somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুমিতের জন্য রূপকথা: একদিন সব প্রজাপতি সাদা ছিলো..

০১ লা জুলাই, ২০১১ বিকাল ৪:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মুমিতের বয়স তিন পেরিয়েছে। তিন বছর বয়স অতিক্রম করবার পরে নতুন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। প্রতিরাতে ওকে গল্প শোনাতে হয়। গল্প না শুনলে ওর ঘুম আসেনা। এই গল্পটা ওকে বলেছি। ওর খুব ভালো লেগেছে। তাই বারবার বলতে হয়। ভাবলাম ওর খুব পছন্দের গল্পটা লিখেই ফেলি। তাই লিখে ফেলা এবং আপনাদের সাথে শেয়ার করা।

মুমিত: বাবাই, আমাকে কালো প্রজাপতিটার গল্পটা বলোনা।

বাবা: কোন কালো প্রজাপতি বাবাই?

মুমিত: ঐ যে কাল রাতে বললা যে। ঐ যে সব প্রজাপতি সাদা ছিল। আর লক্ষী দুইটা প্রজাপতি ছিল। গুটুল গুটুল সাদা প্রজাপতি।

বাবা: অনেক অনেক দিন আগের কথা। ধরো বাবাই, অনেক দিন আগেরও যে অনেক দিন আগে ছিলো সেই তখনকার কথা। সেই সময় সব প্রজাপতি ছিলো সাদা। ধবধবে সাদা।

মুমিত: ওদের পাখায় অন্য কোন রং ছিলোনা! ওদের কোন রঙিন পাখা ছিলোনা!!

বাবা: না বাবাই। সব প্রজাপতি ছিলো ধবধবে সাদা। সেই ধবধবে সাদা প্রজাপতিরা সাদা সাদা ফুলে উড়ে বেড়াত। সাদা সাদা ফুলের মধু খেত।

মুমিত: শুধু সাদা আর সাদা। আমার গোলা কবুতরের মত সাদা!

বাবা: হুম সোনা। মনে কর প্রজাপতিরা যখন সাদা ছিলো, সেই সময় কোন একটা দেশে সবুজ একটা জঙ্গল ছিলো। সেই জঙ্গলে অনেক বড় বড় গাছ ছিল। সকালবেলা রোদের আলো সেই গাছগুলোর ফাঁক দিয়ে ঘাসে এসে নামতো। আর জঙ্গলের সবার ঘুম ভাঙতো। শুধু পাখিরা রোদ্র আসার আগেই জেগে উঠত।

মুমিত: পাখিদের ঘুম আগে ভাঙতো কেন বাবা?

বাবা: সেটা জানিনা বাবাই। মনে হয় ওরা তারাতারি ঘুমিয়ে যেত। আর সকাল বেলা সূর্যের ঘুম ভাঙাবার জন্য তারাতারি জেগে কিচিরমিচির করত।

মুমিত: তাই বলো। আমি ভাবলাম যে ওরা ঘুমায়ই না। আমার মত লুকিয়ে লুকিয়ে জেগে থাকে।

বাবা: জঙ্গলের বিশাল একটা গাছে ছিল ছোট ছোট দুইটা বাবু প্রজাপতির বাড়ি। ঐ বাড়িতে তাদের সাথে থাকতো একটা বাবা প্রজাপতি। আর একটা মা প্রজাপতি। বাবু দুইটা ছিল গুটুল গুটুল। তাদের পাখাগুলো ছিল নরম নরম। তুলতুলে আর সাদা সাদা।

মুমিত: গাছটা কি অনেক বড় ছিল? নারকেল গাছটার মত লম্বা!

বাবা: হ্যা বাবাই। অনেক বড় ছিল। প্রতিদিন বাবা আর মা প্রজাপতিটা ঘরের বাইরে যেত। বাইরে না গেলে বাবু প্রজাপতিদের জন্য খাবার আনবে কেমন করে! তাই প্রতিদিন সকাল হলেই বাবা আর মা প্রজাপতিটা বাইরে যাওয়ার জন্য পাখা মেলে দিত। বলো’তো বাবাই যাওয়ার আগে ওরা বাবু প্রজাপতিদের কি বলে যেত ?

