আমরা কেউ পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত, কেউ চাকুরী কিংবা কেউ ব্যবসা। এই সব কাজই কি আমরা মন দিয়ে করি? মানে আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, আমরা কি সার্বক্ষণীক নিজের মনকে সেই কাজের প্রতি আটকে রাখতে পারছি?
এত চিন্তা করতে গেলে তো অনেক কথাই চলে আসে। যে যেই প্রফেশানে থাকুক না কেনো। বড় কথা হচ্ছে, আমরা কিছু করার চেষ্টা করি। একশ ভাগ (যদিও এটা নিয়ে প্রশ্ন আছে, তাও ধরে নিলাম আমরা একশ ভাগই দেই) এফোর্ট দিয়ে কিছু পাওয়ার চেষ্টা করি। কিংবা বলা যেতে পারে, আমরা সফলতা পাওয়ার চেষ্টা করি। যদি সফলতা না আসে তাহলে খুব বেশী হলে কিছুদিনের হতাশা।
কিন্তু একজন চোরের কথা ভেবে দেখেছেন? তার কাজ কিন্তু দিনে-রাতে। তার কোনো অবসর সময় নেই। যে রাতে আমরা গভীর ঘুমে অচেতন সেই রাতে বরং সে পূর্ণ উদ্যমে তার কাজ চালায়। আর কাজ করার সময় সে নিজেকে পুরো বিলিয়ে দেয়। সে জন্য তাকে কিন্তু প্রচুর মাথা খাটাতে হয়। তার কাজের ব্যাপারে, তার সফলতা চাই-ই চাই। তা নাহলে যে গণধোলাইয়ে তার হাড্ডি সাবাড় হবে।
কাজের ব্যাপারে যে কোনো সততাই যে চোরের পক্ষে যাবে তাও কিন্তু প্রমাণ করা যায়। যেমন, একটি প্রবাদ দিয়েই শুরু করা যাক।
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে
এই প্রবাদটি আমরা মানি কজন? আমরা সবাই নিজের ঢোল বাজাতেই ব্যস্ত থাকি। অন্যের গীবত গেতেই বরং বেশী পছন্দ করি। তবে মাঝে মাঝে নিজের স্বার্থে অন্যের প্রশংসাও আমরা করি। কিছুই না করে আমরা বহু কিছু করে ফেলার গল্প করি।
এবার একটু চোরের কথা ভাবুনতো! তার কি নিজের ঢোল বাজানোর প্রয়োজন আছে? তার কি ওতো কথা বলার সময় আছে? তার কাজ হচ্ছে নিশ্চুপ থেকে চুরি করা।
প্রবাদ যখন আনলামই তাহলে আরও একটি প্রবাদ বলি। যেমন,
চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী
এখন আপনিই বলুন, চোরের ওতো ধর্মের কিংবা সৎ হওয়ার গল্প শোনার সময় কি আছে? তার তো এসব শোনার বিন্দুমাত্র ইচ্ছাই নেই। তাছাড়া, কোনোদিন শুনেছেন, চোর চুরি করতে গিয়ে ধরা খেয়েছে আর কেউ তাকে নীতিবাক্য শুনিয়েছে! এমন ঘটনা থাকলেও বিরল।
বরং নীতিবাক্য শুনি না আমরা। শুনি এবং অন্যকেও শুনাই। কিন্তু আমরা যা শুনি তা এক কান দিয়ে শুনে আরেক কান দিয়ে বের করে দেই। আবার যা শোনাই তা শুধু শোনানো জন্যই শোনাই। কারণ আমরা অধিকাংশ মানুষ (কথিত সুসিল সমাজ) নীতিকথা বলতে আনন্দ পাই।
চোর হলে সরাসরি পরিচয়। মানুষ জানবে সে চোর। অন্যের সম্পদ সে চুরি করবে। সে মিথ্যা কথা বলবে। তার কোনো শিক্ষা থাকবে না। তাকে ওপরে উঠার জন্য কাউকে তেলানোর প্রয়োজন হবে না। সে আপন মনে নিশ্চুপ থেকে তার কাজ করে যাবে। এটাই তার পরিচয়।
অপরদিকে আমাদের পরিচয়ের কোনো দিক নেই। আমরা আসলে কি জন্য কি করি তাই জানি না। তবে দরকার হলে, মিথ্যেটাকে সত্যের মতো করে সুন্দর করে বলতে জানি। কেউ বুঝতেই পারবে না আমরা মিথ্যে বলছি। আবার, ফন্দি ফিকির করে, বিভিন্ন দহরম মহরম খাটিয়ে অন্যের সম্পদ লুটে নেই। আমরা যেহেতু শিক্ষিত বলে নিজেদের দাবি করি, তাই একটু ভদ্রলোকি পন্থায় চুরি করি। আবার আমরা উপরে ওঠার জন্য অন্যকে তেলানো থেকে শুরু করে দরকার হলে ল্যাং পর্যন্ত মারি।
তাই চোর আসল কথা নয়। আসল কথা হচ্ছে তার কর্মময় জীবন। তার নিজের সাথে নিজের সততা। অন্যেকে সে সরাসরি বলে দেয়, তোমার কথা ভাববার সময় কিংবা মন আমার নেই। কিন্তু আমরা মুখোশধারী মানুষগুলো শুধু ভালো মানুষের অভিনয় করে যাচ্ছি। তাই মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয়, যদি চোর হতে পারতাম!! তাহলে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হতাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



