৯০ -এর পর আমরা নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম গণতন্ত্র আর অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে। প্রাচুর্য না আসুক, জাতি হিসাবে আমরা স্বচ্ছল হব। আমরা জীবনের নিরাপত্তা পাব। দূর্নীতি থেকে মুক্ত হবে প্রাণ প্রিয় স্বদেশ। অথচ দিনে দিনে আমরা পিছিয়ে গেছি অন্ধকারে। মানুষ সামনে যায়। আর আমাদেও দেশের কান্ডারীগণ মুখ ফিরিয়ে সেটাকেই সোজা ভেবে হেঁটে গেছেন। এটা করেছেন সচেতনভাবে।
এই দেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান-এর দেশ নয়। সেটা হলেও চিন্তা ভাবনা হত সমষ্ঠিক। বঙ্গবন্ধু যেভাবে চিন্তা করতেন, যেভাবে র্বন গোত্র নির্বিশেষে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন জীবনের করুন পরিনতির দিন পর্যন্ত। অথচ তার কণ্যা তথাকথিত গণতন্ত্রের মানকণ্যা (কি হাস্যকর বিষয় যে তার একক সিদ্ধান্তে চলে দল। নিজের দলে গণতন্ত্রের চর্চা নাই অথচ তিনি গণতন্ত্রের মানসকণ্যা!!!!!) শেখ হাসিনার মানসিকতা এই দেশ তার পৈত্রিক সম্পত্তি। সুতরায় দেশকে নিয়ে যা খুশি করবার অধিকার তার এবং তার দলের একা।
জিয়াউর রহমান প্রশাসক হিসেবে অসাধারন ছিলেন। এই কথা তার ঘোর শত্র“রাও স্বীকার করে। তার কার্যক্রম এবং মতা গ্রহনের বিষটি যতই প্রশ্নবোধক হউকনা কেন তার ব্যক্তিগত সততা প্রশ্নাতীত। অথচ বেগম খালেদা জিয়া এবং তার দুই সুযোগ্য পুত্রের সততার বহর সবার জ্ঞাত। দুই পুত্রের ধারনা এই দেশ তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। সুতরাং এই দেশ নিয়ে এবং এই দেশে যা খূশি করাবর বৈধ অধিকার একমাত্র তাদেরই আছে।
আওয়ামী লীগ বা বিএনপি নয়, গণতন্ত্র আর নির্বাচন নয়, মূল বিষয় হল পৈত্রিক সম্পত্তি ভোগ দখলের অধিকার অর্জন। আর এই অধিকার আদায় করে দেয়ার জন্য সাী গোপালদের দরকার পড়ে। দেশের প্রধানতম সাী গোপাল হচ্ছে দুইভাগে বিভক্ত অন্ধ সমর্থক গোষ্ঠী আর এরশাদ, জামাত, ধর্মব্যবসায়ী দলসমূহ। যেখানে যখন গুড়ের পাল্লা বেশী এই সকল মাছি তখন ঐ দিকেই উড়ে বেড়ায়। এই সকল কারনেই তারা ডাক দিলেই হরতাল সফল হয়। তাদের কর্মসীচীতে লাশ পড়ে সাধারন কর্মীর। আর শেষে ঘাতকের সাথে জোট বাঁধে। কি নির্লজ্জতা!! নূর হোসেনের ঘাতক এরশাদকে মহাজোটের অংশ হিসেবে বরণ করে নেয়া হয়েছে আবার ১০ তারিখে নূর হোসেন দিবস পালনের আয়োজনও চলছে।
চরম দূর্ণীতিবাজ চারদলীয় জোটের মতার শেষ দিনে লগি বৈঠা নিয়ে সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা আসলে পৈত্রিক সম্পত্তি ভোগ কবার জন্য দখলের চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। অর্থাৎ দেশের আইন, জনগনের প্রতি কারোই আস্থা নেই। আস্থা আছে উগ্র সমর্থকদের প্রতি আর আস্থা আছে অস্ত্রে।