মুমিত: এ্যাই বাবুরা, তোমরা দুষ্টামী করনা।

বাবা: ঠিক। ঠিক। আর কি বলে যেত?

মুমিত: একা একা বাইরে যেওনা।

বাবা: ঠিক বলেছো। আর কি বলে যেত?

মুমিত: তোমরা লক্ষী হয়ে ঘরে থেক।

বাবা: তুমি দেখি সব জানো। কিন্তু বাবু প্রজাপতিদের সারাদিন ঘরে থাকতে আর ভালো লাগতোনা।

মুমিত: কেন! ওদের বাবাই কি ওদের বেড়াতে নিয়ে যেতোনা?

বাবা: না বাবাই। ওরা সারাদিন ঘরে বসে থাকতো। কারন ওদের পাখাগুলো তখনও সারাদিন উড়বার জন্য পুরোপুরি শক্ত হয় নাই। ওরা বের হলে যদি ওদের পাখি খেয়ে ফেলে!! ওদের পাখাগুলো যদি পানি লেগে ভারী হয়ে আসে!! এইসব ভেবে ভেবে ওরাও ঘর থেকে বের হতনা।

মুমিত: সারাদিন ঘরে থাকতে আমার ভালো লাগেনা। আমার বৃষ্টি ভিজতে ভালো লাগে।

বাবা: ওদেরও ভালো লাগেনা। একদিন ওরা ভাবল যাই কাছাকাছি ঘুরে আসি। খুব বেশী দূরে যাবোনা। এই ভেবেই পাখা মেলে দিল বাতাসে। গাছের পাতারা বলল, “খুব সাবধান”। গাছের ডালেরা বলল “খুব সাবধান”। প্রজাপতিরা বলল, “আমরা খুব দূরে যবোনা। একটু শুধু উড়বো”। ওরা উড়তে শুরু করল।

মুমিত: ওদের পাখা কি নরম নরম ছিলো! আমার হাতের মত?

বাবা: না নরম ছিলোনা। একটু একটু শক্ত হয়েছিল। ওরা উড়তে উড়তে দেখে একটা অনেক বড় কি যেন দাড়িয়ে গাছের পাতা খাচ্ছে। তার লম্বা গলা। লম্বা লম্বা চারটা পা। গায়ে খয়েরী ছোপ ছোপ। ওরা গিয়ে বলল” আঙ্কেল আপনার নাম কি?” গাছের পাতা চিঁবুতে চিঁবুতে বলল “আমার নাম জিরাফ”। তখন বাবু প্রজাপতিটা বলল জিরাফ… লম্বা গলা.. জিরাফ….লম্বা ঠ্যাং…। তোমার নাম জিরাফ…জিরাফ…জিরাফ…

মুমিত: ওরা আগে জিরাফ দেখে নাই। তাই না বাবাই?

বাবা: হ্য বাবাই। ওরা জিরাফ দেখে নাই। হাতি দেখে নাই। জেব্রা দেখে নাই। সব দেখছে আর অবাক হচ্ছে। অবাক হচ্ছে আর দেখছে।

মুমিত: হাতি দেখে ওরা কি বললো?

বাবা: ওরা হাতি দেখে বললো. “কি মোটা মোটা পা। লম্বা শূড়। বড় বড় কান। চোখটা ছোট। হাতির চোখটা ছোট। হাতির চোখটা ছোট।” আর জেব্রা দেখে বলল,” সাদা দাগ..কালো দাগ.. জেব্রা.. জেব্রা..জেব্রা। সাদার উপর কালো দাগ। না..না.. কালোর উপর সাদা দাগ। না..না.. কালো দাগ আর সাদা দাগ জেব্রা..জ্রেবা..জেব্রা…”

মুমিত: আর কি কি দেখলো?

