১.
আলমগীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়। রাজধানী শহরের খুব কাছের একটি শিক্ষা প্রতিস্ঠান। ইট পাথর কাঠের খাঁচার পরিবর্তে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সবুজ আর নীরবতায় পরিপূর্ণ। নিসর্গের মাঝে শিক্ষালাভের মনোরম সুযোগ খুব কম বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সেই গুটিকয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম।
২.
লোকালয় থেকে দূরের এই শিক্ষাপ্রতিস্ঠানে খুব গোপনীয়ভাবে চলছে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প। মানুষের মাঝে অন্য কোন প্রানীর চরিত্র সংস্থাপনের গবেষনা করছেন কয়েকজন মেধাবী বৈজ্ঞানিক। তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, প্রাথমিকভাবে একজন মানুষের ভিতর ছাগলের চরিত্র সংস্থাপন করা হবে। কারন মূলত ছাগল একটি শান্ত প্রাণী। কোন মানুষের ভিতর ছাগলের চরিত্র সংস্থাপন কার হলে তার স্বভাবে যে পরিবর্তন ঘটবে তা সকলের নিকট বোধগম্য হবেনা। বোধগম্য না হবার কারণ হল মানব সমাজে ছাগলের গুণাবলী সম্পন্ন ব্যক্তির সংখ্যা অনেক।
৩.
গবেষকগণ মানুষ খুঁজতে শুরু করলেন। তারা খুব গোপনে মানুষ খুঁজছেন। কিন্তু গোপন এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ল গুঁজব হয়ে। গুঁজবের উৎস অনুসন্ধান করে এগিয়ে এলেন একজন। এই মহত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিধাবাদী সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠান আন্দোলনে নিবেদিত প্রান এক ছাত্র সংগঠনের সভাপতি। তিনি গবেষকদের জানালেন একমাত্র ছাগল সমাজেই প্রকৃত সুবিধাবাদী সমাজতন্ত্র রয়েছে। তাই তিনি ছাগলের চরিত্র আয়ত্ব করতে চান।
৪.
গবেষকরা সফলভাবে ছাগলের চরিত্র সংস্থাপন করলেন। তারপর তাকে পর্যবেক্ষন করতে শুরু করলেন। প্রথম এক সপ্তাহ কিছুই বোঝা গেলনা। তারপর ধীরে ধীরে ছাগলভাব প্রকাশ হতে শুরু করল। একসময় দেখা গেল সবুজের প্রতি তার অগাধ ভালবাসা। বর্ষাকাল তার প্রিয় ঋতু। কারন জ্ঞানীরা বলেছেন এই বর্ষকালেই ছাগলে বাঘের গাল চাটতে পারে। বর্ষাঋতু এলেই সে বিষন্ন হয়ে বাঘের গাল খুঁজতে শুরু করে। কারনে বিনা কারনে যাকে তাকে গুঁতোতে আসে। অন্য ছাগল প্রকৃতির ব্যক্তিদের সান্নিধ্য সে উপভোগ করে। বিশেষ করে হার্বাল মাদক তথা গাঁজার প্রতি তার প্রকট আকর্ষন।
৫.
সুবিধাবাদী সমাজতান্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিত সংগঠনের সভাপতি অধ্যায়ন করতেন প্রাচীন মানববিদ্য ও এর ক্রমবিকাশ বিষয়ক বিজ্ঞান নিয়ে। ছাগলিয়াফাইং ক্যারেক্টার ইন্সটালেশনের পরে তার অর্জিত বিদ্যা আর ছাগল চরিত্র মিলে এক অদ্ভূত দূরারোগ্য সাইকোলিজিক্যাল ডিসঅর্ডারে সে আক্রান্ত হল । এই সাইকোলিজিক্যাল ডিস অর্ডার তার কাছের লোকরা বুঝতে পারলেও সে তা বুঝতে পারত না।
৬.
গবেষকরা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সাইকোলিজিক্যাল ডিসঅর্ডার-এর বিষয়টি গোপন করে গেলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানান হয়নি। সে একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ সমাপ্ত করলেন। মানুষ এবং ছাগলের দ্বৈত চরিত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরে এলেন রাজধানী শহরে।
৭.
