আমার প্রিয় পোস্ট

যার তামাশার ভেতরে লুকিয়ে থাকে আনন্দ বেদনার গল্প!

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১৪

শেয়ারঃ
0 0 0


১৮৮৯ সাল। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী টমাস এডিসান এক আজব বস্তু আবিষ্কার করলেন। যার নাম ক্যামেরা। পৃথিবী জুড়ে হৈ হৈ শুরু হলো। ঠিক তখন অস্ট্রিয়ার একটি পরিবারে জন্ম নেয় এক শিশু যে কিনা একদিন পৃথিবীর ইতিহাসে একজন ঘাতক হিসেবে নাম লেখায়। তিনি হচ্ছেন হিটলার। একই বছর আরেক শিশু জন্ম নেয়। যে কিনা পৃথিবীর মানুষকে হাসাতে হাসাতে লুটোপুটি খাইয়ে ইতিহাসে সেরা হাস্যকৌতুক অভিনেতা এবং নির্মাতা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেন। তিনি হচ্ছেন চার্লি চ্যাপলিন।
প্রকৃতি যেনো নিজের জন্যই এই কাকতালীয় ঘটনাটির সূত্রপাত ঘটিয়েছিল। যদি ক্যামেরা না হতো তাহলে তাহলে পৃথিবীর ইতিহাসে চলচ্চিত্র বলে কোনো কিছুর উদ্ভব হতো না এবং চ্যাপলিনও পৃথিবীর মানুষকে হাসাতে পারতেন না। আবার যদি হিটলার পৃথিবীতে না জন্মাতো তাহলে চ্যাপলিন হাসানোর মাধ্যমে তার প্রতিবাদ করতে পারতো না।
চার্লি চ্যাপলিনকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মতো কিছুই নেই। তিনি পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের মনে চিরকাল বেচে থাকবেন। তার আকষ্মিক আগমন পৃথিবীর মানুষকে থমকে দিয়েছিল। চ্যাপলিন মানেই ভাড়ামী, চ্যাপলীন মানেই সারাদিনের পরিশ্রম করা মানুষের মুখে একটু হাসি।
চ্যাপলিনের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে সারা বিশ্বে। সেটা তার জীবদ্দশায় হোক কিংবা মৃত্যুর পর বর্তমান যুগেও হোক। চ্যাপলিন একটি আমর নাম।
কিন্তু কি এমন আছে চ্যাপলিনের ছবিগুলোর মধ্যে! কেনো তা মানুষকে এতো মহগ্রস্থ করে তুলেছে?সেসময়কার দুঃখী মানুষগুলো যেনো আশ্রয় খোজা শুরু করলো চ্যাপলিনের কাছে....তাই কি এমন আছে তার ছবিগুলোতে!!
বিশ্বজয়ী এই অভিনেতা, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার দুনিয়ার মানুষকে হাসাতে হাসাতে চোখের জল পর্যন্ত বের করে এনেছেন।
আবার চার্লির অনেক শট দেখে দর্শক কেঁদে অস্থির হয়ে উঠেছে। এতো রঙ্গ তামাসা সত্তেও মানুষ কেনো বেদনায় ভাসে! যার ছবিতে কিছু শোনা যায় না; শুধু কিছু তামাশা দেখা যায় মাত্র। সেই তামাসার অতল গভীরে লুকিয়ে থাকে মানুষের জীবনের হাহাকার, মানুষের রূঢ় বাস্তবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ। মানুষের মনের গোপন সুর চার্লি ছবিতে যেনো বেজে উঠতো।
চার্লিকে একবার একজন প্রশ্ন করেছিলেন তার ছবির হাসি-কান্না দুটোরই সংমিশ্রণ থাকার কারণ।
চ্যাপলিন তখন বললেন, আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে রোজ দলে দলে ভেড়া নিয়ে যায় কসাই খানায়। একদিন কেমন করে একটা ভেড়া দলছুট হয়ে রাস্তায় গিয়ে পড়ে। এই না দেখে হৈ চৈ। লোকজন দাড়িয়ে গেছে মজা দেখতে। ভেড়ার মালিকেরা চেষ্টা করছে ভেড়াটাকে ধরতে। কিন্তু ভেড়া ধরা দেবে না কিছুতেই। ছুটোছুটি। এই সব কান্ডকারখানা দেখে আমার খুব হাসি পাচ্ছিল। অবশেষে ভেড়া ধরা পড়লো। পড়তেই হবে। ভেড়া তো ভেড়াই। মানুষের চালাকি কি তার বোঝার ক্ষমতা আছে!! বোকা ভেড়াটাকে কাঁধে নিয়ে একজন কসাইখানার দিকে চলল। ভেড়ার পরিণতি ভেবে হঠাৎ আমার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। তাইতো। একটু আগে যে ভেড়ার ছুটোছুটি দেখে আমি হাসছিলাম, তার পরিণতি এখনই মৃত্যু। আর থাকতে পারলাম না। ছুটে ভেতরে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লাম- মাগো, ওমা ওরা ভেড়াটাকে মেরে ফেলবে। একই সঙ্গে পাশাপাশি দুটি ছবি। হাসির এবং কান্নার। একটি মজার অন্যটি দুঃখের। এই ঘটনা আমি কোনোদিনই ভুলতে পারবো না। এটি আমার চিন্তার জগৎকে ধরে রেখেছে। জানিনা, এটাই আমার চিন্তার মূলমন্ত্র কিনা! আমার ছবিতে ঘরে ফিরে আসে এই অনুভবরে মিশ্রণ। একটি আনন্দের অন্যটি বেদনার।
তাই তো চার্লি চ্যাপলিন মানুষের অন্তরের এতো কাছের একজন মানুষ। চার্লিতো আনন্দ বেদনার আধার। চার্লি মানেই জীবনের রঙ্গশালায় আর এক অনিন্দ্য সুন্দর মহাকাব্য। যেই কাব্যে রচিত হয় সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার গল্প। আর তাই চার্লি চ্যাপলিন মানেই আমাদের জীবনের অনুভবের মিশ্রণ।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১৮
মিলটন বলেছেন: এখন আর প্রাণ খুলে হাসতে পারি না, একজন চ্যাপলিন আবারো প্রয়োজন।