বাবা: অনেক কিছু দেখলো বাবাই। দেখতে দেখতে ওদের খিদে পেয়ে গেছে। ওরা গেল ফুলের মধু খেতে। মধু খেতে গিয়ে দেখে জঙ্গলের সব ফুল সাদা। সেই ফুলেরা তাদের কারো নাম বলল “বেলী’। কারো নাম ‘হাস্নেহেনা’, কারো ‘রজনীগণ্ধা’ বা ‘শিউলী’ বা ‘কাঁঠাল চাঁপা’। সব সাদা সাদা ফুল। সেই ফুলে মধু খেতে খেতে আর খেলা করতে করতে ওদের ঘরের কথা মনেই হলোনা।

মুমিত: একা একা এত বেশী বাইরে থাকা ঠিকনা, তাই না বাবাই?

বাবা: তুমি সেটা জানো। কিন্তু ওরা’তো সেটা জানেনা। ওরা ঘরের কথা ভুলেই গেছে। সূর্যমামা আস্তে আস্তে পশ্চিম দিকে যাচ্ছে আর আস্তে আস্তে বিকেল হচ্ছে। তখন বেলী ফুল বাবু প্রজাপতি দুটোকে বলল,” অনেক হয়েছে এবার ঘরে যাও। একটু পরেই সন্ধ্যা নামবে।”

মুমিত: সন্ধ্যা নামলে অন্ধকার হয়ে যাবে! ওরা ঘরে যাবে কেমন করে?

বাবা: সেই কথা ওরা ভেবেই দেখলনা। ওদের’তো তোমার মত বুদ্ধি ছিলোনা। ওরা উড়তে উড়তে চলে গেল জঙ্গলের শেষ মাথায়। জঙ্গলের শেষে একটা মাঠ। এই মাঠটাকে বলে তেপান্তরের মাঠ। ওরা সেই মাঠের উপর দিয়ে উড়তে উড়তে দেখতে পেল একটা বাগান। সেখানে কত রংয়ের ফুল। এমন রঙিন ফুল ওদের জঙ্গলে দেখে নাই। লাল রংয়ের ফুল, নীল রংয়ের ফুল, হলুদ রংয়ের ফুল, কমলা রংয়ের ফুল, বেগুনী রংয়ের ফুল। কত যে রংয়ের ফুল! সেই ফুলে ফুলে ঘুরতে ঘুরতে ওদের খুব আনন্দ হচ্ছিল। ওরা ঘরে ফিরবার কথা একদম ভুলে গেল।

মুমিত: ওরা কি ঘরে ফিরবেনা! ওদের আব্বু আম্মুর কষ্ট হবেনা!

বাবা: ওরা তো ফুলে ফুলে মধু খাচ্ছে। হঠাৎ করে একটা বড় কালো প্রজাপতি কোথা থেকে উড়ে এল। এসেই বলল,” আমার বাগানে কে মধু খায়রে? আমার বাগানে কে খেলা করে? আমি ওদের পাখা ভেঙে দিব।” এই চিৎকার শুনে বাবু প্রজাপতি দুটো ভয়ে কাঁপতে লাগলো। তখন কালো প্রজাপতিটা বাবু প্রজাপতি দুটোকে বাগানের ভিতরে একটা গাছের অন্ধকার কোঠরে আটকে রাখল। বাবু প্রজাপতি দুটো কান্না করতে করতে বলল, ”আমাদের ছেড়ে দাও। আমরা আর কখনই তোমার বাগানে আসবোনা। তোমার ফুলে ফুলে নাচবোনা। উড়ে উড়ে খেলবোনা।” কিন্তু কালো প্রজাপতিটা একটা বিচ্ছিরি হাসি দিয়ে বলল, “তোদের কত্ত বড় সাহস। আমার বাগানে এসে ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়াস। কাল দুপুর বেলায় সূর্য যখন ঠিক মাথার উপরে থাকবে তখন আমি তোদের নরম নরম গুটুল গুটুল পাখা গুলো ভেঙে দিব।” প্রজাপতি দুটো কান্না করতে লাগল।

মুমিত: ওরা খুব ভয় পাচ্ছে। তাই না বাবাই?

