আমার প্রিয় পোস্ট

কেসলারের ল'অব কোয়েন্সিডেন্ট: বাংলাদেশের বর্তমান নারী এবং সামাজিক অবক্ষয়!

০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:০৭

শেয়ারঃ
0 3 0


কেসলারের ল’অব কোয়েন্সিডেন্ট বলে একটি কথা আছে। এই ল’ যা বলতে চায় তা হলো, পৃথিবীতে কোন একটি জায়গায় একই ঘটনা হঠাৎ করে বার বার ঘটতে থাকে। এই ল’কে অনেকে বলেন, দিস ইজ রেয়ার ল’ অব কোয়েন্সিডেন্ট। অর্থাৎ এই ল’ সচরাচর ঘটতে দেখা যায় না।

বাংলাদেশে বিগত কয়েকদিন যাবত যে এই ল’অব কোয়েন্সিডেন্ট ঘটছে; তা কি কেউ লক্ষ্য করেছেন? একই ঘটনা কিংবা বলতে পারেন একই বিষয়ভিত্তিক ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলেছে। কিছুদিন আগে গুলশানে এক দম্পতিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুই ঘাতক। বিষয় ছিল প্রেম! ২৪ মার্চ গুলশানের কালাচাঁদপুরের বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রধারী দুই তরুণ এই দম্পতিকে গুলি করে। নিহত সাদেকুর রহমানের স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এলাকার বখাটে ছেলে রুবেল। কিন্তু সে প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার অপরাধে নিহত হতে হলো সাদেকুর রহমানকে ও তার স্ত্রীকে।

আবার, চট্টগ্রামে একটি মেয়ে পাখি শিকারীদের পাখি শিকার করতে বারণ করায় নিজেই শিকার হয় গুলির। ঘাতকরা তাকে বলেই গুলিটা করে। তাকে বলা হয়, আয় তাইলে তোরেই শিকার করি। এখানে হয়তো বিষয় প্রেম নয়, তবে এখানে বিষয় হচ্ছে, নারীর উপর হামলা। প্রাণে মেয়েটি বেঁচে গেছে ঠিকই কিন্তু নষ্ট হয়েছে তার অমূল্য একটি চোখ।

থেমে থাকে ঘটনার চক্র। ২৬মার্চ রহস্যজনকভাবে বান্ধবীকে ধারালো চাপাটি দিয়ে আঘাত করলো আশরাফ নামে এক যুবক।। প্রেমিকা ইশিকার পিতার কাছে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হয় শুধুমাত্র অর্থের কারণে। তাই বান্ধবী এবং বান্ধবীর পরিবারকে জিম্মি করে ২০ লাখ টাকা দাবি করে ছেলেটি। তারপর পুরো পরিবারকে আকষ্মাত হামলা করে আশরাফ।

গতকাল ৬মার্চ ইলোরা নামে এক স্কুল ছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। কারণ হচ্ছে, উত্তক্ত করছে বখাটেদের দল।

সর্বশেষ আজকে পত্রিকায় দেখলাম, প্রেমে সাড়া না পেয়ে বখাটেদের দেওয়া আগুন নিয়ে পুকুরে ঝাপ দিয়েও বাচতে পারলো না স্কুল ছাত্রী পিংকি।

এধরনের ঘটনা অনেক আছে। হচ্ছে। যেগুলো মিডিয়া কাভারেজ পাচ্ছে সেগুলো হয়তো আমাদের চোখে আসছে। কিন্তু অন্ধকারে ঘটছে আরও ঘটনা। নারীরা চাঁদে পর্যন্ত চলে গেছে। তাঁরা প্রমাণ করতে পেরেছে তারা পুরুষের সমকক্ষ। কিন্তু তারপরও কোথায় যেনো তারা পিছিয়ে রয়েছে। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি ৫১ মিনিটে একটি করে মেয়ে ছেলেদের দ্বারা উত্তক্ততার শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে ৩২ ভাগ নারী হচ্ছে স্কুল পড়ুয়া। এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যাবে বাংলাদেশের অবস্থা কি করুণ পরিণতিতে পৌছাচ্ছে।

পুরুষরাও যে নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছে না তাও কিন্তু নয়। যেমন, ১ এপ্রিল দৈনিক সমকালে দেখলাম, সিলেটে এক স্ত্রীর ত্রিভুজ প্রেমের বলি হলেন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ইমতিয়াজ হোসেন মন্টু নামে এক ব্যক্তি। স্ত্রীর পরকীয়ায় বাধা হওয়ার কারণে পরিকল্পনা করে তাকে হত্যা করা হলো।

এছাড়াও ২৬মার্চ আশরাফের ঘটনাটির দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সামাজিকভাবে ইশিকার পরিবারের তুলনায় আশরাফ অনেক গরীব। এমনকি জমি-জমা বিক্রি করে আশরাফকে লন্ডনেও পাঠায় তার গরীব পিতা। কিন্তু ইশিকার ভালোবাসার টানে সে ফেরত আসে। অবশেষে ভাগ্যের কাছে তার এই পরিণতি।

