somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এটা ওর একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার

০৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গল্প পছন্দ না হইলে কিছু করার নাই। আমার যেভাবে ইচ্ছা আমি সেভাবে লিখেছি। কারণ, গল্পটি আমি লিখেছি। এটা আমার একান্ত ব্যাক্তিগত ব্যাপার। :P


আমি একটি সাধারণ গল্প বলবো। কোন এনিয়ে-বেনিয়ে, চুয়িঙ্গামের মতো টেনে অন্যান্য লেখকদের মতো গল্প বলব না। কিংবা শক্ত কোনো লেখকের মতো পরিবেশ প্রকৃতির বর্ণনা দিয়ে আমার গল্প শুরু করবো না।
এই গল্পের নায়িকার নাম-রাবেয়া। কোন মহাসুন্দরী মেয়ে সে নয়। আমরা যেটাকে বলি, সুইট চেহারা মেয়ে। অনেকটা সেরকমই মেয়ে সে। খুব সাধারণ মধ্যব্ত্তি পরিবার। যে পরিবারের অধিকাংশ মায়েদের চোখ সর্বক্ষণ মেয়েদের সাথে সাথে থাকে। যেমন, মেয়ে কখন কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে যাচ্ছে, বন্ধু-বান্ধবীরা কেমন, ফোনে কার সাথে কথা বলে.....ইত্যাদি ইত্যাদি। রাবেয়ার মাও তার ব্যতিক্রম নয়। একদম টিপিকাল বাঙালী মা। আর বাবা? সেই টিপিকার বাবাদের মতোই। প্রজন্ড রাগী। তবে রাবেয়ার বাবার এক্সট্রা গুন হচ্ছে, ওনার ধার্মীক মনমানুষীকতা।
সুতরাং আপনারা পরিবারটির অবস্থা বুঝতেই পারছেন। আমরা যেটাকে বলি রেস্ট্রিকটেড ফ্যামিলি। তো, এতো রেস্ট্রিকশানে থেকেও রাবেয়া একটা ভুল করে ফেলেছে। ভুল মানে কি, যাকে বলা যায় মহা-ভুল(!) সে ভালোবেসেফেলেছে একটা ছেলেকে। সে জানে, বাবা-মা কেউ রাজী হবে না। তাই বিয়ে হওয়া তো অসম্ভব ব্যাপার। তাই সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে এই ছেলেকেই বিয়ে করবে। যদিও রাবেয়া জানে, প্রেম- ভালোবাসা নামক কোনো কিছুর স্থান তার বাসায় নেই। এ সবের মূল্য কেউ দেয় না।

যাই হোক, আসল ঘটনায় আসি। আপনারা বুঝতেই পারছেন রাবেয়া পালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই দিন সকালে, রাবেয়া তার ঘরকে ঘুরে ঘুরে দেখেছে। দেখেছে, কারণ সে আর ফিরবে না এই ঘরে। এবং যাওয়া আগে একদম সিনামার নায়িকাদের মতো একটি চিঠি লিখে তার পড়ার টেবিলে রেখে গেছে।
এরপর যা হয় আর কি। মেয়ের আসতে দেরী হচ্ছে কেনো। এই টেনশানে রাবেয়ার মার টেনশান। তিনি, রাবেয়ার বন্ধুদের বাসায় ফোন দিচ্ছেন, কলেজে ফোন দিয়েছেন। কোথাও কেউ রাবেয়ার খোঁজ যানে না। মেয়ের টেনশানে তিনি ঢুকলেন রাবেয়ার ঘরে। হঠাৎ চোখ পড়লো মেয়ের পড়ার টেবিলে। দেখতে পেলেন একটি চিঠি। যাতে লেখা,