সুন্দর লেখা হয়েছে। ধন্যবাদ শেরিফ।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৬

লেখক বলেছেন: ঠিক বলেছেন মিলটন ভাই। আমাদের একজন চার্লি চ্যাপলিন দরকার যে কিনা আমাদের হাসাবে আবার কাদাবে। আমাদের মনটাকে হালকা করে দেয়ার ক্ষমতা তার থাকবে। এমন একজন মানুষ বড্ড দরকার।

ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

২. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৮
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: ডিভিডি শোকেসে একটা তিন ডিভিডির কালেকশন পড়ে আছে, অনেক আগে কেউ উপহার হিসেবে দিয়েছিল। চার্লি চ্যাপলিনের সব মুভিই আছে। এখন মনে হচ্ছে বের করে দেখতে হবে সবগুলো। লোকটা আসলেই হাসির পাশে কান্নাগুলো, বাস্তবতাগুলো তুলে নিয়ে আসতেন!
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪৪

লেখক বলেছেন: থাকা সত্তেও শোকেসে দিয়েছেন!!! বড় আফসোস........
আমাকে দিয়ে দেন :)। প্রতিটি মুভিতে ম্যাসেজ আছে। সে সময়গুলো আপনার কাছে জীবন্ত হয়ে উঠবে। অমানবিকতা, ভবঘুরে চরিত্র সব কিছুই আমাদের মতো সাধারণ মানুষের গল্প।
স্যালুট জানাই চ্যাপলিনকে।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৩. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৫৪
মনির হাসান বলেছেন: ... জারন-বিজারন যুগপৎ ঘটনা।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:০১

লেখক বলেছেন: হুমম..

