আমার প্রিয় পোস্ট

মা, তুমি কেন আমাকে তোমার ক্ষিধের গল্প শোনালে?

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২১

শেয়ারঃ
0 18 0

অফিস থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং টেবিলে বসেছি, নানা প্রকারের খাবার টেবিলে, বেশ ক্ষিধে পেয়েছে... কিন্তু আমি মুখে খাবার দিতে পারছিনা, আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে, কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে। না, আমি এখন আর খেতে পারবোনা, আমার মায়ের মুখটা বারবার মনে পড়ে যাচ্ছে।মা তুমি কেন আমাকে তোমার ক্ষিধের গল্প শোনালে? খেতে বসলেই আমার ক্ষিধে মরে যায়, আমি আর খেতে পারিনা । পেটে প্রচন্ড ক্ষিধে নিয়ে আমি খাবার টেবিলে বসে থাকি...

আজ মায়ের চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক, পৃথিবীটাকে আজ স্বর্গের মতো মনে হচ্ছে। এ রকম একটি দিন যেন তার আজন্মের স্বপ্ন, কত যুগের লালিত কল্পনা শত সহস্র রুপে আজ যেন বাস্তব হয়ে উঠছে, সুখ..... শুধুই সুখ।তার সব ছেলেরা, ছেলের বউরা, নাতি-পুতি সবাই বাড়ীতে এসেছে। সরগরম পুরো বাড়ী।কোরবানীর ঈদ আজ, কোরবানীর গরু নিয়ে ছোট ছোট নাতিদের সেকি উত্তেজনা, ষাড়টাও জানি কেমন করে একদিনেই ওদের আপনজন হয়ে গেছে, সেটার গা ঘেসে দাড়িয়ে ছবি তুলছে ৩ বছরের রামি কিন্তু কোন প্রকার ফোঁসফাস নেই। মা দেখেন , সুখ....... আহারে , মায়ের চোখ বুজে আসে।

আজ অতীতটা খুব বেশী মনে পড়ে যাচ্ছে। বড় সংসারে যা হয় আর কি, সাত ছেলে মেয়ের সংসারে নুন আনতে পানতা পুরায় , তার মধ্যে বড় ৪ টি ভার্সিটি আর কলেজে , ছোট ৩ টি স্কুলে। এদের পড়াশোনার খরচ , জামা কাপড়, আর অন্নের সংস্থান করতে বাপের ঘাম ছুটে যায়, তার মুখের দিকেই তাকানো যায়না। ঈদ যেন সেখানে একটা উৎপাত হিসেবেই আসে, নতুন জামা কাপড় কেনাটা যেখানে বিলাসিতা মনে হয় সেখানে কোরবানী যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।

ঈদ আসে, মায়ের দুশ্চিন্তা বাড়ে, কিভাবে কি করবেন ? "কোরবানী আত্মার শুদ্ধতা আনবে , মনের সব কালিমা দুর করবে , রক্ত মাটিতে পড়ার সাথে সাথে বেহেশতের দরজা খুলে যাবে " না, হুজুরের এই বয়ান মায়ের মনে খুব একটা রেখাপাত করেনা। তার ভাবনা জুড়ে অসহায় ছেলে মেয়ের বুভুক্ষ চোখগুলো বড় করুন হয়ে ভেসে উঠে। চাচারা কোরবানীর গরু কিনে এনেছে , কোরবানী হবে কিন্তু সাত নামের একটা হওয়ার ও যে সামর্থ তার নেই। ঈদের দিনটাকে মায়ের অনেক লম্বা মনে হয়, আশে পাশের ঘর থেকে টাটকা রান্না করা মাংসের তীব্র গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, মায়ের বমি আসে , বুকের ভেতরটা চিন চিন করে, চোখ কোন বাধা মানেনা, যেন বুকের সব কষ্ট একসাথে বের হয়ে আসে। ছোট ছেলেটার মুখের দিকে মা তাকাতে পারেননা, শাক সবজি দিয়ে ছেলেটার পাতে ভাত তুলে দেন। তার আজ মরে যেতে ইচ্ছে করছে। এক টুকরো মাংস যদি ওদের পাতে দিতে পারতেন....... কিভাবে দিবেন ? তার তো সাত ছেলেমেয়ে, এক মুখ সোনা দিয়ে ভরা যায়, সাত মুখ নাকি ছাই দিয়েও ভরা যায়না- তার শাশুরী প্রায়ই খুটা দেন।চোখে বিশাল শুন্যতা নিয়ে মা বিছানায় গা এলিয়ে দেন, চোখ আর কতটা পানি ঝরাতে পারে , তার চেয়েও বেশী বুকের রক্তক্ষরন।

