আমাদের অনেক কাছের একটি দেশ হলেও দেশটি সম্পর্কে অনেকেই হয়তো তেমন কিছু জানি না। ২০০৭ সালে এখানে আসার পার অনেক দিন পার হয়ে গেছে। দেশে চলে যাবার সময় আসছে। আমি নিজে যেহেতু এখানে থাকি তাই শ্রীলংকা নিয়ে বেশ কিছু পোস্ট দেবার ইচ্ছে পোষণ করছি।
কলম্বো এয়ারপোর্টে নেমে আপনি যদি ১৫০ রুপী মূল্যে Explore Sri Lanka নামের একটি ম্যাগাজিন যা এয়ারপোর্টে পর্যটকদেরকে বিনামূ্ল্যে দেয়া হয়; হাতে তুলে নেন তাহলে দেখতে পাবেন দেশে পর্যটকদের প্রতি আহ্বান বাণী: “Explore Sri Lanka -once discovered, you must explore”। আবার দেখবেন দেশের প্রতি তাদের মমতাপূর্ণ বাণী : Sri Lanka- A land like no other.

শ্রীলংকার মানটিত্রঃ এতো ছোট্ট দেশেও ৯টি প্রদেশ!
Bandaranayake International Airport -এ। মুল কলম্বো শহর থেকে এটি ৩৫ কি.মি. দূরে। টার্মিনাল বিল্ডিং থেকে বের হয়েই বুঝা গেল বাইরের গরমের সে কি দাপট।পরে শুনলাম এখানে সারা বছরই গরম। কোন শীতকাল এখানে নেই। দুইটই ঋতু- গ্রীষ্ম আর বর্ষা।
দেশের মানুষের সাথে বাংলাদেশের মানুষের অনেক মিল রয়েছে। কি গায়ের রং কি উচ্চতায় সব কিছুই বাংলাদেশের মতো। কেবল মিল নেই ভাষায়। তবে দুরত্বে ব্যবধান না থাকলে ভাষার অমিল খুব থাকত বলে মনে হয় না। কারণ সিনহালা ভাষার অনেক শব্দের সাথে বাংলা শব্দের বেশ মিল দেখা যায়। যেমন-গাছ,হাত,কান ইত্যাদি অনেক শব্দই বাংলার কাছাকাছি।
এবার প্রথমে সংক্ষেপে দেশটির পরিচয় দিয়ে নিই।
দক্ষিণ এশিয়ার বৃত্তম দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলংকা। আয়তন ২৫,৩৩২ বর্গমাইল বা ৬৫,৬১০ কিমি । আয়তনের দিক দিয়ে এটি বিশ্বের ১২১ তম দেশ। আযতনে ছোট হলও দেশটিতে ৯ টি প্রদেশ রযেছে। প্রদেশগুলোর আবার রয়েছে আলাদা সরকার। জেলা মাত্র ২৫ টি। ১৯৪৮ সালে বৃটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে সিলন (Ceylon) নাম নিয়ে।

শ্রীলংকার জাতীয় পতাকাঃ
১৯৭২ সালে এর নতুন নামকরণ করা হয় শ্রীলংকা (Democratic Socialist Republic of Sri Lanka )। ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়। প্রেসিডেন্ট সব চেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। বাংলাদেশের মতো এখানেও পরিবারতান্ত্রিক গণতন্ত্র চলছে।

শ্রীলংকানদের জাতির পিতা ও প্রথম প্রধানমন্ত্রী মিঃ ডন স্টিফেন সেনানায়েকে
বর্তমান লোক সংখ্যা ২০.২ মিলিয়ন (ইউএন, ২০০৯). প্রধান ভাষা সিনহালা, তামিল ও ইংরেজি। প্রধান ধর্মীয় জনগোষ্ঠী হচ্ছে’ বৌদ্ধ ৬৯.১%, হিন্দু, ৭.১%মুসলিম ৭.৬%ও খৃস্টান ৬.২% অন্যান্য ১০% । শিক্ষার হার ৯০.৭%।

শ্রীলংকার পার্লামেন্ট ভবন।
দেশটির উন্নয়নের অনেক সম্ভাবনা থাকলেও ৩০ বছরের গৃহ যুদ্ধের কারণে অনেক পিছিয়ে পড়েছে। তবে আশার কথা গত বছর সমাপ্তি ঘটেছে রক্তাক্ত সেই গৃহযুদ্ধের। ফলে এই দেশটি এখন তরতরিয়ে উঠে যাবে উন্নতির দিকে। কেননা, এদের জন সংখ্যা একটি সহনীয় মাত্রায় রয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে যথেষ্ট সততা রয়েছে। সততার বড় অভাব আমাদের দেশে। এখানে অত অভাব নয।

শ্রীলংকার র্ব্তমান প্রেসিডেন্ট মিঃ মাহিন্দা রাজাপাকসে- গত বছর নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচনে আবার ৬ বছরের জন্য নির্বাচিত।
জাতীয় সংগীত।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০১১ বিকাল ৩:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