বাবা-মা,
আমি জানি আমার জন্য তোমাদের অনেক টেনশান হচ্ছে। সে জন্য আমি তোমাদের কাছে মাফ চাই। বলেই যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু যা বলে কোনো লাভ নেই, যা বললে তোমরা কোনোদিন তার মর্ম বুঝবে না, সে কথা বলেও বা কি লাভ! তাই না মা? [যদিও আমি শুরুতে তোমাদের দুজন কে সম্মধন করে চিঠি লিখিছি, তাও আমি জানি মা' তুমিই আমার চিঠিটি পড়ছো।] যাই হোক মা। আমি একটি ছেলেকে ভালোবেসেছি। যেই পরিবারে প্রেম-ভালোবাসা একটি মহা-অপরাধ। আমি ঠিক সেই অপরাধটিই করেছি। তার উপর, ছেলে কোন আহামরী ডিগ্রিধারী না। সে নরমাল ড্রিগ্রি পাশ। ছোট খাটো একটা চাকরী করে মাসে আয় ৫০০০ টাকা। ঢাকায় একটি ছোট্ট দু'কামরার একটি ঘরে তার বসবাস। তোমাদের খুব একটা পছন্দ হবে না। তার উপর ছেলেটিকে বিয়ে করার পর আমার মথার মাঝখানে তোমরা দেখতে পাবে লাল রঙের সিঁদুর। হ্যা, মা। এমনই একটি ছেলেকে আমি ভালোবেসেফেলেছি। কি করবো? ভালোবাসার আগে কি ওসব আমি জানতাম। ভালোবেসে ফেলার পর ওসব আমার কাছে গৌণ।
আমি জানি, তোমাদের আমাকে নিয়ে অনেক সপ্ন ছিল। আমি অনেক উপরে উঠবো, নাম কামাবো, তারপর একজন সুদর্শন-সুশিক্ষিত ছেলের সাথে আমার বিয়ে দিবে। তারপর আমি সুখে-শান্তিতে বসবাস করবো। কিন্তু আমি তোমাদের সেই সপ্ন পূরণ করতে পারবো না। কারণ আমার সপ্ন ঐ মানুষটার সাথে সারাজীবন কাটানো। তাকে পেলেই যে আমার সুখ। আমি তো আর তোমাদের সপ্ন পূরণের জন্য পৃথিবীতে আসি নি।
যাই হোক। স্বার্থপরের মতো কথা বলছি, তাই না মা? আমাকে স্বার্থপর হতে হলো। তাই আমি চলে গেলাম। স্বার্থপর হতেও আমার দুঃখ হচ্ছে না। কারণ আমি জানি এই ছেলে আমাকে অনেক সুখে রাখবে। তোমরা যদি মনে করো আমি সুখ কখনোই পাবো না। তাহলে মনে রেখো, এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার।

ইতি
রাবেয়া

২.
মেয়ের কড়া কড়া কথায় লেখা চিঠি পড়ে রাবেয়ার মা স্তব্ধ। আস্তে আস্তে তিনি গেলেন তার স্বামীর কাছে। তার হাতে চিঠি। তিনি পড়ে শোনালেন। তার স্বামী জলীল সাহেব মনোযোগ দিয়ে শুনলেন সব। সেদিন সারারাত দু'জনই কাটালেন নিস্তবদ্ধ হয়ে।
এক সপ্তাহ রাবেয়ার মা' জলীল সাহেবকে কিছুই জিজ্ঞেস করেননি। তিনি ভেবেছেন, একমাত্র মেয়েকে ফিরিয়ে তিনি আনবেনই। কিন্তু জলীল সাহেবের কোন উদ্যোগ রাবেয়ার মা'র চোখে পড়েনি। তাই একসপ্তাহ পর তিনি বাধ্য হয়েই প্রশ্ন করলেন, কি, মেয়ের কোন খোজ তুমি নেবে না?
- না। জলীল সাহেবের উত্তর।
- কেনো? মেয়ে একটা ভুল করতে যাচ্ছে। কিংবা না হয় ভুল করলই বা। তুমি ওকে ফিরিয়ে আনো।
- ফিরিয়ে আনার কোন দরকার আমি দেখছি না।
- কিন্তু কেনো?
- কারন, কারন এটা ওর একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৫৯
১৫টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×