বাবা: প্রচন্ড ভয় পাচ্ছে। যদি ওদের পাখাটা ভেঙে ফেলে তাহলে ওরা উড়বে কেমন করে! বাবা-মার কাছে যাবে কেমন করে! এই দিকে হয়েছে কি শোন বাবাই। বাবা প্রজাপতি আর মা প্রজাপতিটা ঘরে ফিরে দেখে ওদের বাবু দুটো নেই। তখন গাছের পাতা আর ডালেরা বলল বাবু দুটো ঐ দিকে গেছে। বাবা প্রজাপতি আর মা প্রজাপতি ঐ দিকে উড়ে গেল। গিয়ে দেখে একটা জিরাফ পাতা চিবুচ্ছে। জিরাফটা বলল বাবু দুটো ঐ দিকে গেছে। বাবা আর মা প্রজাপতিটা ঐ দিকে গিয়ে দেখে একটা হাতি দাড়িয়ে আছে। ওদের হাতিটা বলল দুটো গুটুল গুটুল বাবু প্রজাপতি ঐ দিকে উড়ে গেছে। ঐ দিকে যেতেই বেলী ফুল বলল তোমাদের বাবু দুটো উড়তে উড়তে বনের শেষ প্রান্তে গেছে। বনের শেষ প্রান্তে দাড়িয়ে ছিলো জেব্রা। জেব্রাটা বলল যে, দুইটা বাবু প্রজাপতি তেপান্তরের মাঠের উপর দিয়ে উড়ে উড়ে গেছে। বাবা প্রজাপতি আর মা প্রজাপতি তেপান্তরের মাঠে ওদের খুঁজতে শুরু করলো। সেই মাঠে থাকতো একটা বুড়ো পাখি। সেই বুড়ো পাখিটা বলল “তোমার বাবুরা দৈত্য প্রজাপতির বাগানে গেছে। দৈত্য প্রজাপতি ওদের বন্দী করে রেখেছে।”

মুমিত: দৈত্য প্রজাপতিটা কি খুব দুষ্ট!

বাবা: এই গল্পের দৈত্য প্রজাপতিটা খুব দুষ্ট। ওর দুটো পাখা কালো বলে ওর নিজের উপরেই খুব রাগ হয়। তাই সাদা সাদা প্রজাপতিদের ধরে ধরে পাখা ভেঙে দেয়।

মুমিত: তারপর বাবা আর মা প্রজাপতিটা কি করল?

বাবা: বাবাই, দৈত্য প্রজাপতির কথা শুনেই বাবা প্রজাপতি আর মা প্রজাপতির ভীষন ভয় হল। তারপর ভাবলো ভয় পেলেও বাবু প্রজাপতি দুটোকে দৈত্য প্রজাপতির হাত থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই ওরা জঙ্গলের সব প্রজাপতিকে বলল ” কাল সকালে আমরা আমাদের বাবু প্রজাপতিদুটোকে আনতে দৈত্য প্রজাপতির বাগানে যাবো। ” তখন সব প্রজাপতি বলল. “তোমার লক্ষী লক্ষী দুটো বাবু। কেন যে কথা না শুনে উড়তে গেল!!! এখন দৈত্য প্রজাপতি আমাদের পাখাও ভেঙে দিবে।” বাবা আর মা প্রজাপতিটা বলল “আমরা বাবুদের আনতে যাবোই যাবো।” এই কথা শুনে অন্য একটা বাবু প্রজাপতি বলল, “আমিও তোমাদের সাথে যাবো।” তখন সব প্রজাপতিরা বলল, “আমরাও তোমাদের সাথে যাব।” সকাল হতে না হতেই সব প্রজাপতি আকাশে তাদের সাদা সাদা পাখা মেলে দিল। ওদের যেতে দেখে হাতি জিজ্ঞেস করল “তোমরা সবাই মিলে যাচ্ছ কোথায়!” প্রজাপতিরা বলল, ”আমাদের বাবু বাবু দুটো প্রজাপতিকে দৈত্য প্রজাপতি আটকে রেখেছে। আমরা ওদের মুক্ত করতে যাচ্ছি।” হাতি বলল আমিও তোমাদের সাথে যাবো।

মুমিত: দৈত্য প্রজাপতিটা কি হাতির চাইতেও বড়?

