somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিনা মোহন চাকমা হত্যা এবং সন্তু লারমাদের বর্বরতা

০১ লা ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ ডিসেম্বর ২০০৬ তারিখে মৃত্যুর আগে কিনা মোহন চাকমা
(ভয়ঙ্কর ছবি আছে তাই, দুর্বলচিত্তের অধিকারী এবং শিশুরা প্রবেশ করবেন না) পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্তু লারমাদের সন্ত্রাসী এবং হিংস্রতার চরম দৃষ্টান্তের নজির আছে অসংখ্য। কিন্তু তাদের বর্বরতার চিত্র আমাদের মিডিয়াতে স্থান পায় না। কারণ তারা আমাদের মিডিয়ার কাছে অসহায় অবলা জীব হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু মিডিয়াতে তাদের পরিচয় যাইহোক সত্য কখনো চাপা থাকে না।পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত বাঙালিরা মিডিয়াক্যুর শিকার হয়ে ইতোমধ্যে অত্যাচারী, পাহাড়ী মেয়েদের ধর্ষণকারী, পাহাড়ীদের জমি, ধন-সম্পদ লুণ্ঠনকারী হিসেবে সুপরিচিত, অন্যদিকে সন্ত্রাসী জেএসএস ক্যাডাররাই অসহায়, নিরীহ এবং নির্যাতিত হিসেবে অখ্যায়িত। তাই দেশের তথাকথিত সুশীল সমাজ পার্বত্য বাঙালিদের কথা বিশ্বাস করে না। তারা কোনদিন পার্বত্য বাঙালিদের দুঃখগাথা ও বঞ্চনার কাহিনীও জানার প্রয়োজন মনে করে না। যেকারণে কল্পনা চাকমা অপহরণের ঘটনা দেশের সুশীল সমাজকে আবেগতাড়িত এবং প্রতিবাদী করলেও একমাত্র বাঙালি হওয়ার অপরাধে পাকুয়াখালীতে ৩৫ কাঠুরিয়া হত্যা এবং পাকুয়াখালীর মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে আসা ইউনুছ মিয়া-দের কথা তাদের মনে কোন রেখাপাত করে না। আর পার্বত্যবাঙালিদের হাতে যেহেতু অবৈধ অস্ত্র এবং চাঁদাবাজির অঢেল অর্থ নেই, তাই তারা যেমন রাজধানীতে এসে এর প্রতিবাদ করতে পারে না। তেমনি পাহাড়েও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে না পেরে একমাত্র সৃষ্টিকর্তার পানে চেয়ে অপেক্ষার প্রহরগুণে। কিন্তু পাহাড়ে সন্ত্রাসীরা শুধু যে বাঙালিদের উপরই অত্যাচার করে তা কিন্তু নয়। তারা ভিন্নমতপোষণকারী চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, পাঙ্খো, মুরং কাউকেই বাদ দেয় না। এ কারণেই এমএন লারমার সংগঠন জেএসএস আজ তিন খন্ডে বিভক্ত। আর এই প্রত্যকখন্ডই একে অপরের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত। তাদের পরস্পর বিরোধী এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে অসংখ্য পাহাড়ী মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। এখনো দিতে হচ্ছে। কিনা মোহন চাকমাও এমনই একজন পাহাড়ী মানুষ।

কিনা মোহন চাকমাকে হত্যার পর তার লাশকে এভাবেই বিকৃত করে সন্তু লারমার ক্যাডাররা

২০০৬ সালে ১ ডিসেম্বর যাকে জেএসএস-এর হাতে নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়েছিল রাঙ্গামাটির জুড়াছড়িতে। সেদিন সন্তু লারমার তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সত্যবীর দেওয়ান-এর আদেশে হিংস্রতার চরম দৃষ্টান্ত রেখে কিনা মোহন চাকমাকে হত্যা করেছিল জেএসএস-এর কয়েকজন সশস্ত্র কর্মী। কিনা মোহন চাকমার অপরাধ ছিল একটাই, তিনি বিশ্বাস করতেন পাহাড়ে বাঙালিদের বাদ দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই তিনি পাহাড়ী-বাঙালি সকলের সমঅধিকারে বিশ্বাসী সচেতন নাগরিক কমিটি গঠন করে শুরু করেছিলেন ভিন্নধারার আন্দোলন। তার সেই আন্দোলন রাঙ্গামাটির জুড়াছড়িসহ আশপাশের অঞ্চলে বেশ সাড়া জাগিয়ে ছিল। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি পাহাড়ী-বাঙালি নির্বিশেষে সকলের কাছে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিণত হয়ে ওঠেন। যার ফলে এক সময় তিনি জনগণের ভোটে জেলা পরিষদ সদস্যও নির্বাচিত হন। পাহাড়ী-বাঙালি সকলের প্রতি তার অহিংস মনোভাবের কারণে জুড়াছড়িতে জেএসএস-এর চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা স্তিমিত হয়ে পড়ে। কোণঠাসা হয়ে পড়ে জেএসএস-এর নেতৃবৃন্দ। ফলে জেএসএস-এর পক্ষ থেকে অনেকবার তাকে সতর্ক এবং প্রলোভন দেখিয়ে নিবৃত করার চেষ্টা চলে। কিন্তু ১৯৮৫ সালে শান্তিবাহিনী থেকে ফিরে আসা সাবেক গেরিলা কমান্ডার কিনা মোহন চাকমা শান্তিবাহিনীর হিংস্রতা এবং সব ধরণের অপতৎপরতা সম্পর্কেই জানতেন বলে পুনরায় আর সেই পঙ্কিলময় অন্ধকার জগতে ফিরে যেতে রাজি হননি। বরং সেই পঙ্কিলতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে জনগণের প্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। আর এটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনি ফ্যাসীবাদি জেএসএস নেতৃবৃন্দ। তাই কিনা মোহন চাকমাকে হত্যা করে, তার লাশকে বিকৃত করে হিংস্রতার জঘণ্যতম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জেএসএস তথা সন্ত্র লারমার ক্যাডাররা।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:১৭
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×