এই প্রোপট চলাকালীন জাতির জীবনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে যায়। একসময় ওয়ান ইলেভেনের চেতান নিয়ে হাজির জন বর্তমান তত্ববধায়ক সরকার। এই সরকার দেশ থেকে দূণীতি উৎপাটনের ঘোষনা দেন। কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল বেলা সংবাদ পত্রের পাতা দেখলে মনে হত আমরা কত ধনী জাতি। রাস্তায় পড়ে থাকে টাকার বস্তা , দামী গাড়ি। কিছু কিছু দূর্নীতিবাজকে ধরা হয়। সেনাপ্রধান সবজান্তা শমসের-এর মত সব বিষয়ে উপদেশ এবং নিজের গভীর জ্ঞান বর্ষন করতে থাকেন প্রতিনিয়ত। আকাশে বাতাসে এক শব্দ সংস্কার। রাজনৈতিক দলগুলো বিভক্ত হয়ে পড়ে দুই ভাগে যাদের একটি ভাগের নাম হয় সংস্কার পন্থী। দূর্নীতি দমন কমিশন জোড়ে শোড়ে আওয়াজ দেয়। গ্রেপ্তার করা হয় দুই নেত্রীকে। সর্বশেষ শেখ হাসিনা পাঁচ মাস আগে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যান। তিনি এতটাই অসুস্থ ছিলেন যে এজলাসে দাড়াতে পারতেননা। অথচ বিদেশে যাওয়ার পর পরই তিনি বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তৃতা দিয়ে বেড়ান। কি চমৎকার অভিনয়। আর খালেদা জিয়া দুই পুত্রের বিদেশ গমন নিশ্চিত করে নিজে বেড়িয়ে আসেন।
দুই বছর পর দেখছি সেই দূর্ণীতিবাজরা আসলে দুধে ধোয়া তুলসীপাতা। আজ শেখ হাসিনা আর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা র্দূণীতির অভিযোগের সত্যতা পায়নি বলে জানিয়েছে দুদক। কি চমৎকার লীলা খেলা। তত্বাবধায়ক সরকার বলেছিলেন কেউ আইনের উর্দ্ধে নয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। অথচ হোসেন জিল্লুর-এর সাথে বৈঠক হয় আর ম্যাজিকের মত জামিন মঞ্জুর হয়, মামলা বাতিল হয়, অভিযোগের সত্যতা বিলীন হয়ে যায়। যে মুজাহীদীকে পুলিশ খুঁজে পায় না তিনি বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্ঠার সাথে।
ওয়ান ইলেভেন নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম। জনাব ফখরুদ্দীন সাধারন মানুষ আপনাদের উপর আস্থা রেখেছিলো। আপনারা আজ যে নির্বাচন আয়োজন এর কথা বলছেন- তা আয়োজন করতে দুই বছর অতিক্রম হয়ে যায়। এটা আমরা বিশ্বাস করিনা আপনারা কি করেন। দুই নেত্রী দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে দূর্ণীতির অভিযোগ করেছিলেন, আপনার নিজেরাও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। আপনারা রাজনৈতিক দলগুলোতে সংস্কার আর আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে বলেছিলেন। অথচ চরম বাস্তব হল আপনারা সবাই এক একজন মিথ্যাবাদী। সবাই মতালোভী। দেশ প্রধান্য পায়না, প্রাধন্য পায় আপনাদের ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়া।
কি বোকা আমরা আমজনতা। আমরা আপনাদের উপর আস্থা রেখেছিলাম, আমরা নতুন দিনে স্বপ্ন দেখেছিলাম।
আপনাদের না হয় লজ্ঝা আর চরিত্র নাই, কিন্তু আমাদের নিজের বলতে ঐটুকুই আছে। তাই কষ্ট, অপমান আর হতাশায় শূধু এটুকুই বলতে পারি ছি ঃ । ছিঃ ফখরুদ্দীন এবং আপনার পরিষদের বাকী কাউনবৃন্ধ, ছিঃ সবজান্তা শমসের ওরফে বর্তমান সেনাপ্রধান.. ছি ঃ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