বাবা: না বাবাই। হাতির’তো কোন দুষ্ট বুদ্ধি নাই। কিন্তু দৈত্য প্রজাপতিটার দুষ্ট বুদ্ধি আছে। এই দুষ্ট বুদ্ধির দিক দিয়ে ও হাতির চাইতে বড়।

মুমিত: ও.. তাই বলো। দৈত্য প্রজাপতির খারাপ মগজটা বড়!!!

বাবা: হা: হা: হা:… খারাপ মগজটা বড়। সাদা সাদা প্রজাপতিদের সাথে হাতিকে দেখে জিরাফ বলল, “হাতি ভাই, কোথায় যাও!” হাতি বলল যে, আমি একটু দুষ্ট প্রজাপতির কাছে যাচ্ছি। দুইটা বাবু প্রজাপতিকে দুষ্ট প্রজাপতি আটকে রেখেছে। তখন জিরাফ বলল, “আমিও যাবো আর জেব্রাও যাবে। আমরা লক্ষী দুইটা প্রজাপতিকে কাল উড়ে যেতে দেখেছি।”

মুমিত: খুব ভালো হবে। দৈত্য প্রজাপতি ভয়ই পাবে। তাই না বাবাই?

বাবা: আমারও মনে হয় ভয় পাবে, বাবাই। সবাই মিলে দৈত্য প্রজাপতির বাগানের সামনে এসে দাড়ালো। তখন দৈত্য প্রজাপতিটা ঘুমোচ্ছিল। বাগানের সামনে এসে বাবা আর মা প্রজাপতিটা বলল,”দৈত্য প্রজাপতি, তোমার অনেক শক্তি। আমরা তোমার সাথে যুদ্ধ করে পারবোনা। তুমি আমাদের বাবু প্রজাপতি দুটোকে ছেড়ে দাও।”
এই কথা শূনে দৈত্য প্রজাপতিটা রেগে আগুন। চোখ না খুলে চিৎকার করে বলল,” আমি কাউকে ভয় পাইনা।একটুও ভয় পাইনা। আমি যাদু করে সবাইকে আমার বাগানের গাছের পাতা বানিয়ে দেব। আমি কাউকে ছাড়বোনা।” বাবা আর মা প্রজাপতিটা আবার বলল, “দয়া করে তুমি বাবু প্রজাপতি দুটোকে ছেড়ে দাও। আজ আমাদের সাথে হাতি এসেছে, জিরাফ এসেছে আর জেব্রাও এসেছে। আমরা তোমার বাগানে আর কখনই আসবোনা।”

মুমিত: তারপর কি বাবু প্রজাপতি দুটোকে ছেড়ে দিলো!!

বাবা: না বাবাই। দুষ্ট প্রজাপতিটা বাবু দুটোকে ছাড়লো না। তখন হাতি আর জিরাফ আর জেব্রা আর সকল প্রজাপতি ঢুকে পড়ল বাগানে। সেই বাগানে বাবু প্রজাপতি দুটোকে খুজতে লাগল। শব্দ পেয়ে চোখ খুলে দৈত্য প্রজাপতি অবাক। এত সাদা প্রজাপতি আজ কোথা থেকে এলো! দৈত্য প্রজাপতিটা ভেবেই পেলোনা। আর তাদের সাথে সত্যি সত্যি হাতি, জিরাফ আর জেব্রা দেখে দৈত্য প্রজাপতিটা ভয়ও পেয়েছে। অনেক অনেক সাদা প্রজাপতি দেখে অবাক হয়ে আর হাতি, জিরাফ, জেব্রা দেখে ভয় পেয়ে দৈত্য প্রজাপতিটা সব মন্ত্র গেছে ভুলে।

মুমিত: হা: হা: হা: এবার ভালো হয়েছে। মন্ত্র আর পড়তে পারবেনা। দুষ্ট মগজ আর দুষ্টামী করতে পারবেনা।

