নিজেকে পুরো বিলিয়ে দেয়। সে জন্য তাকে কিন্তু প্রচুর মাথা খাটাতে হয়। তার কাজের ব্যাপারে, তার সফলতা চাই-ই চাই। তা নাহলে যে গণধোলাইয়ে তার হাড্ডি সাবাড় হবে।
কাজের ব্যাপারে যে কোনো সততাই যে চোরের পক্ষে যাবে তাও কিন্তু প্রমাণ করা যায়। যেমন, একটি প্রবাদ দিয়েই শুরু করা যাক।
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে
এই প্রবাদটি আমরা মানি কজন? আমরা সবাই নিজের ঢোল বাজাতেই ব্যস্ত থাকি। অন্যের গীবত গেতেই বরং বেশী পছন্দ করি। তবে মাঝে মাঝে নিজের স্বার্থে অন্যের প্রশংসাও আমরা করি। কিছুই না করে আমরা বহু কিছু করে ফেলার গল্প করি।
এবার একটু চোরের কথা ভাবুনতো! তার কি নিজের ঢোল বাজানোর প্রয়োজন আছে? তার কি ওতো কথা বলার সময় আছে? তার কাজ হচ্ছে নিশ্চুপ থেকে চুরি করা।
প্রবাদ যখন আনলামই তাহলে আরও একটি প্রবাদ বলি। যেমন,
চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী
এখন আপনিই বলুন, চোরের ওতো ধর্মের কিংবা সৎ হওয়ার গল্প শোনার সময় কি আছে? তার তো এসব শোনার বিন্দুমাত্র ইচ্ছাই নেই। তাছাড়া, কোনোদিন শুনেছেন, চোর চুরি করতে গিয়ে ধরা খেয়েছে আর কেউ তাকে নীতিবাক্য শুনিয়েছে! এমন ঘটনা থাকলেও বিরল।
বরং নীতিবাক্য শুনি না আমরা। শুনি এবং অন্যকেও শুনাই। কিন্তু আমরা যা শুনি তা এক কান দিয়ে শুনে আরেক কান দিয়ে বের করে দেই। আবার যা শোনাই তা শুধু শোনানো জন্যই শোনাই। কারণ আমরা অধিকাংশ মানুষ (কথিত সুসিল সমাজ) নীতিকথা বলতে আনন্দ পাই।

চোর হলে সরাসরি পরিচয়। মানুষ জানবে সে চোর। অন্যের সম্পদ সে চুরি করবে। সে মিথ্যা কথা বলবে। তার কোনো শিক্ষা থাকবে না। তাকে ওপরে উঠার জন্য কাউকে তেলানোর প্রয়োজন হবে না। সে আপন মনে নিশ্চুপ থেকে তার কাজ করে যাবে। এটাই তার পরিচয়।
অপরদিকে আমাদের পরিচয়ের কোনো দিক নেই। আমরা আসলে কি জন্য কি করি তাই জানি না। তবে দরকার হলে, মিথ্যেটাকে সত্যের মতো করে সুন্দর করে বলতে জানি। কেউ বুঝতেই পারবে না আমরা মিথ্যে বলছি। আবার, ফন্দি ফিকির করে, বিভিন্ন দহরম মহরম খাটিয়ে অন্যের সম্পদ লুটে নেই। আমরা যেহেতু শিক্ষিত বলে নিজেদের দাবি করি, তাই একটু ভদ্রলোকি পন্থায় চুরি করি। আবার আমরা উপরে ওঠার জন্য অন্যকে তেলানো থেকে শুরু করে দরকার হলে ল্যাং পর্যন্ত মারি।
তাই চোর আসল কথা নয়। আসল কথা হচ্ছে তার কর্মময় জীবন। তার নিজের সাথে নিজের সততা। অন্যেকে সে সরাসরি বলে দেয়, তোমার কথা ভাববার সময় কিংবা মন আমার নেই। কিন্তু আমরা মুখোশধারী মানুষগুলো শুধু ভালো মানুষের অভিনয় করে যাচ্ছি। তাই মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয়, যদি চোর হতে পারতাম!! তাহলে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হতাম।
৮টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×