আমাদের অনেকের বাসা-বাড়িতেই কাজ করার জন্য গরীব ছেলে কিংবা মেয়ে অথবা বয়স্ক মহিলা থাকেন। অভাবের তাড়নায় শুধু মাত্র পেটের দায়ে তারা মানুষের বাসা-বাড়িতে কাজ করে বেড়ান সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে। কিন্তু এই সব গরীব মানুষরা কি সামান্য শান্তি পান? পান একটু স্বস্তি?
বাংলাদেশের সমাজে যাদের আর্থিক অবস্থা একটু ভাল, প্রচুর আয় রোজগার আছে তারাই কাজের লোক রাখেন এবং বলতে আমার সামান্যতম দ্বিধা নেই যে, আজ প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কাজের লোকেরা খুব অমানবিক নির্যাতনের শিকার। এই সব নির্যাতনের বেশীর ভাগই খবরের কাগজে আসে না। গণমাধ্যম এখানে অনেক ব্যর্থতার পরিচয় দেয়।
তবে কাজের লোকেরা বেশীর ভাগই যেহেতু কিশোরী তাই তাদের উপরই বেশী চলে নানা ধরনের নির্যাতন। এই নির্যাতনের মূল হোতা হন বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই বাড়ির কর্তী। ঠিক মতো খাবার না দেয়া, পচা ও বাসি খাবার দেয়া, শারিরীকভাবে প্রহার করা, গায়ে আগুনের সেক দেয়া এই সব নির্যাতন চলে এবং এটা করেন বাড়ির কর্তী। ভাবতে কি ভাল লাগে বলুন?
বাড়ির কর্তারাও যে ধোঁয়া তুলশী পাতা তাও কিন্তু নয়। কিশোরী কাজের মেয়েদেরকে যৌন হয়রানি করতে কর্তাদের তুলনা মেলা ভার। একাজে বাড়ির স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর কিংবা তরুণটির তুলনাও চলে না । অনেক সময় বাপ-বেটা উভয়েই যৌন হয়রানি চলে করে পালাক্রমে।
যে গরীব কিশোর,কিশোরীটি পেটের দায়ে আপনার বাড়িতে কাজ করতে এসেছে তার প্রতি সদয় হোন। বিধাতা আপনাদেরকে অনেক দিয়েছেন। তার মর্যাদা রক্ষা করুন। তাই আসুন, আজই প্রতিজ্ঞা করি, আমরা কখনোই বাড়ির কাজের লোকদের প্রতি নির্মম হব না। আমরা সবাই মানুষ। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। তা সে কাজের লোকই হোক কিংবা বাড়ির মালিকই হোক। সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