ঘটনার গভীরতায় যাই থাকুক না কেন! আসল কথা হচ্ছে ধীরে ধীরে মানুষের মনুষত্ববোধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একবাক্যে বলতে গেলে মানুষগুলো সব জানোয়ার হয়ে যাচ্ছে। যত আইন পরিবর্তন কিংবা যত অধিকার আন্দোলন করি না কেন তাতে কোন লাভ নেই। জানোয়ারদের জন্য আইন বা আন্দোলন করে খুব একটা সুবিধা করতে যাবে না।
ইভটিজিং ছাড়াও এই দেশে যে হারে পরকিয়া প্রেম বেড়েই চলেছে তাতে তো সামাজিক অবক্ষয়ও সর্বনিম্নে পৌছে গেছে। কতগুলো পরিবার এই পরকীয়া প্রেমের শিকার হচ্ছে তা পরিসংখ্যান দেখলে হয়তো রীতিমত ভড়কে যেতে হবে।

একদম যদি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলতে যাই তাহলে ব্লগে না আলোচনা করাটাও আমার পারিবারিক বাধা। আমার মতো আরও কত পরিবার আছে যারা মান-সম্মানের ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখে। ভেতরে আগুন জলে কিন্তু মুখে মিষ্টি হাসি। সে আগুনের ধোয়াও কেউ অনুভব করতে পারে না। পরিবারের একটাই কথা, সাংবাদিক আসবে...নানান ধরনের প্রশ্ন করবে....আদালতে যেতে হবে.....উকিলের বিছরি বিছরি প্রশ্নের জবাব দিতে হবে..... অন্যকে উলঙ্গ করতে গিয়ে নিজের ব্যক্তিত্বকেও উলঙ্গ করতে হবে.... এই চাপে সহ্য করতে হবে.... পাল্টা মিথ্যা অভিযোগের জবাব দিতে হবে..... এতো সব আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের দারা হবে না।

আমার পরিবারের মতো এই মতামত হয়তো বাংলাদেশের হাজার পরিবারের। কত মা, কত বাবা, কত ভাই দেখছে একটি মেয়ের স্বপ্ন ধ্বংসের করুণ চিত্র তা হয়তো রয়ে যাবে সব সময় অন্ধকারে।
তাই সুপ্রিয় ব্লগারবন্ধুদের বলতে চাই, এক কালো ব্যাধি আকড়ে ধরছে আমাদের সমাজকে। প্রতিদিনের চিত্র বলছে সে কথা। সন্ত্রাস কিংবা চাঁদাবাজ কিংবা ছাত্রলীগ তান্ডব কিংবা রাজাকার ইস্যূ সব কিছুর উর্ধে এই সমাজ। সমাজের ভেতরে কুরে কুরে নোংরা কীট খেয়ে ফেলছে অনেকগুলো পরিবারকে। রক্ষা করতে হবে......না হলে, সেই কেসলারের ল’অব কোয়েন্সিডেন্ট ঘটতেই থাকবে। রেয়ার কেস স্ট্যাডিতে থেকে যাবে বাংলাদেশের নাম।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): নারী ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:২১
লেখাজোকা শামীম বলেছেন: খুবই সত্যি কথা। কিন্তু এই সব ঠেকানোর কোন উপায় কি আছে ?
০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:২৬

লেখক বলেছেন: একদমই নাই মনে হয়। কারণ ঐ যে সমাজ!!! এই সমাজের কাছেই আমরা বন্দি।

২. ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:২৮
ধ্রুব বলেছেন:
যাই বলেন, সুবিধায় আছে মেয়েরাই এখন। নিজেরাই আসবে, দুদিন পরে সাঁশালো একটা শিকার দেখে চলে যাবে।

কিছু বলতে গেলেই পুরুষতান্ত্রীকতা, নারী অধিকার, নারীও শিশু নির্যাতন আইন, মনুষত্ব ইত্যাদি ইত্যাদি।

নাহ, টিজার আর ঐ অমানুষ ছেলেগুলোকে সাপোর্ট দিচ্ছি না, তবে নারী নির্যাতন আইনের কু ব্যভারের বলির পাঁঠা হিসাবে পুরুষের সংখাও বাড়ছে ক্রমেই।
০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৫৩

লেখক বলেছেন: আমি কিন্তু দুপক্ষের কথাই বলতে চেয়েছি। তাই আশরাফ এবং সিলেটের ব্যবসায়ীর কথা উল্লেখ করেছে। কীট আছে। সেটা নারী পুরুষ উভয় জগতেই।

৩. ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৩৩
নোয়াখাইল্লা দরবেশ বলেছেন: আন্নেরে আল্লায় ভালা দেক।
টিজার বেজন্মা কুত্তাগুলারে যদি ধরি আনি গোঁয়া মাইত্তে হাইত্তাম?
০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:০৭