আম্মা দেখেনতো এই শাড়িটা আপনার পছন্দ হয় কি না? মেঝো ছেলের কথায় কিছুটা কেঁপে উঠেন মা। এক ঝটকায় বাস্তবে ফিরে আসেন। তোরা কি আমাকে শাড়ী দিয়ে মুড়িয়ে ফেলবি নাকি? এক ঈদে ৪ টা শাড়ী লাগে নাকি? মায়ের কন্ঠে কৃত্তিম অভিমান।বুকের ভেতর একটা আনন্দের ঝিলিক উঠে, সব গুলি ছেলে মেয়েই মায়ের জন্য এটা সেটা নিয়ে এসেছে, সুখ....... শুধুই সুখ।

কোরবানী হয়ে গেছে। আত্মীয় স্বজন, গ্রামের গরীব দুখী আর ফকির মিসকিনদের মধ্যে মা নিজ হাতে মাংস বিলি করেন, রান্না বান্নার দায়িত্ব বড় বউ এর হাতে দিয়েছেন, সারা বাড়ীতে আনন্দের হুল্লোড়, বাতাসে পোলাও আর মাংসের তরকারীর মৌ মৌ গন্ধ।সবাই খেতে বসেছে, কি সুন্দর !!! যেন স্বর্গ !!! মায়ের চোখ জুড়িয়ে যায়। সুখ........ শুধই সুখ।

সন্ধ্যা নামে, বড় দুই মেয়ে এবং তাদের জামাইরা আসে। বাড়ী ভরপুর, মায়ের বুকে আনন্দের শিহরন।

খাটে হেলান দিয়ে মা বসেন, অনেকটা রাত হয়েছে, এটা সেটা নিয়ে গল্প গুজব হচ্ছে, সবাই যেন আজ পুরনো দিনের কথামালার ঝাপি নিয়ে বসেছে, একজনের শেষ হয় তো আরেকজনের শুরু। মা শোনেন, পুরনো দিন গুলো তার চোখে ছবির মতো ভেসে উঠে। কষ্ট........ সীমাহীন কষ্ট করে তিনি ছেলে মেয়েগুলিকে মানুষ করেছেন। কত কষ্টই না করেছেন, আচ্ছা ওরা আমার কষ্টের কতটাই জানে? মনে মনেই মা নিজেকে প্রশ্ন করেন ? না, ওরা অনেক কিছুই জানে কিন্তু পুরোটা নয়।

আমি আজ তোদের একটা কথা বলবো, কোন দিন কাউকে বলিনি এমনকি তোর বাপকে ও না। সবাই কথায় মনোযোগ দেয়, আমি মায়ের মুখের দিকে তাকাই, না সেখানে সুখের ছিটেফোটাও নেই।চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ। সেই সব দিন যেন একলাফে তার চোখে হাজির হয়.....

"আমি তোদের সবার পাতে খাবার দিতাম, চাইতাম তোদের পেট যেন ভরে। তোদের সবার খাওয়া শেষ হলেও অপেক্ষা করতাম যদি কারো আবার খেতে ইচ্ছে করে, তখন কোথা থেকে খাবার দিবো? তাই হাড়ির তলায় অবশিষ্ট কিছু ভাত সামনে নিয়ে বসে থাকতাম।" এতটুকু বলে মা থামেন, যেন পরের কথা গুলো গুছিয়ে নিচ্ছেন, আমরা সবাই মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছি, কারো মুখে কোন কথা নেই, চোখ ছলছল.....

“তার পর আমি ভাত খেতে বসতাম, সামান্য একমুটো ভাত মুখে দেওয়ার সাথে সাথে রাজ্যের সব ক্ষুধা আমার পেটে ভিড় করতো, মনে হতো পেট পুরে খাই কিন্তু হাড়ি যে খালি, ক্ষিধেয় চোখে পানি এসে যেতো"

না, মা আর বলতে পারেন না, আমি যে কাঁদতে শুরু করেছি, আমার বুক ফেটে যাচ্ছে, সব খাবার একসংগে পেট থেকে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে, নিজেকে খুব স্বার্থপর মনে হচ্ছে , নিজের সমস্থ সুখ স্বপ্নকে পিষে ফেলতে ইচ্ছে করছে। আমার মুখে আর কোন কথা ফুটেনা , কেবলি মরে যেতে ইচ্ছে করছে.......

 

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১০:৫৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩০
চতুষ্কোণ বলেছেন: মা মা মা মা মা মা মা মা মা মা মা মা মা মা মা মা মা মা মা মা মা মা মা মা মা মা মা............................................................
০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৪

লেখক বলেছেন: মা, শুধুই কষ্ট যার নিয়তি।

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৪

লেখক বলেছেন: তাই? জীবনটা এমন কেন?

৩. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪০
চতুষ্কোণ বলেছেন: বাসার ভাই আপনার লেখাটা খুবই টাচি। মায়েরা এমন কেন হয়!! কেন মায়েদের সমস্ত পৃথিবী জুড়ে শুধুই তাদের সন্তানেরা
০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৬

লেখক বলেছেন: চতুষ্কোণ , চতুর্দিকে মায়েরা নিজেদের ক্ষয় করে আমাদের পুর্ণতা দেয়, কি পায় তারা?

৪. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৩
ক্লান্ত দুচোখ বলেছেন: ...কয়েক বার ট্রাই করেছি, মনের ভাব প্রকাশের একটা নিখুত বাক্য খুজে বের করার জন্য...


সরি বাসার, পারলাম নাহ। মা দের কথা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।
০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১০

লেখক বলেছেন: ক্লান্ত দুচোখ, মায়ের কথা আমি ও তো পুরোটা জানি না।

৫. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১২
ত্রিশোনকু বলেছেন: অসম্ভব কষ্ট লাগলো।
০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২৮

লেখক বলেছেন: আমার ও যে খুব কষ্ট লাগে। কি করবো বলেন? মা, আমাদের কখনোই তার কষ্ট টা বুঝতে দেন নি।

৬. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:১৬
সাব্বির হোসেন শুভ বলেছেন: অসম্ভব খারাপ লাগল আপনার লেখাটা পড়ে। মেয়েদের আর মায়েদের মধ্যে এটাই পার্থক্য। একজন মেয়ে যখন মা হয়ে যান তখন তার পুরটা অস্তিত্য জুড়ে থাকে তার সন্তান।
পৃথিবীর সব মায়ের জন্য প্লাস।
০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:০৬

লেখক বলেছেন: শুভ , পৃথিবীর সব মায়ের জন্য প্লাস। কমেন্টসটা খুব ভাল লাগলো।

৭. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৬
এস এম শাখওয়াত আহমেদ বলেছেন: সত্যিই মার জন্য কিছুই করতে পারিনা।
মা শুধু আমাদের জন্য কষ্টই করেন বিনিময় আমরা বকাঝকা ছড়া আর কিছুই দিনা। মা বাবার নিকট থেকে ও বকাঝকা শোনেন আবার সন্তান দের কাছ থেকে ও.....................................
হায়রে মা মা....................মা........................................মা......................
আমাদের মাপ করে দিও।
০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৫

লেখক বলেছেন: কিছু মানুষরুপী পশু এই পৃথিবীতে আছে, যারা মাকে সম্মান করতে জানেনা, মায়ের সংগে খারাপ আচরন করে.........

আমাদের মাফ করে দিও, মা।

৮. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৪৩
এখন ও বৃষ্টি ভালবাসি বলেছেন: আমার এই প্রথম ব্লগের কোন লেখা পড়ে চোখে পানি আসল ।

মা ভাল থাকুক ।
১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪২

লেখক বলেছেন: হ্যা, মা ভালো আছেন।

আপনি ভাল থাকুন।

৯. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫৫
অলস ছেলে বলেছেন: মন্তব্যে এত আবেগে পুতুপুতু হইয়েন না। লেখা চমৎকার হইছে। চমৎকার। সুখের দিনে অতীত দু:খের সময়ের কথা যারা মনে রাখে তারা ভালো মানুষ। সত্যিকারের মানুষ।
০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২০

লেখক বলেছেন: ক্ষেপলেন কেন? কমেন্টস এর জন্য ধন্যবাদ।

১০. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৫
কালপুরুষ বলেছেন: মায়েরা এমনি হয়- যদি তেমন কোন দজ্জাল সৎ মা না হয়।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১৬

লেখক বলেছেন: দাদা, কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ।

সৎ মা সম্পর্কে ধারনা খুব সামান্যই। জানিনা ওনারা কেমন হন।

ভাল থাকুন।

১১. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৮
হোদল রাজা বলেছেন: দারুন!

আমার মা ১৬ বছর ঈদে শাড়ি নেন নাই! আমাদের জেনারেশন এমনে ডেডিকেশন নিয়ে থাকতে পারবো?

আবার ধন্যবাদ চমৎকার পোষ্টের জন্য। আপনার মাকে সালাম
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৩

লেখক বলেছেন: আপনার মাকে ও সালাম। আসলে উনাদের মত মা আছেন বলেই আমরা বেচে আছি।

১২. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫৩
আকাশ_পাগলা বলেছেন: দারুণ লিখছেন বস।
আসলেই দারুণ।
অসাধারণ।

অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৫

লেখক বলেছেন: আকাশ_পাগলা , তুমি অনেক ভালো লিখো।
কমেন্টস এর জন্য ধন্যবাদ। ভাল থেকো।

১৩. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫৫
তারার হাসি বলেছেন:
মা
মা
মা
মা
মা
মাগো !!
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
মা, সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ।

১৪. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৬
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন:
কমেন্ট করবো? কি করবো?
চোখ ভিজে যাবার মত একটা লেখা, বা লেখার পেছনের মানুষদের অনুভূতিগুলো .।

শ্রদ্ধা , মাকে, মায়েদের.।।
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৯

লেখক বলেছেন: আপনার অনুভুতির জন্য ধন্যবাদ।

শ্রদ্ধা , মাকে, মায়েদের.. খুব চমৎকার কমেন্ট।

ভাল থাকুন।

১৫. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৮
যীশূ বলেছেন: আমাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারে এমন দুঃসময় বোধহয় সবারই আসে।
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৬

লেখক বলেছেন: যীশু , আপনার সাথে সহমত। জীবনের খেলা বড়ই অদ্ভুত।
ভাল থাকুন।

১৬. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৫৫
হাসান মাহবুব বলেছেন: মায়েরা এত ভালো হয় কেন? সব মা'ই একরকম তাইনা? আমার মা.. আপনার মা, তার মা..সবাই। নারীজাতি খুব ভাগ্যবতী যে তারা মা হতে পারে
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩১

লেখক বলেছেন: মায়েরা সব এক রকম, একদম সত্যি।

সুন্দর কমেন্টস এর ধন্যবাদ।

১৭. ২১ শে মার্চ, ২০১০ রাত ২:৫৩
হ্যামেলিন এর বাঁশিওয়ালা বলেছেন: আপনি ভাল মানুষ। আপনি ভাল মানুষ। ভাল মানুষ।
২১ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:২৫

লেখক বলেছেন: এতটা ভালো আমি নই, যতটুকু আপনি লিখলেন।

হ্যা, সব মায়েদের গল্প প্রায় আমার মায়ের মতোই। হয়তো বাস্তবতার কারনে একটু এদিক সেদিক হবে।

লেখাটি আমি তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় লিখেছিলাম, যতটা গুছিয়ে লেখা দরকার ছিলো তার প্রায় কিছুই হয়নি। তবু ও মাকে নিয়ে লিখতে পেরেছি, সেটাই স্বান্তনা।

পুরনো লেখায় কমেন্ট করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

ভালো থাকুন।

১৮. ২১ শে মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৭
ই য়া দ বলেছেন: আপনার এই লেখার লিংক আমার একটা লেখায় দিয়েছি। এমন ভালো লেখা যেন কারো চোখ এড়িয়ে না যায়।

হামা ভাইয়ের কমেন্টটা সুন্দর হয়েছে।

ভালো থাকবেন।
২১ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১১:০৬

লেখক বলেছেন: ইয়াদ অনেক ধন্যবাদ। সামুতে এখন প্রথম পেজে লেখা খুব কম সময় থাকে। প্রচুর ব্লগার এবং অসংখ্য পোষ্ট। কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ সেটা বুঝার আগেই ফার্স্ট পেজ আউট।

আবারো ধন্যবাদ দিচ্ছি , কেননা আপনি আমার এই লেখাটির লিংক আপনার পোষ্টে দিয়েছেন। আপনার ব্লগ ঘুরে এলাম কিন্তু লিংকটি পাইনি। যদি সম্ভব হয় , আপনার পোষ্টের লিংকটি দিয়ে যায়েন।

ভালো থাকুন।

১৯. ২১ শে মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৮
সুরঞ্জনা বলেছেন: খুব সুন্দর করে মনের ভাব প্রকাশ করেছেন।
আমি ও কোন ঈদে শাড়ী কিনিনি।
আপনার মাএর মত আমার সন্তানেরা আমায়
কাপড় দিয়ে মুড়ে দেয়। কি করে বোঝাই ওদের,
কাপড় নয়, ওদের ভালবাসা, ওদের ভাল থাকাটাই
একজন মায়ের সুখ।
আপনার জন্য একজন মা হিসেবে আমার অনেক দোয়া রইলো।
২২ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১২:৩৫

লেখক বলেছেন: সুরঞ্জনা বলেছেন: আপনার জন্য একজন মা হিসেবে আমার অনেক দোয়া রইলো ।

অনেক অনেক শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা আপনার জন্যে। আপনারা মানে মায়েরা আমাদের জন্য নিজের সবটুকু বিলিয়ে দেন কিভাবে? যতই ভাবি ততই অবাক হই।

কোথায় জানি পড়েছিলাম, মা হতে কোন যোগ্যতা লাগেনা, মা মানেই সব শেষের ঠিকানা, সব।

ভালো থাকুন সব সময়, সব খানে।

২০. ২২ শে মার্চ, ২০১০ রাত ৩:৫৫
ই য়া দ বলেছেন: Click This Link

২০ নং মন্তব্যে দেখুন।
২২ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ৮:৩৩

লেখক বলেছেন: ইয়াদ, অনেক ধন্যবাদ।

২১. ২২ শে মার্চ, ২০১০ বিকাল ৩:০৩
কীির্তমান বলেছেন: এমন লেখা কেন লেখেন ভাই....যা পড়লে চোখের পানি আটকানো যায় না?
২২ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১১:২৯

লেখক বলেছেন: সরি, আপনাদেরকে কষ্ট দেবার জন্যে। আসলে আমার এই লেখাটি তাৎক্ষনিক আবেগের বশে লেখা।

যে মাকে আমি চিনতাম, তাকে হঠাৎ করেই অন্যভাবে চিনতে পারলাম!!!

সে সাধারনত নিজের দুঃখ কষ্ট কখনোই আমাদেরকে বুঝতে দিতনা। কিন্তু সেদিন কেন যে নিজের কষ্ট টা বলে ফেললো। আর আমিও নিজেকে সামলাতে না পেরে ব্লগে সেটা লিখে ফেলি।

ধন্যবাদ , ভালো থাকুন । শুভ কামনা রইলো।

২২. ২২ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১১:৩৯
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন ।

আর কিছু বলতে পারলাম না :(
২৩ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১২:০০

লেখক বলেছেন: চমৎকার কিনা বলতে পারবোনা, তবে অনুভূতিটা বোধ হয় প্রকাশ করতে পেরেছি।

আর কিছু বলতে পারলাম না :( .............. বলতে হবেনা, সম্ভবত বুঝতে পেরেছি।

২৩. ২২ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১১:৩৯
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন ।

আর কিছু বলতে পারলাম না :(
২৩ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১০:০৫

লেখক বলেছেন: ডাবল হয়ে গেছে। মুছতে ইচ্ছে করেনি, থাকুক । কি বলেন?

