নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি দলের নির্বাচনী ইশতেহার আমি কিছুক্ষণ আগে পড়ে শেষ করলাম। দলদুটি হচ্ছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। তাদের পুরো ইশতেহার নিয়ে আমার একটি পর্যালোচনাভিত্তিক পোষ্ট দেয়ার ইচ্ছে আছে তবে এই মুহূর্তে আমি একটি বিষয় নিয়ে কিছু বলতে চাই। আর তা হচ্ছে,
বি.এন.পি তাদের ইশতেহারের শুরুতে বলেছে, সাংবিধানিক-গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং জনগণের ইচ্ছার সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী বিএনপির কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মাতৃভূমির স্বাধীনতা এক পবিত্র আমানত।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিএনপি যদি মুক্তিযুদ্ধকে এতই সম্মান জানায় তবে কেনো তারা জামায়াত ইসলামীকে তাদের সাথে জোটে রাখে।
এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করে বিএনপি কে বুঝতে হবে সেটা হলো, যদি তারা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে এবং জিয়াউর রহমান কে বলতে চায় স্বাধীনতার ঘোষক এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা তবে তাদের এটাও স্বীকার করতে হবে মুজাহীদ-নিজামী গোষ্ঠী হচ্ছে রাজাকার।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য তারা একদিকে জিয়াউর রহমানকে বলছে স্বাধীনতার ঘোষক আপরদিকে তাদেরই শরীকদল জামায়াত বলছে, এ দেশে কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি যা হয়েছে তা হচ্ছে গৃহযুদ্ধ। এমনকি সম্প্রতি জামায়াতের সুরে সুর মিলিয়ে বিএনপিও বলছে, ৭০ সালের নির্বাচন হচ্ছে একমুখী নির্বাচন।
যেই নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে উঠেছিল তখন, যেই নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্রের সৃষ্টি হলো। সেই নির্বাচনকে অশ্বিকার করা মানে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা। আর মুক্তিযুদ্ধকে অশ্বিকার করা মানে জিয়াউর রহমানকেই (বিএনপির মতে স্বাধীনতার ঘোষক) অশ্বীকার করা।
তাহলে তারা যেই আইডলকে অনুকরণ করতে চায় সেই জিয়াউর রহমানের মর্ম তারা নিজেরাই নষ্ট করে দিয়েছে।
অপরদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের ইশতেহারে দূর্নীতি প্রসঙ্গে বলেছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
তাহলে কথা হচ্ছে, তারা কেনো বিশিষ্ট দুর্নীতিবাজ এরশাদকে সাথে নিলেন। যেই সৈরশাসকের বিরুদ্ধে তারা একসময় রাস্তায় আন্দোলন করেছে সেই শাসককে কেনো তারা প্রশ্রয় দিলেন! যদি এরশাদকে মহাজোট থেকে বিতাড়িত না করা হয় তবে শহীদ নূর হোসেন দিবস যে পালন করে সকলে তাও পালন করা বন্ধ করে দিতে হবে। সেটা পালন করার কোনো প্রশ্ন আর আসতে পারে না।
ইশতেহারের অরেকটি উলঙ্গ বিষয় আছে। সেটা ৫.১ এ উল্লেখ আছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, রংপুরকে নতুন বিভাগ গঠন করা হবে।
স্পষ্ট বোঝা যায় মানুষকে মুলা দেখিয়ে কি করে ভোট নেয়া যায়। রংপুর এরশাদের ঘাটি বলা হয়। এরশাদ বিগত বছরগুলোতে কোনো উন্নয়ন কাজ রংপুরের জন্য করেছেন কিনা আমার জানা নাই। তবে এরশাদের হাতে মহাজোট একটি মুলা দিয়েছেন। যেই মুলা এরশাদ রংপুরে ঝুলিয়ে বলবেন, আমাকে তোমরা ভোট দাও তাহলে তোমরা আলাদা বিভাগ পাবে।
এমন অনেক হাস্যকর এবং হটকারী বিষয় দুটি দলের ইশতেহারেই আছে। তা নিয়ে অন্য কখনও আলোচনা করবো। এখন শুধু একটা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানালাম।
তবে আজ পড়ে খুব হতাশ হলাম। রাজনীতীতে যে গুণগত পরিবর্তনের কথা এতোদিন হয়ে আসছিল আলটিমেইটলী তা হচ্ছে না। ঘুরেফিরে রাজনীতি এবং গণতন্ত্র হচ্ছে ক্ষমতায়নের রাজনীতি।
দেশটার পরিবর্তন আদও হবে কিনা তাই নিয়ে সন্দেহ আছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


