প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন । পিআইডিসমকাল প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন কাল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, এই পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল। যারা অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি, তাদের শেখানোর প্রয়োজন আছে। বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাদের সময় প্রায় আড়াইশ' স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। আমরা দুই-একটি নাম পরিবর্তন করাতেই তাদের এতো জ্বালা! যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অবশ্যই হবে। এই বিচার না হলে শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে না। মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য, আদর্শ ও স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবে না। শেখ হাসিনা গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন। চালের দাম বাড়িয়ে একটি মহল সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত চাল আছে। এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। দাতা সংস্থাগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও সারে ভর্তুকিসহ নানা সরকারি পদক্ষেপের ফলে উৎপাদন বেড়েছে। এরপরও তারা চালের দাম বাড়িয়ে নানা খেলা খেলছে। গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় শত শত প্রতিষ্ঠানের নাম বদল করা হয়েছে, যেগুলো আমার নিজের হাতে করা। তারা কি তখন ভাবেনি, এই নামবদলের খেলা ভালো হবে না। তারা কি ভাবেনি, তাদেরও খারাপ দিন আসতে পারে। আবারও এসব নাম বদলে যেতে পারে। তার মতে, অনেকেই সমালোচনা করেন, এই সরকারের
সময় এই যে নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে, এটার কি দরকার ছিল? এটার প্রয়োজন ছিল। কেননা যারা অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি, শিখতে চায় না, তাদের শেখানোর প্রয়োজন আছে। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, তারা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারসহ দুইশ' থেকে আড়াইশ' প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করেছে। আমরা দুই-একটি নাম পরিবর্তন করাতেই এতো জ্বালা! যদি আড়াইশ' নাম পরিবর্তন করা হয়, তাহলে কেমন লাগবে?
আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসেই এর কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। একবারও তারা ভাবেনি, এটা দলীয় নয়, দেশ ও জাতির স্বার্থেই করা হয়েছিল।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রে পাঠানোর সরকারি উদ্যোগের কথা জানান শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষাকারী ও মদদদাতাদের বিষয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় তাদের যে কত জ্বালা, কত দুঃখ, তা তাদের নীরবতাতেই বোঝা যায়। নানাভাবে তারা এই খুনিদের রক্ষার চেষ্টা করেছে, মদদ দিয়েছে, আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। খুনিদের রক্ষাকারী ও মদদদানকারীরা আর যাই হোক জনগণের কল্যাণ করতে পারে না। এরা কেবল জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, অস্ত্র চোরাচালান করতে পারে। কাজেই এদের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ এবং মানুষের অধিকার আদায়ের বিভিন্ন আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে এসব আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় নেতাদের এই ত্যাগের মূল্য দিলেও কিছু কিছু মহল তাদের অবদানকে খাটো করে দেখে।
বঙ্গবন্ধুর ত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কী পেলাম সেটা নয়, দেশ ও জনগণের জন্য কী দিলাম সেটাই বড় কথা।
সভাপতির বক্তব্যে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এপ্রিল থেকে রাজাকারদের বিচার কাজ শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি দেশের সব জায়গা থেকে রাজাকারের তালিকা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর জন্য মুক্তিযোদ্ধা ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই বিচার না হলে ৩০ লাখ শহীদের আত্মা আর দুই লাখ মা-বোনের কাছে আমরা দায়ী থেকে যাব।
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার মতো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজও শেষ করবেন। এর মাধ্যমে 'পাক সার জমিনবাদীদের' চিরতরে বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করা হবে।
সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কারও নাম উল্লেখ না করে বলেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করতে পারলে এই দেশ থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতি চিরতরে নিষিদ্ধ হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সতীশ চন্দ্র রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. জাহান আরা প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন প্রচার সম্পাদক নূহ-উল-আলম লেনিন।
সভার শুরুতে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


