somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইউটিউবে বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাঙলার কথা উঠলেই বলা হয়, পলির দেশ বাঙলা। এই পলির দেশ কেন বলা হয়? আসলে, জল-বৃষ্টি-বন্যা আর জোয়ারের দেশ বলেই একে বলা হয় পলির দেশ। এই পলির দেশে যুগ যুগ ধরে ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসের অনেক বড় অংশই সৃষ্টি হয়েছে আমাদের এই বাঙলায়। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাঙালী চিরকাল বিদেশী ও বিজাতি দিয়ে শাসিত। সাত শতকের শশাঙ্ক নরেন্দ্রগুপ্ত এবং পনেরো শতকের যদু-জালালুদ্দিন ছাড়া বাঙলার কোন শাসকই বাঙালী ছিলেন না। এটি নিশ্চিই লজ্জার। তবে বিজাতি দিয়ে শাসিত হলেও বাংলায় তাদের সৃষ্টি-কৃষ্টি রয়ে গেছে। এখনও বাংলার আনাচে কানাচে স্ব-গৌরবে দাড়িয়ে রয়েছে তাদের সৃষ্টি।
বাংলাদেশের প্রত্ন-তত্ত্বের এই বিশাল ভান্ডার নিয়ে গবেষণারও কমতি নেই। সম্প্রতি ডিজিটাল যুগে বিশ্বের কাছে ইউটিউবের মাধ্যমে প্রত্ন-তত্ত্বকে তুলে ধরার প্রয়াস শুরে হয়েছে। তবে তা ব্যক্তিগত উদ্যোগে। এখন পর্যন্ত ২৮টি ভিডিও আপলোড করা হয়েছে ইউটিউবে। এই কাজটি করছেন একজন প্রকৌশলী। তিনি, প্রফেসার মোহাম্মদ আনোয়ার। তবে মজার বিষয় হলো, তিনি কোন পেশাদার ফটোগ্রাফার কিংবা ভিডিওচিত্র নির্মাতা নন। নিতান্ত শখের বসে তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে। আর খুজে ফিরছেন দেশের প্রাচীন ঐতিহ্য। তিনি ভিডিও এবং এডিটিং কাজটিও নিজে করেন। এর পেছনে দেন তথ্যমূলক বর্ণনা। সমস্ত ঘষা-মাজা শেষে তুলে দেন পৃথিবীর সবচাইতে বেশী ব্যবহৃত ভিডিও আর্কাইভ ইউটিউবে।
যেখানে আছে, বাংলাদেশের ২৮ টি স্থানের উপর নির্মিত ভিডিওচিত্র এবং ইতিহাসমূলক বর্ণনা। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, আহসান মঞ্জিল, বালিয়াটির জমিদার প্রাসাদ, চাপাই-নবাবগঞ্জের ছোট সোনা মসজিদ, পুরান ঢাকার হোসনে দালান, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ ইত্যাদি। এর সাথে আছে লালনের উপর একটি তথ্যচিত্র। কয়েকজন লালন সাধকের গানও তিনি তুলে এনেছেন তার ক্যামেরায়।
মোহাম্মদ আনোয়ারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, দেশের থেকে বাইরের দেশের মানুষরাই খুব বেশী আগ্রহ নিয়ে তার তথ্যমূলক ভিডিওচিত্র দেখছেন। একটি পরিসংখ্যান দেখিয়ে তিনি বলেন, ইসরাইল, চিলি, ব্রাজিল, সাইপ্রাস, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান থেকে তার ভিডিওচিত্র দেখছে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একজন ছাত্র বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের উপর গবেষনা করতে গিয়ে তাঁর ইউটিউবের ভিডিও থেকে সাহায্য নেয়। এবং তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। প্রাচীন ঐতিহ্যের কোন বিষয়ের উপর বাইরের দেশগুলোর আগ্রহ বেশী এই প্রসঙ্গে প্রফেসার আনোয়ার বলেন, বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত আহসান মঞ্জিলের উপর নির্মিত ভিডিওচিত্রের উপর সবচাইতে বেশী হিট পড়ে। এবং এর সংখ্যা পাকিস্তানে সবচাইতে বেশী। সেই সাথে আধ্যাতিক বাউল লালনের উপর নির্মিত ভিডিওটিরও প্রায় দুইহাজারের অধিক হিট পড়ছে বলেও তিনি জানান।
তাঁর ব্যক্তিগতভাবে কাজটি করার পেছনে তিনি জানান, শুরুটা শখের বশে হলেও এখন রিতিমত নেশায় পরিণত হয়েছে। আমরা যে দেশে বাস করি সে দেশটার সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য যে কতটা স্বয়ং সম্পূর্ণ তা আমি কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারি। আর তাই আমার কৌতুহলটাও ধীরে ধীরে বেড়ে যায়। আমি যখন প্রাচীন মসজিদগুলোর নকশার দিকে ভালো মতো লক্ষ্য করি তখন দেখি এগুলো হিন্দু কারিগর দিয়ে করানো। অথচ বর্তমানে কি আমরা কখনও কল্পনা করতে পারি, আমাদের মসজিদ তৈরী করবে একজন হিন্দু মানুষ? কিন্তু আদিকালে তা হয়েছে। এ সব বিষয়গুলো আমাকে ভাবায় এবং আগ্রহটাকেও আরো বাড়িয়ে দেয়।
এইসব বিষয়গুলো তিনি তাঁর ভিডিওচিত্রে তুলে না ধরলেও বলেছেন অবলীলায়। বর্তমানে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের প্রকৌশল বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রফেসার আনোয়ার। তিনি সকলের কাছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবার আমন্ত্রণ জানান। ব্যক্তিগত উদ্যোগ হলেও সরকারের উচিত নিজস্ব উদ্যোগে প্রত্ন-তত্ত্ব নিয়ে কাজ করা। প্রফেসার আনোয়ারের ভিডিওচিত্র দেখতে হলে আপনাকে এই http://www.youtube.com/user/iamanwer লিংকে ঢুকতে হবে।
শুরুতেই বলেছি, আমাদেশ ইতিহাস ঐতিহ্যে স্বয়ং-সম্পূর্ণ। এ দেশের মাটিতেই আমাদের শিকড়। মাটির প্রয়োজন মৃত্যুর পরও ফুরায় না। দেশের মাটির সন্ধান আর এর ইতিহাস ঐতিহ্য না জানলে আমাদের স্বত্তার পরিচয়টাও একদিন হারিয়ে যাবে।
----------------------------
লিংকটি আবারও দিয়ে দিলাম,
http://www.youtube.com/user/iamanwer


৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×