বদি ভাই এককালে সমাজন্ত্র প্রতিস্ঠার জন্য নিবেদিত প্রান কর্মী ছিলেন। কোন এক সমাজতন্ত্রী পার্টির পলিটবুরোর সদস্যও ছিলেন। কিন্তু চরিত্রের ভিতর সুবিধাবাদী তেজ প্রবল হওয়ায় ধীরে ধীরে পূঁজিবাদের পূঁজারী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন। পূঁজার বদৌলতে বদিউর রহমান বদি এখন মিডিয়া মোগল।
বদিউর রহমান বদি মানুষরুপী ছাগল চিনতে ভুল করেননা। তিনি তার একটি গালভরা কিন্তু বানিজ্যের ক্ষেত্রে অলাভজনক প্রকল্পে নিয়োগ দিলেন ঐ ব্যক্তিকে।
৮.
প্রকল্পে নিয়োগ পেয়ে তার ম্যা ম্যা অবস্থা। বাণিজ্যক্ষেত্রে অর্থহীন প্রকল্পটিতে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কেউ কেউ অর্থপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ করার জন্য চেস্টা করলেন। কিন্তু ছাগলিফাইড হওয়ার কারনে তিনি এই সকল ব্যক্তিকে গুঁতোতে শুরু করেন। তাদের দেখলেই ঢুঁস মারবার জন্য এগিয়ে আসেন। বদিউর রহমান বদি ভাই তার কালেকশনে এমন আজব চরিত্রের একজনকে যুক্ত করতে পেরে আনন্দিত হলেন। তবে অনেক খুঁজে মধ্যপ্রাচ্য থেকে একজন রাখাল যোগার করে দিলেন। কারন তিনি জানেন ছাগলের জন্য মারের উপর ওষুধ নাই। অবশ্য ছাগলের বিনোদনের জন্য দেশ থেকেই একজন স্বেচ্ছাসেবী চামচাকেও ম্যানেজ করে দিলেন।
৯.
সবকিছু ভালো চলছে। বদি সাহেবের মত মিডিয়ামোগলের অফিসে চাকুরী। নিজের চাইতে অধিক যোগ্যতার লোকগুলোকে ঢুঁস মারা আর গুতোনো। পেট্রো ডলারের দেশ থেকে রাখালের নির্দেশনা পালন। দেশী চামচার স্বেচ্ছাসেবায় শ্রম। তবুও মাঝে মাঝে ভিতরে কেমন একটা পরিবর্তন অনুভূত হয়। নিজেকে যেন তিনি নিজেই বুঝতে পারেন না।
১০.
দিন শেষে তিনি ঘরে ফিরেন। আয়নার সামনে দাড়ান। তারা চেহারাটা কেমন যেন আস্তে আস্তে পরিবর্তন হয়ে ছাগলের আকার ধারন করে। আগে মাঝে মাঝে হত। কিন্তু এখন নিয়মিত হচ্ছে। নতুন উপসর্গ যোগ হয়েছে। এখন কোন কথা বলতে শুরু করলেই হঠাৎ হঠাৎ "ম্যা...ম্যা"শব্দটি গলা দিয়ে বের হয়ে যায়। তিনি তখন কাশি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেস্টা করেন।
এই বিষয়গুলো তাকে ভাবায়। তিনি কিছুই বুঝতে পারেননা। মাঝে মাঝে ভাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের কাউকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করতে হবে। তারাই বিষয়টির যথাযথ ব্যাখ্যা করতে পারবেন। কিন্তু ব্যস্ততার কারনে তার আর যাওয়া হয়না।
বি: দ্র: এই গল্পটি একটি বিজ্ঞান ভিত্তিক কল্পকাহিনী মাত্র। কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ঘটনার সাথে এই গল্পের মিল কাকতাল মাত্র। তবে কেউ যদি গল্পের নায়কে সাথে তার কোনরুপ মিল খুঁজে পান তবে তা প্রকাশ করুন এবং খোঁজ নিন আপনার শিক্ষাপ্রতিস্ঠানে অথবা এর আশেপাশে কোন গোপনীয় গবেষনা কার্যক্রম চলমান আছে কিনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