৪. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:০৭
নাজিম উদদীন বলেছেন: ক্যামেরা ১৮৮৯ নয়, আরও আগে আবিষ্কার হয়েছিল।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৫০

লেখক বলেছেন: তাই নাকি? আমার কাছে যেই তশ্য সূত্র আছে তাতো বলছে স্থির চিত্র ধারণ করার যন্ত্রটি আবিস্কার হয়েছে ১৮৮৯ সালে।
তারপরও ভুল হলে ক্ষমাপ্রার্থী।

৫. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১২
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: একসাথে সব দেখা হয়নি। আপনাকে দিতে পারবো না। এসব জিনিশ কালেকশনে রাখতে হয় বস্‌!
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৫১

লেখক বলেছেন: হা হা হা....ভয় পাইলেন? নিমু না......তবে কোনোদিন দাওয়াত দিয়েন। একসাথে বইসা দেখুম। :)

৬. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১৭
দিশাহারা ওমর সোলাইমান বলেছেন:
মিলটন বলেছেন: এখন আর প্রাণ খুলে হাসতে পারি না, একজন চ্যাপলিন আবারো প্রয়োজন।
------------------
আল্লাহর রহমতে আমরা পারি। সারওয়ার ভায়ের পর আপনার আগমন না হলে আমাদের ব্লগের সময় কি যে নিরানন্দে কাটতো.....
৭. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৫৮
কঁাকন বলেছেন: অনেক কিছু জানলাম
ভালো থাকুন
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৪৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ.......

৮. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৫৬
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: দারুণ পোস্ট। চার্লির মুভিগুলো দেখার সময় ওভাবে ভেবে দেখিনি বলেই হয়তো এতো ভালো লাগে নাই। আবার দেখতে হবে
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৫৩

লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ ভাঙ্গা পেন্সিল। কেমন আছেন আপনি?

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৫৯

লেখক বলেছেন: এতোটা হৃদয় ছোঁয়া লেখা হয়েছে!! বুঝতেই পারি নি।
অনেক ধন্যবাদ সুরভিছায়া।
ভালো থাকবেন।

১০. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৫৭
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: ভালোই আছি...একটূ পরে গরুর হাটে যাবো...তারপর কেমন থাকি কে জানে!!
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:০০

লেখক বলেছেন: হুমম....আমাদের গরু শনিবারই কিনে ফেলেছে। পিতার সাথে অভিমান করে এখনও গরুর কাছে যাইনি। আমাকে না নিয়ে তিনি এই প্রথম গরু কিনলেন। :(
তাই প্রতিবাদ...গরুর কাছে ধারে না গিয়ে। :)
হা হা হা.....

১১. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:০৩
সুরভিছায়া বলেছেন: কতটা প্রিয় লেখা লিখেছেন জানেন না ! একসময় ভেবেছি বড় হয়ে তারওপরে অনেক পড়ব ,এই ছোট্ট জীবনে কত সাধ অপূর্ন থেকে যায় ।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:১১

লেখক বলেছেন: হুমম....মানুষের জন্মইতো হয় অপূর্ণতা নিয়ে। এবং অপূর্ণতা নিয়েই মৃত্যু।
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

১২. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৫৮
মেহবুবা বলেছেন: আমার প্রিয় একজন ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এলেখার জন্য ধন্যবাদ ।
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:০২

লেখক বলেছেন: আমারও একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ত্ব।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

১৩. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০৪
নাজিম উদদীন বলেছেন: প্রথম কালার ফটো তোলা হয়েছিল ১৮৬১ সালে।

১৮২৬ সালে প্রথম স্হায়ী ফটো তোলা হয়েছিল। ১৮৫০ এর দিকে রীতিমত উচ্চবিত্তের লোকজনের হাতে চলে এসেছে।

http://en.wikipedia.org/wiki/Camera
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:০৭

লেখক বলেছেন: নাজিম ভাই, যদি তথ্যে কোনো ভুল থেকে থাকে তাহলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। কারণ, আমি আমার তথ্যসূত্র থেকে যা পেয়েছি সেটাই তুলে ধরেছি।

১৪. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১০
দুরের পাখি বলেছেন: চার্লির দ্য গ্রেট ডিক্টেটর ছবিটা অসাধারণ ।
১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:০৭

লেখক বলেছেন: জ্বি, চমৎকার ছবি।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৩৫৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
মানুষ। বড় আজব এই মানুষ। মানুষ নাকি ফানুষ তাও এখন আর বোঝার ক্ষমতা আমি রাখি না। সব ক্ষমতা হারিয়ে গেছে।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই