বিশেষ করে চাকমাদের দ্বারা ফেসবুকে পরিচালিত CHT BD গ্রুপটা বেশ পরিচিত। চার হাজারের বেশি সদস্য রয়েছে এখানে। এ গ্রুপে বাংলাদেশের পার্বত্যাঞ্চলসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চাকমা (কিছু মারমা-ত্রিপুরা সহ অন্যান্য ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠির লোকও আছে) এবং তাদের পৃষ্টপোষকরা বাঙালি, সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে জোড় প্রচারণা চালিয়ে থাকে। এখানে সত্য যেমন থাকে তেমনি প্রপাগান্ডা থাকে তার চেয়ে বেশি। পার্বত্য চট্টগ্রামের যেকোন ঘটনাকেই সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার করাই যেন এ গ্রুপের সদস্যদের এক মাত্র কাজ। যাই হোক, এই গ্রুপের কোন এক সদস্য (সম্ভবত না বোঝে) আমাকেও গ্রুপের সদস্য হিসেবে অ্যাড করে নিয়েছিল। গ্রুপের সদস্য হওয়ার পর লক্ষ্য করলাম পার্বত্যাঞ্চল নিয়ে এক শ্রেণীর মানুষ কি ধরণের নোংরামি পূর্ণ অপপ্রচারের সাথে জড়িয়ে আছে। আর সে বিষয়ে সঠিক জ্ঞান নাথাকায় অনেক সমতলবাসীও তাদের সাথে একমত হয়ে হা-হুতাশ করে যাচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে তারাও সরকার, সেনাবাহিনী এবং পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত বাঙালিদের গালাগালি করে চৌদ্দগুষ্ঠী উদ্ধার করছে। পার্বত্যাঞ্চল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল একজন মানুষ হিসেবে বিষয়টি আমাকে খুবই পিড়িত করে। কিন্তু অপপ্রচারকারিদের সংখ্যা এতবেশি এবং তারা এতটা বেপরোয়া যে আমার মত একজন ক্ষুদ্র মানুষের পক্ষে তেমন কিছুই করার ছিল না। তাছাড়া সময় স্বল্পতাতো ছিলই। তারপরেও মাঝে মাঝে সেখানে সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। যদিও বেশিরভাগ প্রপাগান্ডাকে এড়িয়ে গেছি। কেননা এখানে কিছু কিছু প্রপাগান্ডা এতটাই নোংরামিপূর্ণ যে সেসব বিষয়ে মন্তব্য করাটাও ঘৃণার কাজ বলে মনে হয়েছে। গতকাল ৯ সেপ্টেম্বর ছিল পাকুয়াখালি ট্রাজেডি দিবস। ১৯৯৬ সালের এই দিনে রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তি পাকুয়াখালিতে ৩৫জন নিরীহ বাঙালি কাঠুরিয়াকে ব্যবসায়িক আলোচনা করার নামে প্রতারণা করে হাত-পা বেঁধে দা, লাঠি, কুইচ্চা মারা শিক দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল শান্তিবাহিনী। সেদিন শান্তিবাহিনীর কসাই খানা থেকে ভাগ্যক্রমে ফিরে আসতে পেরেছিল ইউনুছ মিয়া নামের এক কাঠুরিয়া। তার একটা সাক্ষাত্কার নিয়েছিলাম বিষয়াটাকে বিস্তারিত জানার জন্য। ইউনুছ মিয়ার এই সাক্ষাত্কারে শান্তিবাহিনীর প্রতারণা, নির্মমতা এবং পার্বত্য বাঙালিদের অসহায়ত্বের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। পার্বত্য বাঙালিদের নিরাপত্বা নিশ্চিত করতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাও স্পষ্ট হয়েছে। আমাদের মিডিয়া এবং তথাকথিত সুশীল সমাজের কাছে অসহায়, নিরীহ এবং নির্যাতিত হিসেবে পিরিচিত পাহাড়িদের ভয়ংকর মূর্তিটাও উন্মুচিত হয়েছে।
গতকাল পাকুয়াখালি ট্রাজেডি দিবসের ১৫ বছর পূর্তিতে সেদিন নিহতদের স্মরণ করতে এবং পাহাড়ে বিভিন্ন সমেয়ে ঘটে যাওয়া নির্মম ঘটনাগুলোর চিত্র পাঠকদের সামনে তুলে ধরতেই বেশ কিছুদিন আগে সামহোয়ারইন ব্লগে পোস্ট করা ইউনুছ মিয়ার সাক্ষাত্কারটির লিংক প্রকাশ করেছিলাম ফেসবুকের CHT BD গ্রুপে। তারপর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে দেখলাম গ্রুপের অনেক সদস্যই লিংকটাতে প্রবেশ করছে, কিন্তু কোন মন্তব্য করছে না। আজ এসে দেখলাম, গ্রুপ থেকে আমার সদস্য পদই বাতিল করে দেয়া হয়েছে। অর্থাত্ নির্মম সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সত্ সাহস দেখাতে না পেরে তারা আমার সদস্য পদ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। জানি না সেই গ্রুপের অ্যাডমিনদের আসল উদ্দেশ্যটা কি? যারা সত্যকে ভয় পায় এবং প্রপাগান্ডাকে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের একমাত্র হাতিয়ার মনে করে তাদের জন্য কৃপা অনুভব করা ছাড়া আর কিইবা করার আছে?
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



