মাধ্যমিকে পড়ার সময় আমাদের একটা পাঁচ সদস্যের ছোটখাট পঙ্গপাল বাহিনী ছিল। এই পঙ্গপাল বাহিনী ভাল কামের চাইতে আকামে বিশ্বাসী ছিল। এই বাহিনীর সদস্যদের আমি একজন দুর্বল সৈনিক। শক্তিশালী সদস্যরা হল স্বপন, মিজান, পলাশ ও মনজুরুল। এই পঙ্গপালদের যাবতীয় আকামের মূল হোতা ছিল স্বপন, নাহলে মিজান। স্কুলের আশেপাশে বেশ কিছু বসতবাড়ি ছিল। মোটামুটি কলনী টাইপের এলাকা। বাড়ি গুলোতে বেশ কিছু ফলমুলের গাছ ছিল। টিফিনের সময় পার্টটাইম কাজ হলো কার বাড়িতে কোন ফল পেকেছে/ বড় হয়েছে তা হাফিস করা। হয় পেয়ারা, নয়তো আম, জাম, লিচু নচেত ডাব হতো আমাদের টিফিনের খাবার। গাছ বান্দর যাকে বলে এর ওস্তাদ ছিল মনজুরুল। একটা আস্তা বড় ডাব গাছ উঠতে তার সময় লাগত মিনিট খানেক। চুরিতে আমাদের খ্যাতি এতটাই ছড়িয়ে গিয়েছিল যে, এলাকার কারো বাড়িতে ফল চুরির অভিযোগ আসলেই আমাদের পাঁচজনের শাস্তি অবধারিত, চুরি করেছি কি করিনি। শাস্তি দিতেন স্বয়ং হেড স্যার -- তার শাস্তি হলো গোলাকার হয়ে পাঁচজন সবাই সবার কান ধরে রোদে একঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকা। এমনি করে চুরি করে উদর পূর্তি করতে করতে একদিন বিধিবাম। কোন প্রকার ফলফলাদী না পাওয়ায় নববিবাহিত ঢালী চাচার ডাবগাছে চালালাম আক্রমন, গাছটা খুব একটা উচু ছিলনা। মনজুরুল যথারীতি গাছে উঠেছে। চারটি ডাব পাড়ার পর পঞ্চম ডাব পারতে যাবে এই সময় পা পিছলে পড়ে গেল ঢালী চাচার টিনের চাল ওয়ালা ঘরে। চাল ভেঙ্গে মনজুরুল চলে গেল চাচার ঘরের ভিতর। আমরা ভয়ে ভয়ে মনজুরুলের অবস্থা দেখার জন্য বাড়ির ভিতরে গিয়ে ঘরের দোরগোড়ায় পা দিয়ে দেখি চাচা-চাচীর বেশভূষা কেন জানি এলোমেলো। তারা ঘরের এক কোনায় জড়োসরো অবস্থায় দাঁড়িয়ে আর মনজুরুল কোনমতে কোমর চিপে ধরে ঘর থেকে বের হয়ে ম্যারাথন মার্কা ভোঁ দৌঁড় দিল, সেই সঙ্গে আমরাও লাগালাম দৌঁড়। এরপর দু'মাস আর মনজুরুলের দেখা পাওয়া গেলনা। আর আমাদের চরম শাস্তি হলো পরপর তিনদিন একঘন্টা করে স্কুলের মাঠে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকা।
চলবে.....
বি:দ্র: ফটোক টি কার্টুন ছবি "মাদাগাস্কার" এর। যারা দেখেছেন ভাল আর যারা কার্টুন ছবি পছন্দ করেন অথচ দেখেননি তারা দেখে নিয়েন ভাল লাগবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