লেখক বলেছেন: :-)

৪. ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:১১
জাতি জানতে চায় বলেছেন: পোলা কি মাইয়া, সুযোগ পেলে কেউ কারো থেকে কম যায় না! এটাই আমাদের সামাজিক চরিত্র!
০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:২৭

লেখক বলেছেন: কথা ঠিকই কইছেন।
পোলা-মাইয়ারা চান্স পাইলে কেউই লুল ফালাইতে দেরী করে না।

৫. ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:১৩
কিমা বলেছেন:
অসম্ভব ভালো লিখেছেন। এক কথায় অনবদ্য। বহুদিন পরে একটা ভালো লেখা পড়লাম। শামসুর রাহমান/হুমায়ূন আজাদ পরবর্তী যুগে এধরনের লেখা আর আগে আসে নি। অনবদ্য... অসাধারণ... পড়তে পড়তে চোখে পানি এসে গেল। শুধু যে প্রাসঙ্গিক-সময়উপযোগী ও কালোত্তীর্ণ লেখা তাই নয় একেবারে সমস্যার মূলে ছুরিকাঘাত/বেত্রাঘাত/চপেটাঘাত ঠিকমতৈ দিয়াছেন.. লেখকের বক্তবের সাথে পুরোপুরি একমত। লেখাটিকে স্টিকি করা হোক....
০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:১৫

লেখক বলেছেন: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
তবে "শামসুর রাহমান/হুমায়ূন আজাদ পরবর্তী যুগে এধরনের লেখা আর আগে আসে নি। " এই কথাটা ঠিক না। অনেক ভালো লেখা আসে। আর এটা তো কোন বিশ্লেষণধর্মী লেখা না। এটা নিতান্তই আমার মনের কিছু বিচ্ছিন্ন কথা।

ভালো থাকবেন।

৬. ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:১৭
আইরিন সুলতানা বলেছেন: সততা কমে যাচ্ছে, মানুষ প্রতিযোগী হয়ে উঠছে সহমর্মী হওয়ার বদলে

গত ২-৩ সপ্তাহের এই খবরগুলো কিন্তু আসলেই লক্ষ্যনীয় ছিল।
একটা বিষয় অবাক করে, এধরনের হত্যাকাণ্ডগুলোর অনেকেই কিন্তু পেশাদার খুনী নয়, মানুষ খারাপ হতে পারে, চারিত্রিক সমস্যাও থাকতে পারে, কিন্তু "হত্যা" করার মত পৈচাশিকতায় মানুষ এতো দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে ! এরমানে আমাদের অধঃপতনের কোনদিন আর বুঝি বাকি নেই !

০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:৩৬

লেখক বলেছেন: গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে পত্রিকা খুললেই এই অবস্থা দেখছি। দেখতে দেখতে ঘাবড়েও যাচ্ছি। আজব সব ঘটনা ঘটে চলছে। এই যে আজকের খবরটাই দেখেন, বাচ্চা একটা মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে!
কি হলো আমার দেশের?

৭. ১৫ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:৫৯
সোমহেপি বলেছেন: চিন্তা মিলে যায় কেমতে?
২৪ শে জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫১

লেখক বলেছেন: আসলেই তো?

৮. ১৩ ই জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৮
জেরী বলেছেন: মানুষের ভিতর মনুষ্যত্ববোধের তীব্র অভাব.....।

(অফটপিক:অনেকদিন হয় নতুন কোন পোস্ট লিখছেন না যে?)
২৪ শে জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫২

লেখক বলেছেন: এই লিংকে ঘুরে আসেন।
http://www.samowiki.com/

১০. ২০ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১:০২
বৈকুন্ঠ বলেছেন: জানোয়ার কওয়াডাকি ঠিক? জানোয়াররা ইশ্কুলেও যায় না আবার ইশকুলের সামনে মেয়ে জানোয়ার দেখনের লাইগা খারায়াও থাকেনা। আবার দেখেন মেয়ে জানোয়ার কিন্তু বাইছা বাইছা ধনি জানোয়ারের প্রেমে পরে না। কেমনে পরবো? জানোয়ারগো জগতেতো ধন সম্পদ বলতে কিসু নাই। এরচে' বলেন সৃষ্টির নিকৃষ্ট জীব মানুষ। কোন মানুষের ভিতরে যে কোন বা কতগুলি জানোয়ার লুকায়া রৈছে সেইটা বোঝা মুশকিল। তবে হায়েনা, বিষধর সাপ, শকুন এইসবের সংখ্যাই বেশি। কিন্তুক আমার ভিত্রে একটা শিংঘ আসে

 

মোট সময় লেগেছে ১.০০২২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
মানুষ। বড় আজব এই মানুষ। মানুষ নাকি ফানুষ তাও এখন আর বোঝার ক্ষমতা আমি রাখি না। সব ক্ষমতা হারিয়ে গেছে।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই