আমার প্রিয় পোস্ট

কালঘুম (শেষ অংশ)

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৩০

শেয়ারঃ
0 0 0

আরো অনেক দিন পর কোন এক রাতে একটা মেয়েকে স্বপ্নে দেখলাম যে ,সে অর্থ্যাৎ যাকে স্বপ্নে দেখলাম সে ঘুমিয়ে স্বপ্নে আমাকে দেখছে । এই বিষয় বহির্ভূত ঘটনাটি হতে পারে যাদুবাস্তবতার একটা বোর্হেসীয় ঘোর কিন্তু আমার কাছে ক্রাইসিসটি জাগরণের প্রান্তে একটি স্বপ্নবাস্তবত । মূলত স্বপ্নটি কে দেখেছিল আর ঘটনাটা এতটাই স্বপ্নয় আবিষ্টতায় ছায়াচ্ছন্ন যে চর্মচক্ষু সেখানে সাদাকালো দরজার বাইরে ,অপ্রবেশ্য। দরজার বাইরে তবে কে আর কে আছে ঘরে ,এই স্বপ্নবাস্তবতার জগতে? জেগে উঠি স্বপ্ন থেকে ঘুম থেকে; মাকড়শা আর আরশোলা'র শিকারী ও শিকার হয়ে ওঠার দৃশ্যে; যখন ঐ দুটি প্রাণীই আমার ভয়ের কারণ আশৈশব উত্তরাধিকার সূত্রে । আহ! শৈশব তো বিলুপ্তপ্রায় ,সংখ্যালঘূ কালখন্ড । কার জয় চাইব এখন ? মাকড়শা তার জালের বিস্তার কী নিপূণ শিল্পীর মত করে যত্ন ও প্রজ্ঞায় গড়ে চলেছে আর আরশোলা সেই প্রচীন বিদঘূটে প্রাণী যা দর্শনের মত টিকে গেছে। কিন্তু এখন এই ঘরে আলো-আধাঁরিতে ওদের জমে ওঠা সংঘাতের নীরব দর্শক হয়ে চুপচাপ বসে থাকব নাকি আমার অস্তিত্ববাদী ভূমিকা দিয়ে ওদের প্রাগৈতিহাসিক টিকে থাকার ফর্মূলায় আঘাত করব বুঝে উঠতে পারছি না । কে বেশি জীবন ধারণে সক্ষম-মাকড়শা ,আরশোলা নাকি আমি। নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে এই মূহুর্তে কোনও আয়না নেই বলে । ফলে পৃথক কোন অস্তিত্ব আমার স্বরুপে আবির্বূত হচ্ছে না । আসলে পারদের সম্পর্ক খসে গেলে কোন প্রতিরুপই ব্যক্তির নিশ্চয়তা বিধান করে না । নিজেকে নির্বাসনে পাঠানো যায় শুধুমাত্র দৃশ্য বদল করলেই । নতুবা সয়লাপ শুরু করা যাক । যদি বিষয়-সংকট হয়ে ওঠে তবে অনুভূতির স্পর্শকাতর মৌলিক বিন্দুতে আমরা সাড়া দেব । আবহাওয়া নিয়ে কথা বলব \ জোরে প্রশ্বাস টেনে চারিদিকে তাকিয়ে কিছুই না দেখে বিশারদের মত বলে উঠব আজ খুব শীত পড়েছে অথবা পড়েনি, দ্রুত মাথা নাড়িয়ে ঐক্যমত পোষণ করে নিঃশ্বাস ছেড়ে দেব । ফলে ঐক্যমতের আবহাওয়ায় আমরা প্রত্যেকে টিকে যাব আপাতত। বেচেঁ থাকা আর টিকে থাকার মধ্যে যে শূন্যতা সেখানে অনন্তকাল ধূপকাঠির মত পুড়ে যায় । আগামী কাল ঘর থেকে রাতের আশ্রয় ছেড়ে পিঁপড়ের মত অথচ বিশৃঙ্খলভাবে যেসব মানুষ ছড়িয়ে পড়বে পথে ; তাদের প্রত্যেকের শরীরে পোড়া দাগ, কিন্তু কেউ দেখে না । দেখবে কেন ? আজ রাতে এ শহরে কোনও বাড়িতেই অগ্নিকান্ড ঘটেনি । রাতের বাতাস কেটে উড়ে আসেনি অগ্নিনির্বাপক সাইরেন-ধ্বনি ,তবু অন্তর্গত আগুনে জ্বলে যাচ্ছে নাগরিক ঘর-বাড়ি ।হঠাৎ ওড়ার শব্দ; প্রজাপ্রতি তার ডানায় নিয়ে আসে ম্যাচবাক্স ,হঠাৎ জলের প্রবাহ ;ডলফিন জলের অতল থেকে নিয়ে আসে ম্যাচবাক্স \ আর বাক্সের ভিতর দারুণ প্রজ্জ¦ন সম্ভবনায় এক একটা শলাকা শান্ত চুপচাপ শুয়ে থাকে ।
আমি কী হয়ে যাচ্ছি।ওহ! ব্রেনের স্পন্দন টের পাচ্ছি । ঐ যে সেই ছেলেটি হাসছে । নিস্পাপ শান্ত চোখ; আমার ভয় হয় । মানুষের শায়িত শরীর খেয়ে যাচ্ছে মাংসাশী মাছ অ মাকড়শার জালে আটকে পড়ে আছে মানুষের শরীর ; আরশোলা উড়ে আসছে তার অন্ধকার কোণ থেকে ,ছেয়ে ফেলছে আমার অবয়ব, আমার ভয় করছে,দ্রুত আলোকের কামনায় উঠে বসে শেড সরিয়ে ফেলি আর জড়-¯হবির জগৎ আমাকে উপহাস করে নিজস্ব জীবনে থেকে যাচ্ছে অনড় অবিচল । লাঙ্গল নয়; মৃত্তিকার শরীরে হাড়ের আঘাতে বিশ্বায়নের চাষাবাদ । নীল চাষীর আঙ্গুলের লকেট উপহার পাচ্ছে গোল্ডেন রাইসের উৎপাদনে একজন এন,জি,ও । দরজায় টোকা পড়ে । কে আসল অসময়ে ; নিয়ম না মেনে দরজা খুলে দেই আর দুয়ারে দাড়াঁয় এসে ভেজা শরীরে বেহুলা ;যোনীদেশ রক্তাক্ত -হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছে ক্ষত । সেখানে প্রোথিত কী লখিন্দরের হাড় ! আবার ভয় পেয়ে একা ফিরে আসি বিছানায় । বিছানায় সমর্পনের পূর্বে সুইচ টিপে অন্ধকার করে শুয়ে পড়ি । কিছুক্ষণ তারপর আবার এক অদ্ভ’ত আলো ফিরে এসে জড়িয়ে থাকে নিস্পলক চোখের দৃষ্টিতে । এই পরাবাস্তব আলো-আধাঁরীর প্রশ্রয়ে কেমন ছায়ার সর্ম্পকে কাহিনী রচনা করে , কিন্তু সর্ম্পক কি ? কি সেই অর্ন্তনিহিত কারণ যার ভেতর দিয়ে মানুষ তাকে আবিস্কার করে !

