আমার প্রিয় পোস্ট

সময়ের পেণ্ডুলাম

২৪ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:১৬

শেয়ারঃ
0 10 0




“আমি হাঙ্গরের পাকস্থলী থেকে ডাকছি তোমাদের- ”

ইউনুস নবীর জন্য ছিলো অলৌকিক উদ্ধারের পয়গাম। আর আমাদের সুমন প্রবাহন যখন কালের নিয়তি বুঝে উঠে আমাদের ডাক পাঠায় তখন আমরা আশ্চার্য বধিরতায় নিমগ্ন থেকে হারিয়ে ফেলি সকল প্রতিশ্রুতি।

সৃজন মাতাল মানুষের জন্য সৃজন ক্ষমতা একাধারে ঐশ্বর্য আর দূর্যোগের। যা তাকে জারিত করে তোলে শ্রেয়তর এক বোধের কূলে। এই শ্রেয়তর বোধের প্রতি অনমনিয় মনোভাব এবং সে অনুযায়ী পরিবর্তনের অভিপ্সা, এর বিপরীতে বর্হিজগতের যে চাপ তার অর্ন্তজগতের উপর পরে তার প্রেক্ষিতে দু’টি পরিণতিই কেবল খোলা থাকে- জগতকে মনোরূপ দান করা নতুবা আজীবনের নিঃসঙ্গতা। এই চাপ এমনই দূর্মর হতে পারে যে মুহূর্তের ভুলে অথবা অস্তিত্বের মাঝে জেগে ওঠা আকস্মিক শূণ্যতাবোধে স্ময়ং অস্তিত্বকেই দুমড়ে দিতে পারে। যার মূর্তরূপ মৃত্যু। বিশেষায়িত করলে সৃজনশীল মানুষের মৃত্যু আর বর্হিজগতের ভাষায় বললে ‘আত্মহত্যা’। মধ্যপন্থা অবলম্বি সৃজনপ্রয়াসিদের (?) কথা এখানে বিবেচনা করছি না। একজন সুমন প্রবাহনকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি মৃত্যু রশ্মিতে মসৃন গিট তৈরি করে তাকিয়ে আছে সিলিং ফ্যানের দিকে। মৃত্যু মুহূর্তের স্তব্ধতা আমাদের বরাবরই বিমূঢ় করে রাখে। এটা সেই মুহূর্ত যখন কেউ জীবিত থাকা সত্ত্বেও আর সমস্ত জীবিতদের সাথে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে। যে যোগাযোগহীনতা তাকে ফাঁসের দড়িতে ঝুলিয়ে দিয়েছিলো সময়ের পেণ্ডুলামের মতো। কিন্তু শেষ মুহূর্তের মৃত্যু যন্ত্রণা ধারণা যখন ক্রমে তার শরীর বেদখল করে নিচ্ছিল তখন সে ফিরে আসতে চেয়েছিল কি না যোগাযোগের দুনিয়ায় তা আমরা আর জানতে পারি না। মৃত্যুর সংবাদ পাবার পর তো প্রশ্নই ওঠে না ‘সুমন’ ‘সুমন’ বলে চিৎকার করে ওঠার।

নিঃসঙ্গতার মাত্রা সেই কবে মৃত্যুর কাছে এসে থেমে রয়েছে, কিন্তু সুমন তাকে ছাড়িয়ে গিয়ে ঈশ্বরের বরাবর নিয়ে যায়- “ঈশ্বরের অসীম একাকীত্বও/আমার একাকীত্বের কাছে একা।”এই পথে যে পরিক্রমা অর্জন করে তাকে সুমন স্রেফ বলে দেয় ‘সে আমার পর্যটন নয়- ধ্যান।’ সুমনকে সুধাই মৃত্যুতে কি তোমার ধ্যান ভঙ্গ হলো? উত্তর আসবে না, অপেক্ষাও করি না।

কবি জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বরাবরই একাকিত্ব, মৃত্যু, পালিয়ে যাবার হাতছানি, প্রেম-অপ্রেমের দ্বিধা আর এক অ™ভূত নাগরিক আধ্যাত্মবাদ ইত্যকার বিষয় ঘুরেফিরে এসেছে সুমনের কবিতায়। বাস্তব আর অবাস্তবতার মানদণ্ড সুমনের নিজস্ব। তাই সামাজিক অর্ন্তঘাতের রুলস এন্ড রেগুলেশন সুমনকে করে তুলতো সন্ত্রস্ত। কবিতার পঙক্তিগুলো স্বভাবতই অসংখ্য অভিমুখে চলে যায়। কোন একটি মাত্র পরিপ্রেক্ষিতে সে নিজেকে প্রতিস্থাপিত করেনি- মৃত্যু ব্যাতীত। অন্তত তার কবিতা পড়ে এমনটিই মনে হচ্ছে- ‘প্রশ্নহীন আমি, পকেটে অসংখ্য ছায়াপথ।’

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস তবু চোখে দেখা যায় কিছুটা। কিন্তু সামাজিক অর্ন্তঘাতের ক্রমাগত আক্রমণে দারুণসব স্মার্ট, মুখর, মারদাঙ্গা আর আত্মপ্রচারে সদা সচেষ্ট ভোতা মানুষেরাও অতিষ্ট হয়ে পড়ে। সেখানে পুতুলের কলহ সহ্য করতে না পারা সুমন মানুষের সাথে তার অর্জিত নিজস্ব শ্রেয়তর বোধ নিয়ে বাহাস চালিয়ে নিতে গিয়ে আক্রান্ত বোধ করে। এই অভিজ্ঞতার ভয়াবহতা সুমনকে নিয়ে যায় বোধির দিকে। আমরা খুঁজে পাই চাপা দেয়া মানবীয় ইতিহাসের মিসিংলিঙ্কগুলো, বস্তুসমূহের প্রকৃত অবস্থান আর নষ্ট হয়ে যাওয়া সম্পর্ক। ষড়যন্ত্রময় ইতিহাস আমাদের কাঁধে চাপিয়েছে হাজার বছরের মূল্যবোধের পাহাড়। সুমন প্রতিনিয়ত হাসফাস করে ওঠে। তাই উপমার কাব্যিক পথ এড়িয়ে সে সোজাসুজি ঢুকে পড়ে অভিজ্ঞতা- ‘জল ত্যাগে শিশ্নের নালায় যে প্রবাহ /সেটা বিস্ময়কর।’

সুমনের সাথে সাত আটবার দেখাসাক্ষাৎ আর একটি রাতের সহাবস্থানে ঘুমের মশারি সরিয়ে যতটুকু দেখি - সৌম্য, চুপচাপ, অন্তর্ভেদী দৃষ্টি নিয়ে সে একা বসে থাকে সারারাত।

তুবও তার চেতনা শূণ্য শরীর আজ পেণ্ডুলাম হয়ে উঠেছে। আমরা ধারণা পাচ্ছি সময়েচেতনার। আমাদের এই অর্ন্তজগতে আমাদের এই বর্হিজগতে তা আর কোনভাবেই পেণ্ডুলাম নয়- অর্থাৎ সুমন প্রবাহন।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বিবিধ সমকালীন ;
প্রকাশ করা হয়েছে: বিবিধ সমকালীন  বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:৩৯
সততার আলো বলেছেন: very complex, amazing
thundering
writing............
২. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৩২
সামী মিয়াদাদ বলেছেন: সৃজনশীলতা অনেক ক্ষেত্রেই আত্মবিধ্বংসী হয়।
২৪ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৯

লেখক বলেছেন: ভাই সামী মিয়াদাদ, আলাদা করে সৃজনশীলতাকে আত্মবিধ্বংসী বলার মানে পাই না।

৩. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:১০
সামী মিয়াদাদ বলেছেন: হুমমম....আমি একটু আলাদা করলাম আরকি
৪. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৫
মৃদুল মাহবুব বলেছেন: এমন চলে যাওয়া আমাকে দুঃখের ভেতর ফেলে দিয়ে যায়, জীবন নামক ঘ্রানকে আরও বেশি অর্থহীন অদৃশ্য বলে মনে হয়। মনে হয় চোখের কিনারে পিচুটির মত এসে বসে আছে হায় জীবন, বেঁচে থাকা। জীবনকে আরও বেশি অর্থহীনতার প্রমান দিয়ে সুমন চলে গেলো। ভাবি আর খারাপ লাগে। কষ্ট বাড়ে। হতাশাও এসে বসে আমার পাশে।
২৪ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:৫৮

লেখক বলেছেন: সুমনের চলে যাওয়া নিয়ে কীই বা আর বলা যায়।

৫. ২৫ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১২:৩৩
মাজুল হাসান বলেছেন: “ঈশ্বরের অসীম একাকীত্বও/আমার একাকীত্বের কাছে একা।

দরদী লেখা, বিশ্লেষনধর্মীও।
কদিন ধরে পড়বো পড়বো করেও লেখাটা পড়া হয়ে উঠছিলো না।
কাল ছবিহাটে স্মরণসভাটা হবে তো?
তাতে সুমনের কবিতা পাঠের কোনো ব্যাবস্থা নিয়েছেন কি?
২৫ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১২:৩৯

লেখক বলেছেন: হ্যা ছবির হাটের স্মরন সভা হবে। মুয়ীযের ব্লগে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

৬. ২৫ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৪২
মুজিব মেহদী বলেছেন: অনেক আগে হুমায়ুন আজাদের একটা প্রবন্ধে (বোধকরি 'শিল্পকলার বিমানবীকরণ', 'মাটি'তে ছাপা হয়েছিল) পড়েছিলাম, আত্মহত্যাও এক ধরনের জীবনমুখীনতা। কীভাবে? তাঁর যুক্তিটা ভালো লেগেছিল। বলছিলেন, সব মানুষ একটা সুন্দর (সুন্দরের কোনো সর্বজনীন মানদণ্ড নেই, একেজনের কাছে একেকটা সুন্দর) জীবন যাপন করতে চায়। কিন্তু সেটা সবসময় পায় না। যখন পায় না, পাবার সম্ভাবনাও দেখে না, না-পাওয়াটাকে সইতেও পারে না, তখন সম্ভবত তারা আত্মঘাতী হয়।

সুমনের ক্ষেত্রেও কি ঠিক তাই ঘটেনি?
২৫ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৮:১০

লেখক বলেছেন: মুজিব দা,

আত্মহত্যা আর সেচ্ছামৃত্যু কি এক?

সুমনের মৃত্যুকে আমি সেচ্ছামৃত্যু অথবা আত্মহত্যা কোনটাতেই স্থির হতে পারি না স্রেফ মৃত্যুই মনে হয় এর কারন বলতে গেলে বলা যায় ওর সাথে কিছু কথোপকথনের স্মৃতি। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমি বক্ষমান পোষ্টটিতে সুমন ও সুমনের কবিতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে একযায়গায় লিখেছি-"বাস্তব আর অবাস্তবতার মানদণ্ড সুমনের নিজস্ব"। জীবন নিয়ে সুমনের অভিজ্ঞতা খুবই জটিল। এই জটিলতা তৈরি হতো যখন সুমনের বাস্তবতা আর সকলের বাস্তবতার সাথে ঠিক মিলত না। দৈনন্দিন জীবনে সে অনেক অদৃশ্যতাকে প্রত্যক্ষ করত। তাছাড়া মেঘের সাথে কথা বলাতে পারাকে বাস্তবতা কিভাবে গ্রহন করে আমি জানি না।

৭. ২৬ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৪৪
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন: ভালো লাগছে।

আর কিছু বলার নাই।
৮. ০৩ রা মে, ২০০৮ বিকাল ৪:০০
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন: সুমন স্মরণে একখন্ড একাকিত্ব অনুস্ঠানটার উপর ডেইলি স্টারে আজ একটা নিউজ এসেছে

এইখানে আয়

পড়িস।
৯. ১০ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৩
মজনু শাহ বলেছেন: 95 shale attohotta koresilo amader kobi-bondhu shamin kobir. sei aghat ajo mone beje othe theke theke. 96 shaler pray protidin gore 3/4 ghonta kore bose or pandulipi theke kobitagulo niye ekta boier ayojon koresilam drostobber bondhura mile. sei sromer vetor ekta anondo kaj korto je mrito kobibondhur proti etai amar amader ekanto orgho.

sumoner mrittur por tar bondhura serokom ki udjok nichsen, setai ekhon joruri bepar. kenona amader sovab holo kisu na kore shudhu bilap kora....

agami boimelay sumoner boi dekhte chai, ei hochse kotha. boitir 1/2 sho copy agam bikroy kore takapoysar somossa metano jay,jeta shamimer khetre amra koresilam, e bisoye mujib mehdi ba rayhan rain valo poramorsho dite parben,asa korsi...
১৩ ই মে, ২০০৮ সকাল ১১:০৬

লেখক বলেছেন: মজনু দা,
সুমনের বইয়ের একটা পান্ডুলিপি সে নিজেই করে গিয়েছিল-" পতন ও প্রার্থনা" নামে। পান্ডুলিপিটি বই আকারে বই মেলার আগেই বের হওয়ার সম্ভাবনা। কাজ চলছে।

১০. ১৩ ই মে, ২০০৮ দুপুর ২:১৩
রথো রাফি বলেছেন: সুমন প্রবাহন-এর প্রতি তোমার মূল্যায়ন পড়লাম, প্যাশনেট।
১২. ১৭ ই মে, ২০০৮ রাত ১:৪১
মজনু শাহ বলেছেন: boi melar agei boi ber hote kono badha nai, tobe boimelay ber hole tar impact besi hoy pathoker majhe.

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৬০০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সাঈদ জুবেরী,
একটা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় কাজ করি, মাঝে মধ্যে কবিতা,গল্প,প্রবন্ধ লিখি।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