somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহান বিজয় দিবসে একটি অস্বাভাবিক(!) পোস্ট

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
আজ মহান বিজয় দিবস। জাতি আজ পরম প্রাপ্তীর ক্ষনকে উদযাপন করবে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ধারাবিহকতার চূড়ান্ত পরিণতি আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং অর্জন। অথচ স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই আমরা বদলে গেছি। প্রতিদিন আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য আর নি:স্বার্থ দেশপ্রেম থেকে সরে গেছি। ঐক্যবদ্ধ অর্জনকে দ্বিধা বিভক্ত করেছি এবং দ্বিধাবিভক্ত করে চলেছি প্রতিদিন, প্রতিক্ষন।

২.
১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০১০-এর ১৬ই ডিসেম্বর। এই দীর্ঘ সময়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস যতটুকু বিকৃত হয়েছে আর কিছু হয় নাই। বিনএনপি-এর শাসনামলে আমলে প্রতিষ্ঠিত করার চেস্টা চলেছে যে, শহীদ রাস্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। আর আওয়ামী শাসনামলে মেজর জিয়াউর রহমানকে একজন পাকিস্তানী গুপ্তচর হিসেবে চিহ্নিত করার চেস্টা চলছে। অথচ তার স্বাধীনতার ঘোষনা যতটুকু বিতর্কিত হউক তিনি যে একজন বীর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন এই বিষয়ে কোন বিতর্ক নেই। অপর পক্ষে, আওয়ামী শাসনামলে স্বাধীনতা-কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর একক অর্জন হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেস্টা চলেছে এবং চলছে। ৭ মার্চের ভাষনকে স্বীধনতার ঘোষনা পরিপূরক করবার চেস্টা করা হচ্ছে। প্রকারন্তরে, বিএনপি স্বাধীনতা সংগ্রামের এই মহান নেতাকে চিত্রায়িত করার চেস্টা করছে একজন পলায়নপর সুবিধাবাদী ব্যক্তি হিসেবে। কারন তিনি ২৫ মার্চ রাতে আত্নসমর্পন করেছিলেন। অর্থাৎ আমাদের সম্মিলিত মহান অর্জন এখন দুই ব্যক্তির উত্তরসূরীদের কর্মকান্ডে দুই ব্যক্তির নামে দখল স্বত্ব নির্ধারন ও প্রতিষ্ঠার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

৩.
মহান স্বাধীনতা অর্জনের চার দশক অতিক্রান্ত হল। আজ পর্যন্ত আমরা মহান মুক্তিযোদ্ধাদের একটি নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নহীন তালিকা পায় নাই। যাদের দায়িত্ব ছিল এটি সম্পাদনের তারা বিবেকের তাড়নায় তাড়িত হন কিনা জানিনা। তাদের প্রতি “ছি:” শব্দটি উচ্চারন করতেও করুনা বোধ করি।

৪.
মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষন বা ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষনার মাধ্যমে শুরু হয় নাই। মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধ একটি ধারাবাহিক সংগ্রামের পরিণতি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে বা বেগবান হয়। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় অনেকের নিরলস অবদান রয়েছে। অথচ তাদের নাম খুব সুচতুরভারে মুছে ফেলার চেস্টা চলছে। আজকের প্রজন্ম ওসমানী সম্পর্কে অজ্ঞ, মাওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক সম্পর্কে অজ্ঞ। মুজিব নগর সরকারের সদস্যদের সম্পর্কে আজকের প্রজন্ম অজ্ঞ। তরুন প্রজন্মকে জানান হচ্ছে খন্ডিত ইতিহাস। কারন যত কম জানবে ততবেশী দখলী সত্ব প্রতিষ্ঠার আন্দোলন মানবে।

৫.
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখন শস্তা রাজনৈতিক কৌশল। এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরকারের আচরন রহস্যময় এবং ধারাবাহিক নতুন নতুন ইস্যু তৈরী করে বিচার পক্রিয়া বিলম্বের চেস্টা স্পষ্ট দৃশ্যমান। এই বিচার কর্মকান্ডের সবচাইতে বড় ফাঁক হচ্ছে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না এনে তাদের এদেশের দোসরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হচ্ছে। বিচার কার্যক্রমও খন্ডিত হচ্ছে। অথচ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীসহ তাদের সকল এদেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সকলকে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং বিচারকার্য সম্পাদন করে শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। আশংকা হয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কর্মকান্ড আবার আগামী নির্বাচনের ভোটের হিসাবের সমন্বয়ক না হয়ে দাড়ায়।

৬.
মহান বিজয় দিবস উদযাপন আজ শুধু উদযাপনেই সীমাবদ্ধ। আমাদের অর্জিত মহান স্বাধীনতাকে আজ পর্যন্ত আমরা অর্থবহ করে তুলতে পারি নাই। এই ব্যর্থতা আমাদের সকলের। এই লজ্জা দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল ব্যতীত আমাদের সকলের।

বি:দ্র: মহান স্বাধীনতা দিবসে এমন একটি মন খারাপ করা পোস্ট প্রদানের জন্য দু:খিত। তবে যা বলার তা সরাসরি বলতেই ভালবাসি। তাই এই করুন ও লজ্জাস্কর কথাগুলো সরাসরিই বললাম।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×