somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুটি দলের নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে কিছু কথা

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি দলের নির্বাচনী ইশতেহার আমি কিছুক্ষণ আগে পড়ে শেষ করলাম। দলদুটি হচ্ছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। তাদের পুরো ইশতেহার নিয়ে আমার একটি পর্যালোচনাভিত্তিক পোষ্ট দেয়ার ইচ্ছে আছে তবে এই মুহূর্তে আমি একটি বিষয় নিয়ে কিছু বলতে চাই। আর তা হচ্ছে,
বি.এন.পি তাদের ইশতেহারের শুরুতে বলেছে, সাংবিধানিক-গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং জনগণের ইচ্ছার সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী বিএনপির কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মাতৃভূমির স্বাধীনতা এক পবিত্র আমানত।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিএনপি যদি মুক্তিযুদ্ধকে এতই সম্মান জানায় তবে কেনো তারা জামায়াত ইসলামীকে তাদের সাথে জোটে রাখে।
এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করে বিএনপি কে বুঝতে হবে সেটা হলো, যদি তারা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে এবং জিয়াউর রহমান কে বলতে চায় স্বাধীনতার ঘোষক এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা তবে তাদের এটাও স্বীকার করতে হবে মুজাহীদ-নিজামী গোষ্ঠী হচ্ছে রাজাকার।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য তারা একদিকে জিয়াউর রহমানকে বলছে স্বাধীনতার ঘোষক আপরদিকে তাদেরই শরীকদল জামায়াত বলছে, এ দেশে কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি যা হয়েছে তা হচ্ছে গৃহযুদ্ধ। এমনকি সম্প্রতি জামায়াতের সুরে সুর মিলিয়ে বিএনপিও বলছে, ৭০ সালের নির্বাচন হচ্ছে একমুখী নির্বাচন।
যেই নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে উঠেছিল তখন, যেই নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্রের সৃষ্টি হলো। সেই নির্বাচনকে অশ্বিকার করা মানে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা। আর মুক্তিযুদ্ধকে অশ্বিকার করা মানে জিয়াউর রহমানকেই (বিএনপির মতে স্বাধীনতার ঘোষক) অশ্বীকার করা।
তাহলে তারা যেই আইডলকে অনুকরণ করতে চায় সেই জিয়াউর রহমানের মর্ম তারা নিজেরাই নষ্ট করে দিয়েছে।

অপরদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের ইশতেহারে দূর্নীতি প্রসঙ্গে বলেছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

তাহলে কথা হচ্ছে, তারা কেনো বিশিষ্ট দুর্নীতিবাজ এরশাদকে সাথে নিলেন। যেই সৈরশাসকের বিরুদ্ধে তারা একসময় রাস্তায় আন্দোলন করেছে সেই শাসককে কেনো তারা প্রশ্রয় দিলেন! যদি এরশাদকে মহাজোট থেকে বিতাড়িত না করা হয় তবে শহীদ নূর হোসেন দিবস যে পালন করে সকলে তাও পালন করা বন্ধ করে দিতে হবে। সেটা পালন করার কোনো প্রশ্ন আর আসতে পারে না।
ইশতেহারের অরেকটি উলঙ্গ বিষয় আছে। সেটা ৫.১ এ উল্লেখ আছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, রংপুরকে নতুন বিভাগ গঠন করা হবে।
স্পষ্ট বোঝা যায় মানুষকে মুলা দেখিয়ে কি করে ভোট নেয়া যায়। রংপুর এরশাদের ঘাটি বলা হয়। এরশাদ বিগত বছরগুলোতে কোনো উন্নয়ন কাজ রংপুরের জন্য করেছেন কিনা আমার জানা নাই। তবে এরশাদের হাতে মহাজোট একটি মুলা দিয়েছেন। যেই মুলা এরশাদ রংপুরে ঝুলিয়ে বলবেন, আমাকে তোমরা ভোট দাও তাহলে তোমরা আলাদা বিভাগ পাবে।

এমন অনেক হাস্যকর এবং হটকারী বিষয় দুটি দলের ইশতেহারেই আছে। তা নিয়ে অন্য কখনও আলোচনা করবো। এখন শুধু একটা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানালাম।
তবে আজ পড়ে খুব হতাশ হলাম। রাজনীতীতে যে গুণগত পরিবর্তনের কথা এতোদিন হয়ে আসছিল আলটিমেইটলী তা হচ্ছে না। ঘুরেফিরে রাজনীতি এবং গণতন্ত্র হচ্ছে ক্ষমতায়নের রাজনীতি।
দেশটার পরিবর্তন আদও হবে কিনা তাই নিয়ে সন্দেহ আছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×