somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইন্টারভিউ ঃ এরকম মহৎ কাজ আগে কখনও করিনি।

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পদের নামঃ স্বাস্থ্য কর্মী, সুপারভাইজার, থানা সমন্বয়কারী
বেতনঃ ৯০০০ টাকা, ১২০০০ টাকা, ১৫০০০ টাকা
--------------------------------------------------------------------------
(১)
আমিঃ আপনার নাম ?
প্রার্থী ঃ লায়লা আক্তার

আমিঃ পড়াশুনা কতদুর করেছেন ?
প্রার্থী ঃ স্যার আমি ডিগ্রী থার্ড ইয়ার

আমিঃ আগের কোন অভিজ্ঞতা আছে ?
আছে স্যার, ওয়ার্ল্ড ভিশনের একটা প্রজক্টে মাঠ কর্মী হিসাবে কাজ করেছি ৯ মাস।

আমিঃ চাকরীটা কি দরকার না শখ ? চাকরি হলে ত পড়াশুনা করতে পারবেন না? সেক্ষেত্রে চাকরী হলে কি করবেন ?
প্রার্থী ঃ স্যার চাকরী হলে পড়াশুনা ছেড়ে দেব। আর চাকরিটা খুব দরকার স্যার।

আমিঃ আপনি কি বিবাহিত ? আপনার বাসায় কে কে আছেন ?
প্রার্থী ঃ না স্যার অবিবাহিত। আমরা ৬ ভাইবোন, আমি সবার বড়। বাবা ভ্যান চালক। আমার পরের বোনটা ইন্টার পাশ করেছে এই বছর। তার পরের ভাইটা ইন্টারমেডিয়েট ফার্স্ট ইয়ার। তারপরের তিনজন স্কুলে পড়ে।

আমিঃ বলেন কি ! আপনার বাবা ভ্যান চালিয়ে আপনাদের সবাইকে কিভাবে পড়াশুনা করাচ্ছে !!?
প্রার্থী ঃ স্যার বাবা তো আর খরচ দিতে পারেনা, আমরা ভাইবোনেরা পড়াশুনার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করি। সেলাই এর কাজ, অন্যের বাচ্চা দের পড়াই, বাজারে শাক সব্জী বিক্রি করি গ্রামে, আরও বিভিন্ন প্রকার কাজ। কষ্ট হয় অনেক, তারপরেও আমরা সবাই পড়াশুনা করে মানুষ হতে চাই। সবাই ভালো ভালো চাকরি বাকরি করব। বাবা আর আগের মত নাই, অসুস্থ থাকে অনেক। এজন্যই চাকরি দরকার। আমার যদি এই চাকরিটা হয় তাহলে ছোট ভাই বোনগুলোর পড়াশুনা করাতে পারব। (মাথা নীচু করে এভাবেই বলে গেল লায়লা, মাথা ওঠাতেই ছল ছল একজোড়া দূঃখী চোখ অনেক কষ্ট করে পানি আটকে রাখছে)

আমিঃ ঠিক আছে যান, সোমবার এসে অফিসের বাইরে নোটিশ বোর্ড থেকে রেজাল্ট জেনে যাবেন।

(২)
আমিঃ কি নাম ? আপনার তো অনেক বয়স , এই পদে কেন আবেদন করেছেন ? আর আপনার বাড়িতো অনেক দূর, এখানে চাকরী হলে করতে পারবেন ?
প্রার্থী ঃ স্যার যত কষ্টের কাজ হোক আমি পারব। এখন যেখানে কাজ করি সেখানে তো অনেক পরিশ্রম, কিন্তু আমার সমস্যা হচ্ছে না। আর দূর হলেও সমস্যা নাই, আমি পারব।

আমিঃ আপনার পরিবারে কে কে আছেন ? আপনার স্বামী কি করেন ?
প্রার্থী ঃ আমার এক ছেলে আর এক মেয়ে। আমার স্বামী মারা গেছে ৭ বছর হল। আমি একাই দু সন্তান কে নিয়ে থাকি।

আমিঃ আপনার সন্তান দের বয়স কত ? কি করে ? এখন যেখানে কাজ করেন সেখানে বেতন কত ?
প্রার্থী ঃ ছেলেটা ক্লাস সেভেন এ পড়ে খুলনা জিলা স্কুলে আর মেয়েটা করোনেশন স্কুলে ক্লাস ফোর এ পড়ে। যেখানে কাজ করি বেতন ৭ হাজার টাকা। এখানে ৯০০০ দেখে আবেদন করেছি।

ঠিক আছে আপনি আসুন। সোমবার এসে অফিসের বাইরে নোটিশ বোর্ড থেকে রেজাল্ট জেনে যাবেন।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
উপরের ঘটনা দুটি কোন বানোয়াট গল্প নয়। গত দুই দিন ধরে একটি এনজিওর ইন্টারভিঊ বোর্ডে থেক ৭৮ জনের নিয়োগ দিতে হল। ৩০০ আবেদনকারীর ভেতর থেকে ৭৮ জন কে বেছে দিলাম। কিছু কিছু আবেদন কারীর বিস্তারিত শুনলে চোখের পানি ধরে রাখা কঠিন, কেউ আছে দক্ষিঞ্ছলের আইলা আক্রান্ত এলাকা থেকে এসেছে-যাদের পরিবার এখনও ওয়াপদা'র বেড়ি বাধের উপরে পলিথিন টাঙ্গিয়ে থাকে। উপরের দুজন সহ অন্য যাদের কে সিলেক্ট করলাম তারা প্রায় সবাই দরিদ্র পরবিবার থেকে আসা সংগ্রামী মানুষ যারা শত প্রতিবন্ধকাতা স্বত্তেয় ছেড়ে দেয়নি পড়াশুনা, যারা কঠিন বাস্তবতা কে চ্যালেঞ্জ করেছে দৃঢ় ভাবে, অভাবের সাথে পাঞ্জা লড়ে এগিয়ে যাচ্ছে সামনে বীরের বেশে। এই মানুষগুলো কে চাকরী নিশ্চিত করে যে আনন্দ পেলাম তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। মনে হল যেন এক মহতী কর্ম সাধন করলাম। কদিন ধরে মনটা খারাপ ছিল, কিন্তু এখন বেশ ভাল বোধ করছি। গতকাল কনকনে ঠান্ডায়ও সারারাত জেগে অফিসের অন্ধকার ছাদের অজস্র তারা ভরা আকশের নীচে বসে ভাবতে থাকলাম দুদিনের ইণ্টারভিউ এর কথা, এক পবিত্রতায় ভরে গেল মন এই সব দরিদ্র খেটে খাওয়া হাল না ছাড়া মানুষগুলোকে সাহায্য করতে পেরে। মনের গভীর থেকে সৃস্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানালাম আমাকে এই সূযোগ দেবার জন্য আর বহু মানুষের থেকে আমাকে ভাল অবস্থানে এবং সুস্থ ভাবে রাখার জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৪৪
১৪টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×