এক অনিশ্চিত ভয় আলো থেকে দূরে থাকতে বলে আর মনে হয় যদি ঘুমিয়ে পড়ি এবং স্বপ্ন দেখে ফেলি,আমি কী ফিরে আসতে পারব ঘুমে; ঘুম থেকে জাগরণে। আপাত অসংলগ্ন এইসব অবৈষয়িক বিষয়বস্তুর মধ্যে এক সময় আমি জড়িয়ে যেতে থাকি ঘোরের ঘুমে । আর অন্ধকার জেগে থাকে রাতের পাহারা।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): গল্পগল্প ;
প্রকাশ করা হয়েছে: গল্প  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৩০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:১৭
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: চমৎকার। আমার ভীষণ ভাল লেগেছে।
২. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:৫৩
মাঠশালা বলেছেন: আর কিছু না?@কৌশিক
৩. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:৩৭
বীথিলতা বলেছেন: ...৫....পাঁচ দেওয়ার মতোই লেখা। খুব ভালো লাগলো.....
৪. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:৫৪
মাঠশালা বলেছেন: থ্যাংকস @ বীথিলতা
৫. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:০৭
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন: ভাল লাগছিলো আবার ভাল লাগলো।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৪৯৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সাঈদ জুবেরী,
একটা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় কাজ করি, মাঝে মধ্যে কবিতা,গল্প,প্রবন্ধ লিখি।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