আমার প্রিয় পোস্ট

কালঘুম (১ম অংশ)

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:২৮

শেয়ারঃ
0 0 0

বেশি আলো সয্য হয় না। আলো অনেককিছু দৃষ্টির বাইরে রেখে দেয়; অদৃশ্য কোন ঘটনা বা অনুষঙ্গ যা হয়ত আছে কিন্তু তা অপ্রকাশ্য হয়ে পরে। এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা সম্পর্ক তৈরিতে সহায়ক নয়। আমি সারাজীবন সম্পর্ক নির্ণয়ে ব্যস্ত রেখে দারূন সম্পর্কহীন যাপন-পদ্ধতি শিখে গেছি বা এখনো যাচ্ছি। বাধ্য হয়ে এবার ঐ প্রবল আলোবিস্তারি বস্তুটির উপর একটি শেড্ ফেলে দেই। ফলে তার সুযোগে বেশ কিছু ছায়া তৈরি হয়, যা কিছুক্ষণ পূর্বের সম্পর্কহীন বস্তুগুলোর মধ্যে ঘনত্ব নিয়ে আসে এবং কেমন যেন পরস্পরকে ছুয়ে থাকার কৌশলে ঐযায়গায়ই অনেক সম্পর্ক তৈরি করে ফেলে ইন্দ্রজালের মত। ওই সুযোগে জড়-স্থবির বস্তুগুলোর বিকাশ প্রসারিত হয় আর ক্রমেই ওরাও ব্যক্তি হয়ে ওঠে। আর ব্যক্তির হয়ে ওঠা পর্যাপ্ত হলে সে আলো হয় যায় ঠিক সারা রাত জ্বলে থাকা ৪০ অথবা ৬০ অথবা ১০০ অথবা ১০০০ ওয়াটের বাল্বের মত। সে একই সাথে নিঃসঙ্গ হয়ে যায়; সে জীবনে আর কিছুই হতে পারে না। কিছু হতে না পারার মধ্যে মজা আছে, হাহাকার আছে। এই দ্বৈত ব্যপারটা মাত্র কিছুদিন আগে জানতে পেরেছি, তাও এক বছর আটেকের এক শিশুর কাছ থেকে। ওকে জিজ্ঞাসা করলাম একসময় যে , সে কি হবে। সে উত্তর করল, 'কিছু না'। আমি বললাম মানে এবং আরো বললাম ঠিক করে জানাতে যে সে কি হবে। সে নির্বিকার ভাবে পুনরায় জানাল সে কিছু হবেনা। তখন ভাবলাম ও বোধহয় প্রশ্ন বুঝতে পারে নাই। তাই ওর বয়স ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এনে আবার জানতে চাইলাম (আসলে শুনতে চাইলাম আমার সীমাবদ্ধ উত্তর)। জিজ্ঞাস করলাম তুই কি পাখি হবি অথবা পাখির মত উড়বি কোনদিন মানে পাইলট হবে কি না অথবা কম্পিউটারে গেম খেলবে কিনা অথবা ক্রিকেট খেলবে কিনা। সে যারপরনাই বিরক্ত হয়ে স্মরণ করিয়ে দেয় পূর্বেই বলে দিয়েছে যে ও কিছু হবে না। আমি তখন ওর মজা আর আমার হাহাকার বুঝতে পারলাম আর মনে পড়ল কিছুক্ষণ আগে আমি যখন কাথার মধ্যে অন্ধকারে নিজের প্রসব বেদনা নিজেরই শরীরে অনুভব করে, যুগপৎ ভয় এবং ব্যথায় বিভ্রান্ত বিছানায় দাঁতে দাঁত চেপে পরে ছিলাম সে তখন তার ছোট্ট নরম হাত দিয়ে আমাকে বাইরে নিয়ে এসেছিল অভিজ্ঞ ধাত্রির মত।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): গল্পগল্প ;
প্রকাশ করা হয়েছে: গল্প  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:২৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:৪০
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: দারূণ উপলব্ধি। চমৎকার দার্শনিকতা ভরপুর। কিছু না হওয়ার এই প্রত্যয়টা কিছু হওয়ার সাথে দ্বন্দ্বমুখর দেখিনা। কিছু হয়েও কিছু না হওয়াটা আসল লক্ষ্য বুঝতে পারছি। ভাল হয়েছে।
২. ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:১০
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: মনে হয় না প্রতর্ক তৈরী করে। এটাতে প্রতর্ক তৈরী হবার বিষয় আছে, কিন্তু এটা সাহিত্য বলে ভাববোধগম্যতার বিষয়। প্রতর্কের জায়গা ভিন্ন। আঙ্গিক সুন্দর, অন্তর্গত কথন চমৎকার এবং উপলব্ধিজাত, সুতরাং এটা অবশ্যই একটা প্রতর্কমুক্ত গল্প। দ্বিতীয় অংশ পড়ার অধীর আগ্রহ বোধ করছি।
৩. ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:০৬
মাঠশালা বলেছেন: কৌশিক ভাই,
২য় অংশ পোষ্ট করেছি। ঝামেলার মধ্যে ব্লগিং করতেছি তাই ঠিকমত অংশ নিতে পারতেছি না।

সাহিত্যকে কেনো প্রতর্কমুক্ত বলে মনে করছেন?
৪. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:৫৭
বীথিলতা বলেছেন: "...আমি সারাজীবন সম্পর্ক নির্ণয়ে ব্যস্ত থেকে দারুন সম্পর্কহীন যাপন-পদ্ধতি শিখে গেছি বা এখনো যাচ্ছি..."
...৫...

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৪০৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সাঈদ জুবেরী,
একটা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় কাজ করি, মাঝে মধ্যে কবিতা,গল্প,প্রবন্ধ লিখি।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