somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি অসাধারন প্রেমের গল্প যার পরিনতিটা সাধারন ছিল, আমার ভগ্ন হৃদয়।

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৩:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[আমার প্রথম ভালবাসার গল্প এটি। ধারাবাহিকতা ঠিক রাখতে পারিনাই বলে দুঃখিত, নিজ গুনে ক্ষমা করবেন]

আমার নাম কনা। আমি আমাদের গ্রামের একটি অবস্থাসম্পন্য পরিবারের দুই মাএ কন্যার ছোটটি। আমার বড় বোন কলেজে পড়ার সময় তার কলেজের একজন টিচারের সাথে পালিয়ে বিয়ে করে ফেলে। তারপর থেকেই আমার পায়ে এই শিকল লাগানো হয়, স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। আমার বন্দিশালায় আজ আমি সাত বছর ধরে বন্দি। আগেকার দিনের মতই আমি এখন অসূর্যাস্পর্শী। আমার ঘরের ছোট্ট জানালাটাই ছিল আমার বাইরের দুনিয়ার একমাএ যোগাযোগ।

আমি জানি পুরুষ নামের একটি জাতি আছে, কিন্তু তাদের আমি গত সাত বছর ধরে দেখিনি। তবু আমি একজনকে ভাল না বেশে পারি নি। সেই ভালবাসার গল্পটি আজ আপনাদের বলছি।

সেদিনটা হয়তো অন্যরকম ছিল। আমি বারান্দায় দাড়িয়ে ছিলাম। আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলাম, আমি দেখছিলাম যতদুর দেখা যায়, সেদিন প্রথম আমি তাকে দেখলাম। সে আমাদের বাড়ির সমানের মাঠে দাড়িয়েছিল। আমি প্রথমে দেখিনি। মনে হলো কেও আমার উদ্দেশ্যে হাত নাড়লো। এতো দুরথেকে কে আমাকে হাত নাড়লো? হয়তো রাখাল বা কোন কৃষক? কে সে?

সেদিনের পরে আমি কয়েকদিন বারান্দায় যাইনি। তাকে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। আমি পরের বার বারান্দায় এসে আবার তাকে দেখলাম। সেখানেই! আমাকে দেখেই হাত নাড়লো, না আমি ভুল দেখিনি। আমি পরিষ্কার দেখেছি সে আমাকে হাত নাড়লো। সেই প্রথম পুরুষ সে আমাকে প্রথম হাত নাড়লো।

সে প্রতিদিন দাড়িয়ে থাকতো। যখনই আমি বারান্দায় আসতাম দেখতাম সে আমার বাসার দিকে তাকিয়ে আছে। রোদ-বৃষ্টি-ঝড়, সব সময়ই সে দাড়িয়ে থাকতো। আমি প্রতিদিন দেখতাম, দেখতাম আর দেখতাম। আচ্ছা একটা মানুষ কিভাবে এমন ভাবে দাড়িয়ে থাকতে পারে? কিসের জন্য সে এভাবে দাড়িয়ে থাকে? কিসের আশায়? সেকি আমাকে ভালবাসে?

আমরা পরস্পকে হাত নাড়তাম। আমি ঘন ঘন বারান্দায় আসা শুরু করলাম। আমার ঘরে থাকতে ভাল লাগতো না। আমি ভাবতাম কখন আমি বারান্দায় যেতে পারবো। একদিন সন্ধ্যায় প্রচন্ড ঝড় হলো। সারারাত ঝড় হলো। পরদিন থেকে সে আসে না, বেশ কয়েকদিন তার দেখা নাই। আমি সারাদিন ভাবি, সারারাত ভাবতাম তার কি হলো, সে আসে না কেন, সে অসুস্থ হলো কি না, হাজার প্রশ্ন মনে কিন্তু আমাকে জবাব দিবার মত কেও নাই।

আমি তার কথাই ভাবা শুরু করলাম। সে আসে না, দিন যায়, মাস যায়, সে আসে না। আমি টেনশনে খাওয়া যাওয়া ছেড়ে দিলাম। আমার ঘুম হতো না। অপেক্ষায় দিন কাটে না।

সেদিনটির কথা আমি কখনোই ভুলবো না। সকাল বেলা আমি বারান্দায় এসে দেখি সে দাড়িয়ে আছে। সেদিন আমি বুঝলাম আমি তাকে ভালবেসে ফেলেছি। হা, আমি জানি না কে সে, কিন্তু আমি তাকে ভালবেসে ফেলেছি। আমি বুঝলাম তাকে ছাড়া আমার চলবে না। আমি যাব, আমি তার কাছে যাব। যে করেই হোক।

দরজা খোলা ছিল, বাসার সবাই ব্যস্ত ছিল, আমি ছুটে বের হলাম তার কাছে যাব বলে। আমি দৌড়ালাম, সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে আমি তার কাছে চলে গেলাম। সেই মাঠ, সেই মানুষটির কাছে এতো দিন যাকে নিয়ে ভেবেছি।

কিন্তু সে আমাকে ফিরিয়ে দিল। সে আমার ভালবাসা ফিরিয়ে দিল। আজও সে আমার বাসার সামনে দাড়িয়ে থাকে। দুর থেকে সে আমাকে দেখে, আমি তাকে দেখি। দুজন কে দুজন হাত নাড়ি। সত্যটা হলো সে আমাকে ভালবাসে না।

তবু আমি তাকে ভালবাসি, সে আমার প্রথম ভালবাসা, সে কাঁকতাড়ুয়া।

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৩:৫৩
১৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছাতিম গাছের ছায়ায়

লিখেছেন আবু সিদ, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৩


সূর্যটা আজ যেন আগুনে আগুন। মাথার ওপর তামাটে আকাশ। নিচে তপ্ত পিচঢালা পথ। এই কাঠফাটা দুপুরে একদল কিশোর লক্ষ্যহীন হেটে চলেছে । রনি, রাহাত, ওলি আর আশফাক। তাদের পদক্ষেপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের ওভারব্রীজ

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৪

বেশ অনেকদিন আগের কথা। আমি কোন এক দুর্ঘটনায় পা এ ব্যাথা পাই। হাসপাতালে ইমারজেন্সি চিকিৎসা নেই। কিন্তু সুস্থ হতে আরো অনেক দেরী। সম্ভবত চিটাগাং রোডে (নারায়ণগঞ্জ) এ রাস্তা পার হবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৈচিত্রে ভরা মহাবিশ্ব, তবে মানুষ কেন একই রকম হবে?

লিখেছেন মিশু মিলন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৩৯



এবার শেখরনগর কালীপূজার মেলায় গিয়ে সন্ধ্যার পর ভাগ্নি আর এক দাদার মেয়েকে বললাম, ‘চল, তোদের অন্য এক জীবন দেখাই।’
সরু গলি দিয়ে ওদেরকে নিয়ে গেলাম পিছনদিকে যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×