জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিনগুলো কেটেছে নটরডেম কলেজে। ভিতরে নব্বইয়ের গণ আন্দোলনের প্রবাহ আর ইশকুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে যাওয়ার স্বাধীনতায় দিনগুলো ছিলো অন্যরকম।
আমরা যখন কলেজে পড়ছি তখন দেখছি যে বিজ্ঞান বিভাগের সাইন্স ক্লাব আছে আর বাণিজ্য বিভাগের বিজনেস ক্লাব প্রবল গতিতে চলছে। কিন্তু মানবিক বিভাগের মানবিক ক্লাবের কোন কার্যক্রম নেই। বয়সের দোষে হোক আর অন্য কোন কারণে হোক মনের ভিতরে এক ধরনের পীড়া অনুভব করতাম। মানবিক সংঘের মডারেটর ছিলেন আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় স্যার গোপীনাথ কর্মকার। তার সাথে আমি, মাহাবুব (হ্যাপী), তৌফিক, শিবু মিলে মানবিক সংঘের কার্যক্রম শুরু করবার বিষয়ে আলাপ করে আশাব্যঞ্জক কোন সিদ্ধান্তে পৌছতে পারলাম না। তখন নাটক নিয়ে কাজ করছে মাহাবুব। সেই প্রস্তাব দিলো নটর ডেম নাট্যদল করলে কেমন হয়। প্রস্তাবটি লুফে নিলাম সবাই। সংগঠন শুরু করবার দায়দায়িত্ব পরল আমার কাঁধে।
নাট্যদল করার বিষয়ে প্রথমে আলোচনা করেছিলাম ইংরেজী বিষয়ের অধ্যাপক আমাদের অত্যন্ত প্রিয় টিচার অসীত রায় চৌধুরীর সাথে। তিনি আমাদের উৎসাহিত করেন এবং যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁর পরামর্শেই আমরা আমাদের আরেক জন্য শ্রদ্ধেয় শিক্ষক এন্ড্রু বাড়ৈকে যুক্ত করতে সমর্থ হই। আমাদের অক্লান্ত শ্রম এবং এন্ডু বাড়ৈ স্যারের ডাইনামিক নেতৃত্ব আর অসীত রায় চৌধুরীর নির্দেশনায় নটর ডেম নাট্যদল অতি অল্প সময়েই সুপরিচিত হয়ে উঠে এবং কলেজ অডিটরিয়মে তিন মাস অন্তর (যা ১৯৯২ সাল অর্থাৎ আমাদের এইচ এস সি পরীক্ষার পুর্ব পর্যন্ত অব্যাহত ছিলো) নাট্য প্রদর্শনীর আয়োজন করতে সমর্থ হয়। এই প্রদর্শনীর আয়োজনে ফাদার পিশেতো এবং স্টুডেন্ট গাইডেন্স টেরেন্স পিনরোর আন্তরিক উৎসাহ আমাদের সাহস জুগিয়েছে বারবার।
কলেজে যাওয়া হয়না বহুদিন। যতদুর জানি মাহাবুব আজ সুইডেনে স্থায়ী। শিবু, তৌফিক ঢাকাতেই আছে। বাকী বন্ধুদের মনে পড়ে সবসময়। মনে পড়ে নটর ডেম কলেজের দিনগুলো। সেইসব সোনালী দিনগুলো।
(নটর ডেম নাট্যদলের প্রথম যে লগো ছিলো তা আমার নিজ হাতে করা। একটি পায়রার মুখের ছবি আর তার বর্ডার ধরে ইংরেজীতে লিখা নটর ডেম নাট্যদল)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


