বাংলাদেশের চা শিল্প ও চা শ্রমিকরা হুমকীর মুখে। প্রতিকার কী?
( ধারাবাহিক-৯ )
-সৈয়দ আমিরুজ্জামান
চা শিল্পের সংকটঃ
বাংলাদেশে বর্তমানে ফাঁড়িসহ মোট ২৪২ চা বাগান রয়েছে। ২০০০ সালে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়ে ৬টি চা বাগান সৃজনের কাজ শুরু হয়। সর্বশেষ ২০০৩ সালে তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগরাছড়ি ও বান্দরবানে প্রথম পর্যায়ে ৩০০ হেক্টর জমিতে চা চাষের পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী কৃষিভিত্তিক অর্থকরী শিল্পের মধ্যে চা অন্যতম। মানুষের শ্রমভিত্তিক এ শিল্পে চলছে নাজুক অবস্থা। ১৬৬ বছরের পুরনো এ শিল্পের দিকে তাকালে দেখা যায়, অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার অভাবে চায়ের উৎপাদন আনুপাতিক হারে বাড়ে নি। চায়ের গুণগত মান ঠিক রাখা হয় নি। পূর্বের মত আন্তর্জাতিক বাজার ধারবাহিকভাবে ধরে রাখার চেষ্টা ছিল না। চা শ্রমিকরা চরম শোষণ-বঞ্চণার শিকার হলেও চা উৎপাদন লাভজনক নয় বলা হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন? পাঠক, এর উত্তর আমার লেখা এই নিবন্ধেই পাবেন। দেশ চা শিল্প থেকে কাঙ্খিত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারছে না। চা শ্রমিকের অবস্থারও উন্নতি হচ্ছে না। শত শত প্রশ্নের উত্তর নেতিবাচক ছাড়া ইতিবাচক হবে না। আসলেই চা শিল্প একটা হুমকী ও সংকটজনক দুঃসময়ের মুখোমুখি। বাগানগুলোতে অধিকসংখ্যক চা গাছ অতিমাত্রায় বয়স্ক, এর অনেকগুলোই ৫০ বছরের উর্ধ্বে। অতি পুরনো গাছ থেকে উন্নতমানের চা উৎপাদিত হয় না। খরা, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টিসহ প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা তো রয়েছেই। এ ছাড়া আছে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও উন্নত চারার অভাব। অনেক বাগানের মালিক চা আবাদ বা সম্প্রসারণের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা অন্য খাতে ব্যবহার করছেন। বাংলাদেশ চা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর মোট আয়তনের ২·৫ শতাংশ হারে বাধ্যতামূলক চা চাষ সম্প্রসারণ করার কথা। কিন্তু এসব নিয়ম মানা হয় না। বাগানে চা আবাদ সম্প্রসারণ বা নতুন গাছ না লাগিয়ে বাগানে পতিত ভূমিতে রাবার চাষ করা হচ্ছে। যা টি বোর্ডের নিয়ম ও লীজ শর্তের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। ফলে চা শিল্পের অব্যাহত বিকাশ-উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লোডশেডিংয়ের জন্যও চা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিংয়ের কারণে কাঁচা চা পাতা পঁচে নষ্ট ও চায়ের গুণগতমান খারাপ হচ্ছে। দিন দিন বাংলাদেশের চা আন্তর্জাতিক বাজার হারাচ্ছে। গড়ে ৩·৫ শতাংশ হারে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ছে। একের পর এক চা বাগান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ৪৪টি চা বাগান রুগ্ন শিল্প হিসেবে চিহ্নিত। এরমধ্যে ২১টি বাগানে চা উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ। ব্যাপক হারে বাগান থেকে ছায়াবৃক্ষ চুরি হওয়ায় চায়ের উৎপাদন ও মান ক্রমাগত কমছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০১৫ সালের মধ্যে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশকে চা আমদানী করতে হবে। এটা আমাদের দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক আঘাত।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ২:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



