(ভয়ঙ্কর ছবি আছে তাই, দুর্বলচিত্তের অধিকারী এবং শিশুরা প্রবেশ করবেন না) পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্তু লারমাদের সন্ত্রাসী এবং হিংস্রতার চরম দৃষ্টান্তের নজির আছে অসংখ্য। কিন্তু তাদের বর্বরতার চিত্র আমাদের মিডিয়াতে স্থান পায় না। কারণ তারা আমাদের মিডিয়ার কাছে অসহায় অবলা জীব হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু মিডিয়াতে তাদের পরিচয় যাইহোক সত্য কখনো চাপা থাকে না।পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত বাঙালিরা মিডিয়াক্যুর শিকার হয়ে ইতোমধ্যে অত্যাচারী, পাহাড়ী মেয়েদের ধর্ষণকারী, পাহাড়ীদের জমি, ধন-সম্পদ লুণ্ঠনকারী হিসেবে সুপরিচিত, অন্যদিকে সন্ত্রাসী জেএসএস ক্যাডাররাই অসহায়, নিরীহ এবং নির্যাতিত হিসেবে অখ্যায়িত। তাই দেশের তথাকথিত সুশীল সমাজ পার্বত্য বাঙালিদের কথা বিশ্বাস করে না। তারা কোনদিন পার্বত্য বাঙালিদের দুঃখগাথা ও বঞ্চনার কাহিনীও জানার প্রয়োজন মনে করে না। যেকারণে কল্পনা চাকমা অপহরণের ঘটনা দেশের সুশীল সমাজকে আবেগতাড়িত এবং প্রতিবাদী করলেও একমাত্র বাঙালি হওয়ার অপরাধে পাকুয়াখালীতে ৩৫ কাঠুরিয়া হত্যা এবং পাকুয়াখালীর মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে আসা ইউনুছ মিয়া-দের কথা তাদের মনে কোন রেখাপাত করে না। আর পার্বত্যবাঙালিদের হাতে যেহেতু অবৈধ অস্ত্র এবং চাঁদাবাজির অঢেল অর্থ নেই, তাই তারা যেমন রাজধানীতে এসে এর প্রতিবাদ করতে পারে না। তেমনি পাহাড়েও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে না পেরে একমাত্র সৃষ্টিকর্তার পানে চেয়ে অপেক্ষার প্রহরগুণে। কিন্তু পাহাড়ে সন্ত্রাসীরা শুধু যে বাঙালিদের উপরই অত্যাচার করে তা কিন্তু নয়। তারা ভিন্নমতপোষণকারী চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, পাঙ্খো, মুরং কাউকেই বাদ দেয় না। এ কারণেই এমএন লারমার সংগঠন জেএসএস আজ তিন খন্ডে বিভক্ত। আর এই প্রত্যকখন্ডই একে অপরের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত। তাদের পরস্পর বিরোধী এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে অসংখ্য পাহাড়ী মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। এখনো দিতে হচ্ছে। কিনা মোহন চাকমাও এমনই একজন পাহাড়ী মানুষ।
কিনা মোহন চাকমাকে হত্যার পর তার লাশকে এভাবেই বিকৃত করে সন্তু লারমার ক্যাডাররা
২০০৬ সালে ১ ডিসেম্বর যাকে জেএসএস-এর হাতে নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়েছিল রাঙ্গামাটির জুড়াছড়িতে। সেদিন সন্তু লারমার তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সত্যবীর দেওয়ান-এর আদেশে হিংস্রতার চরম দৃষ্টান্ত রেখে কিনা মোহন চাকমাকে হত্যা করেছিল জেএসএস-এর কয়েকজন সশস্ত্র কর্মী। কিনা মোহন চাকমার অপরাধ ছিল একটাই, তিনি বিশ্বাস করতেন পাহাড়ে বাঙালিদের বাদ দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই তিনি পাহাড়ী-বাঙালি সকলের সমঅধিকারে বিশ্বাসী সচেতন নাগরিক কমিটি গঠন করে শুরু করেছিলেন ভিন্নধারার আন্দোলন। তার সেই আন্দোলন রাঙ্গামাটির জুড়াছড়িসহ আশপাশের অঞ্চলে বেশ সাড়া জাগিয়ে ছিল। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি পাহাড়ী-বাঙালি নির্বিশেষে সকলের কাছে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিণত হয়ে ওঠেন। যার ফলে এক সময় তিনি জনগণের ভোটে জেলা পরিষদ সদস্যও নির্বাচিত হন। পাহাড়ী-বাঙালি সকলের প্রতি তার অহিংস মনোভাবের কারণে জুড়াছড়িতে জেএসএস-এর চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা স্তিমিত হয়ে পড়ে। কোণঠাসা হয়ে পড়ে জেএসএস-এর নেতৃবৃন্দ। ফলে জেএসএস-এর পক্ষ থেকে অনেকবার তাকে সতর্ক এবং প্রলোভন দেখিয়ে নিবৃত করার চেষ্টা চলে। কিন্তু ১৯৮৫ সালে শান্তিবাহিনী থেকে ফিরে আসা সাবেক গেরিলা কমান্ডার কিনা মোহন চাকমা শান্তিবাহিনীর হিংস্রতা এবং সব ধরণের অপতৎপরতা সম্পর্কেই জানতেন বলে পুনরায় আর সেই পঙ্কিলময় অন্ধকার জগতে ফিরে যেতে রাজি হননি। বরং সেই পঙ্কিলতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে জনগণের প্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। আর এটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনি ফ্যাসীবাদি জেএসএস নেতৃবৃন্দ। তাই কিনা মোহন চাকমাকে হত্যা করে, তার লাশকে বিকৃত করে হিংস্রতার জঘণ্যতম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জেএসএস তথা সন্ত্র লারমার ক্যাডাররা।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