বাবা: সেটাই মনে হচ্ছে বাবা। সাদা প্রজাপতিরা বাবু প্রজাপতি দুটোকে খুঁজে পেলো একটা গাছের অন্ধকার ফোকড়ে। সেখান থেকে বাবা আর মা প্রজাপতি বাবু দুটোকে বের করে আনলো। সবাই মিলে দৈত্য প্রজাপতিটাকে বলল, “এই যে আমরা আমাদের বাবু প্রজাপতিকে মুক্ত করে এনেছি। তুমি আমাদের পাতা বানালে না!”। দৈত্য প্রজাপতিটা রাগে আর লজ্জায় কাঁপতে লাগলো। কিন্তু কোনভাবেই মন্ত্র মনে করতে পারলো না। সবাই আবার বলল, “আমরা এখন তোমাকে একটুও ভয় পাইনা। এই বাগানের রঙিন ফুলের সব মধু আমরা খাবো। আমরা এখানে খেলবো। যদি পারো তবে আমাদের পাতা বানিয়ে দাও।” দৈত্য প্রজাপতিটা কোন মন্ত্রই মনে করতে পারছেনা। সে সব মন্ত্র ভুলেই গেছে। তাই রাগে, দু:খে আর কষ্টে সে কালো কালো বিশাল দুইটা পাখা মেলে উড়ে গেল অনেক দূরে। কত দূরে যে গেল সেই কথা কেউ জানেনা।

মুমিত: বাবু প্রজাপতি দুটো কি করল!

বাবা: বাবু প্রজাপতি দুটো আর সব প্রজাপতি মিলে বাগানে ফুলে ফুলে মধু খেল। খেললো। উড়ে উড়ে বেড়ালো। রাতে ওরা ঘুমোতে গেল। সকাল বেলা ঘুম থেকে জেগে ওরা সবাই অবাক। কাল যে লাল ফুলের মধু খেয়েছিলো তার পাখায় লাল রংয়ের ছোপ আকা। যে হলুদ ফুলের মধু খেয়েছিলো তার পাখায় হলুদ রংয়ের বাহার। আর যে নীল ফুলের মধু খেয়েছিলো তার পাখায় নীল নীল আভা। আর যে লাল আর হলুদ ফুলের মধু খেলছিলো তার পাখায় লাল আর হলুদের কারুকাজ। সব সাদা সাদা প্রজাপতির সাদা সাদা পাখা হয়ে গেছে রঙিন। সেই থেকেই প্রজাপতিরা পেল রঙিন রঙিন পাখা।

মুমিত: টুকটুকে লাল-নীল ঝিলিমিলি ছবি আঁকা পাখা?

বাবা: ঠিক বলেছো বাবাই। তুমি তো অনেক কিছু জানো। তবে যারা ঐ বাগানের মধু খায়নি তাদের পাখা কিন্তু সাদাই রয়ে গেল। তাই এখনও মাঝে মাঝে ছোট ছোট সাদা পাখার প্রজাপতি তোমার জানালায় উড়ে আসে।

মুমিত: কাল আমি যে সাদা প্রজাপতিটা ধরেছিলাম ও মধু খায়নি। তাই না বাবাই?

বাবা: সেটাই মনে হচ্ছে। এখন ঘুমাও বাবা। আর তুমি যদি সেই সাদা প্রজাপতিটাকে ছেড়ে না দিতে তবে সব সাদা প্রজাপতি তোমার স্বপ্নে এসে ওকে ছেড়ে দিতে বলতো। ওরা ভাবতো তুমি একটা দৈত্য প্রজাপতি।

মুমিত: আমি আর প্রজাপতি ধরবোনা। আমি দৈত্য প্রজাপতি হবোনা। আমি তোমার বাবাই প্রজাপতি। তুমি আমার চুলে বিলি কেটে দাও। আমি ঘুমাবো।


আমি মুমিতের চুলে বিলি কাটতে থাকি। এইসব রুপকথা একদিন ওর কাছে অর্থহীন মনে হবে। তাতে কি! পিতা আর পুত্রের এই সব স্মৃতি কথনই অর্থহীন হয়না। তাছাড়া, যাপিত জীবনের এই সব ছোট ছোট ঘটনাগুলোর চাইতে মহামূল্যবান আর কি আছে!!

২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×