বেশীর ভাগ মানুষই মৃত্যু নিয়ে ভাবে না। বিশেষ করে যারা অনেক ক্ষমতাবান তারা তো নয়ই। যারা রাজনীতি করে, মাস্তানী করে, চুরি করে, ছিনতাই করে, মানুষের টাকা পয়সা আত্নসাত করে, মানুষের ক্ষতি করে তারা তো মনে করে এ জীবন যেন চিরদিনের। যে কোন সময় চলে যেতে পারে ক্ষমতা। পৃথিবীতে অনেক বড় বড় রাজা মহারাজা ছিলেন। বীর ছিলেন। অনেক ধনবান লোক ছিলেন। তাদের কেউ আজ আর নেই। তাহলে কেন এতো অন্যায় আর খারাপ কাজ হতে থাকে মানুষের হাতে? যাদের জন্ম হয়েছে তাদের মৃত্যু হবে এতে কোন ভুল নেই। কবি বলেছেন- জন্মিলে মরিতে হবে/ অমর কে কোথা কবে?
কবি গুরু বলেছেন- মরণরে তুহু মম শ্যাম সমান।
প্রতিটি ঘটনারই সমাপ্তি আছে। মানুষের জীবন অনেক ঘটনা বহুল। মৃত্যু সে ঘটনা বহুল জীবনের সমাপ্তি ঘটায়। মানুষ সারা জীবন যা কামাই করে মৃত্যুর পর পরই তা সব হাত ছাড়া হয়ে যায়। সমাজ তাকে মৃত্তিকার নীচে গ্রথিত করিয়া রাখে। এই পৃথিবীতে তাহার আর কোন স্থান নাই।
আমার স্কুল জীবন তখন শেষ প্রায়। এক দিন জাবেদ আলী স্যার বললেন- তোমরা বলতো পৃথিবীর সব চেয়ে আশ্চর্য জিনিস কি?
আমি বরাবরই কিছুটা বোকাসোকা মানুষ। আমি কি করে জানব যে পৃথিবীর সব চেয়ে আশ্চর্য জিনিস কি?
আমাদের মধ্যের কোন এক জ্ঞানী ছেলে ঠিকই বলে ফেলল- স্যার, মৃত্যুই পৃথিবীর সব চেয়ে আশ্চর্য জিনিস।
জাবেদ আলী স্যার বললেন- তোমার উত্তর আংশিক সঠিক হয়েছে। পুরোপুরি সঠিক হয়নি।
আমি বললাম- স্যার, তাহলে সঠিক উত্তরটি কি?
স্যার বললেন, জন্মিলে মরিতে হবে। এটা সত্য। কিন্তু এই যে চরম সত্য মৃত্যু এই জিনিসটা আমাদের কারো মনে থাকে না। মানুষ কত খারাপ কাজ করছে। সামান্য লাভের জন্য খুন খারাবী পর্যন্ত করছে। কিন্তু তার যে মৃত্যু হবে যে কোন সময় এটা কেউ মনে রাখে না। ভুলে যায় । আর এটাই পৃথিবীর সব চেয়ে আশ্চর্য ঘটনা।
আজ জাবেদ আলী স্যার আর আমাদের মাঝে নেই। অনেক আগেই তিনি চলে গেছেন আমাদের পৃথিবী থেকে। তার কথাটি তো আসলেই অনেক সত্য। আমরা তো কেউ মৃত্যুকে মনে রাখি না। যদি মনে রাখতাম তাহলে তো কেউ কোন অন্যায় কাজ করত বলে আমার মনে হয় না।
মৃত্যু মহাসাম্য সংস্থাপক। ধনী গরীব সবাইকে এক কাতারে নিয়ে আসে। মৃত্যুর পর যদিওবা কারো কপালে মাটি জুটে কারো কপালে জুটে না। কিন্তু পরিনাম সবারই এক । সবাইকে মাটিতে মিশে যেতে হয়। যে মাটি দিয়ে মানুষ তৈরী সেই মাটিতেই বিলীন হয় তার দেহ।
১৯৯৪ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত আমি যখন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখন ঈশা খাঁ হলে রেজাউল নামে আমাদের এক জন সহপাঠী থাকত। অনেক সহজ সরল ভাল ছেলে। পড়াশোনা শেষে সে সাব-রেজিস্ট্রার হিসাবে চাকরিতে যোগ দেয়। মাত্র ক-দিন আগে জানতে পারলাম ২০০৬ সালের শেষের দিকে কিংবা ২০০৭ সালের প্রথম দিকে সে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
হায় রে মানুষের জীবন! এই জীবনে আমরা কেউ রাজনীতি, চুরি, ছিনতাই, মাস্তানী, রাহাজানি এহেন কোন কাজ নাই যা করি না। কিন্তু এক বারও ভাবি না এ জীবন কয় দিনের। শ্বাস বন্ধ করলেই তো আর কোন দাম নাই। এ মানব জীবন যেন নিশার স্বপন। এ মানব জীবন যেন পদ্ম পাতার শিশির বিন্দু।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