২৪. ২৩ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ৮:৩২
কুল বয় বলেছেন: মায়ের জন্য এত আবেগ দিয়ে লেখা আমি আগে কখনো পড়িনি, হ্যা, আমার মায়ের গল্পটা ও আপনার গল্পের মতোই।

মায়েরা ভালো থাকুক এই কামনা রইলো।
২৩ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৫১

লেখক বলেছেন: আবেগের বশে লিখেছিলাম তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে আপনি যেমন বলেছেন ততটা ভালো ভাবে নিশ্চই লিখতে পারিনি।

লেখার মান আমার কাছে খুব একটা ভালো মনে হয় নাই, তবে কষ্টটা এখনো আমাকে ছুঁয়ে যায়, হয়তো মৃত্যুর আগে আমার এই কষ্ট টা ভুলতে পারবোনা।

ভালো থাকুন আর আপনার মায়ের জন্য শুভকামনা রইলো।

১৪ ই নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫৫

লেখক বলেছেন: কুল বয়, অনেক দিন দেখা হয়না , কোথায়?

২৫. ২৩ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১০:৫৮
করবি বলেছেন:
মা মা মা

চমৎকার লিখেছেন।

২৩ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১০:০৯

লেখক বলেছেন: মায়েদেরকে নিয়ে সব লেখাই বোধ হয় চমৎকার হয়ে যায়!!!!!

ধন্যবাদ।

২৪ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১২:৩৪

লেখক বলেছেন: নেটের স্পিড ? না, স্পিড একদম নাই!!!

তবে সামুর পেজ লোড হতে মনে হয় কয়েক আলোকবর্ষ সময় লাগে।

২৭. ২৫ শে মার্চ, ২০১০ রাত ৯:৪১
নট ডিফাইন বলেছেন: যখন আপনি এই লেখাটি পোষ্ট করেছিলেন তখন আমি সম্ভবত ব্লগে ছিলাম না । ভালো একটা লেখা পড়লাম, জানিনা গল্প নাকি বাস্তব কাহিনী নিয়ে লিখেছেন , তবে বাস্তবতা এর চেয়েও করুন। মায়েরা বরাবর একই রকম, নিজের দুঃখ , কষ্ট , আবেগ কে পাথর চাপা দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যত বিনির্মাণের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যান। ফলাফল, ামরা মানে সন্তানেরা তাদেরকে কিছুই দিতে পারিনা, যদি ও বা তাদের চাওয়াটা অনেক অনেক কম।
২৬ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১০:৪১

লেখক বলেছেন: মায়েরা আসলে ভিন্ন রকমের। যে মেয়েটি উদ্ধত, বদরাগী ইত্যাদি নানা অভিধায় অলংকৃত , সেই যখন মা হয়ে যায়, তখন অবাক করা পরিবর্তন এসে যায়, যেন স্বর্গীয় কমনীয়তা তাকে ছুঁয়ে যায়।

কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ।

২৮. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১:১০
ফজলে এলাহী বলেছেন: পৃথিবীর সব মা'ই কি একই রকম ?? মমতা মমতা আর মমতা কি এইভাবে তাদের পুরো শরীর জুড়ে ??
ভালো থেকো পৃথিবীর সব মা............................
২০ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ৯:৫৫

লেখক বলেছেন: হ্যা, সম্ভবত মায়েরা একই রকম।

ভালো থেকো পৃথিবীর সব মা......... তাই যেন হয়।

পুরনো পোস্টে কমেন্ট করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

২৯ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:১০

লেখক বলেছেন: আপনার পোস্ট পড়েছি বেশ কদিন আগে, কমেন্টস ও করেছিলাম, হয়তো খেয়াল করেননি।

আসলে পৃথিবীর সব মায়ের গল্প প্রায় একি রকম।

মা, যার কোন বিকল্প নেই।

ভালো থাকুন।

৩০. ০৫ ই নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:৩৮
শামীম শরীফ সুষম বলেছেন: ভালো থাকবেন .. ধন্যবাদ
০৫ ই নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩০

লেখক বলেছেন: হ্যা, ভালো থাকার অবিরাম চেষ্ঠা করি। কিন্তু কেন যেনো খুব ভালো থাকাটা খুব একটা হয়ে উঠেনা।

ধন্যবাদ।

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ৯:৫৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, অনেক পুরাতন লেখা, কিভাবে খুঁজে পেলেন?

কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই, দুনিয়ার সব মায়েদের কাহিনী প্রায় একই রকম।

মায়ের জন্য দোয়া করবেন, যেন সব সময় ভালো থাকে।

৩২. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১০:২১
ফাইরুজ বলেছেন: পৃথিবীর সব মা ভালো থাকুক
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ১০:১৩

লেখক বলেছেন: ফাইরুজ বলেছেন: পৃথিবীর সব মা ভালো থাকুক.......

তাই যেন হয়।

আপনিও ভালো থাকুন।

৩৩. ১০ ই জুলাই, ২০১১ রাত ২:৫২
ইশিন বলেছেন: অনেক ভালো লাগলো, পৃথিবীর সব মা এর জন্য শুভকামনা।
১২ ই জুলাই, ২০১১ রাত ৯:৩৯

লেখক বলেছেন: ইশিন@ অনেক ধন্যবাদ । হ্যা, সব মা কিভাবে যেনো একিরকম হয়ে যায়!!! শুধুই দিয়ে যায়, বিনিময়ে প্রায় কিছুই চায় না!!!

৩৪. ২৯ শে আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৪:০১
সাঁঝবেলা বলেছেন: আজ সামু আমাকে অনেক কাদাচ্ছে। আর যে কাঁদতে পারছি না। কিছু আগে কাঁদতে হলো বাবাকে নিয়ে একটা লেখা পরে এখন আবার আপনার লেখাটা পরে চোখে পানি চলে আসলো।
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:২৪

লেখক বলেছেন: প্রায় মাসখানেক আগে কমেন্ট করেছিলেন, কিন্তু আমার নজরে এলো আজ!!!

মা-বাবা ............. বেশীরভাগ ক্ষেত্রে গল্পটা প্রায় একি রকম।

পৃথিবীর সব মা-বাবা ভালো থাকুন, সবখানে , সবসময়।

আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো।

৩৫. ০২ রা নভেম্বর, ২০১১ সকাল ৮:৫৬
মহারং বলেছেন: মা...............মা.......................... মা :(
০২ রা নভেম্বর, ২০১১ রাত ১০:২৮

লেখক বলেছেন: মা............ হ্যা, কোন তুলনা নেই, নেই কোন উপমা। শুধুই ......... মা।

থ্যাংকস।

৩৬. ০২ রা নভেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৪৫
গ্রামের মানুষ বলেছেন:
মা গো মা, আমার মা তোমার মত কেউ না!!
১৪ ই নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩৯

লেখক বলেছেন: এই পোস্টের বয়স প্রায় দুই বছর। লিখেছিলাম অনেকটা আবেগতারিত হয়ে। মাঝে মাঝে এই পোস্টে এখনও কমেন্টস আসে, অবাক লাগে......... এত পুরনো পোস্টে কমেন্ট দেখে!!!

আসলে মায়েরা কখনো পুরনো হয় না, সব সময় সতেজ ,চির সবুজ থাকে সন্তানের বুকে।

আপনার মায়ের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা। ভালো থাকুক জগতের সকল মা।

৩৭. ২২ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ২:৩১
কালকুট বলেছেন: সন্তানের সবচেয়ে আপনজন তার মা, সব সন্তানই অসম্ভব ভালোবাসে তার মাকে; কিন্তূ সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা আরো অনেক, অনেক বেশি। তাইতো মায়েরা অনন্য।
২২ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ১১:৪২

লেখক বলেছেন: আপনার বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত।

মায়ের ভালোবাসার সমকক্ষ আর কিছুই নাই।

পৃথিবীর সব মা ভাল থাকুক, সবসময়, সবখানে।

আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০২৬৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
জীবিকার সন্ধানে ঘর ছাড়ি, ফিরে আসি ভালবাসার টানে। অবিরাম, ক্লান্তিহীন ছুটে চলা আমার। পাব বলে কত কি যে পাইনি সে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই