কালের কণ্ঠের সাপ্তাহিক প্রকাশনা শিলালিপির ২০ তম সংখ্যায় হুমায়ূন আহমেদের ধারাবাহিক আত্মকথন ফাউনটেনপেন এর ১৩ পর্বের শিরোনাম ছিল "স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্ন"। তিনি সেখানে স্বপ্নের ব্যাখ্যা সম্পর্কে লিখেছেন, 'বই পড়ে জানলাম, মানুষ সবচেয়ে বেশি যে দুঃস্বপ্ন দেখে তা হচ্ছে উঁচু জায়গা থেকে পতন। এই পতনের শেষ নেই। একসময় সে আতঙ্কে জেগে ওঠে।
এই বিশেষ দুঃস্বপ্ন আমি যৌবনকালে দেখতাম। এখন আর দেখি না। বইয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে_এই দুঃস্বপ্ন অসহায়ত্বের প্রতীক। কেউ যদি অসহায় বোধ করে তখনই এই দুঃস্বপ্ন দেখে। হয়তো যৌবনে আমি অসহায় বোধ করতাম।
দ্বিতীয় দুঃস্বপ্ন যা মানুষ প্রায়ই দেখে, তা হচ্ছে জনসমাবেশে নিজেকে নগ্ন অবস্থায় আবিষ্কার করা। নিজের সম্মান নিয়ে যারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, তারাই নাকি এই দুঃস্বপ্ন দেখেন। আমি নিজে কয়েকবার নগ্ন অবস্থায় নিজেকে বিশিষ্টজনদের সঙ্গে দেখেছি। স্বপ্নে পুরো ব্যাপারটা স্বাভাবিক মনে হয়েছে।'
আমিও একটা দুঃস্বপ্ন দেখছি। কিন্তু এর কোন ব্যাখ্যা পাচ্ছি না। বিষয়টা হচ্ছে, তিন-চারদিন আগে একরাতে দেখলাম- বাসে চড়ে কোথাও যাচ্ছি। বাস থেকে নেমে দেখি পকেটে আসল জিনিসটাই নাই। মানে মোবাইল ফোনটাই লাপাত্তা। মনের দুঃখে ঘুমটাই ভেঙ্গে গেল।
গত রাতে আবার দেখলাম। তবে এবার ঘটনা ঘটেছে অন্যখানে। এক বিয়ে বাড়িতে। বন্ধুরা মিলে আনন্দ করছি। দুনিয়ার আর কোন খবর নাই। হঠাৎ খেয়াল করলাম- এবার পকেট থেকে মোবাইল এবং মানিব্যাগ দুইটাই হাওয়া। এক বন্ধুর মোবাইল থেকে আমার মোবাইল নম্বরে ফোন দিলাম। মধ্যবয়সী এক ভদ্রমহিলার কোমর থেকে তার কান্নার আওয়াজ পেলাম। যাক মোবাইল তো পাওয়া গেল, কিন্তু মানিব্যাগের কি হবে? না তার সমাধান পাওয়ার আগেই ঘুমটা ছুটে গেল। রাত তখন ৩টা। কি আর করা বিছানা থেকে নামলাম। বাথরুম থেকে এসে এক গ্লাস পানি খেয়ে (পান করে) আবার ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।
সকাল থেকেই ভাবছি, আচ্ছা আমি একই স্বপ্ন বারবার কেন দেখছি?
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০১০ বিকাল ৫:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


