বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারেরা একসময় ছাত্রসংগঠনগুলোকে পুষতো। পরীক্ষা ও অন্যান্যক্ষেত্রে অবৈধ ফেবার পাবার আশায় ছাত্র পাতি নেতারা তাদের শিক্ষক প্রভুদের বাজার ঘাট করে দিতো- এমন জনশ্রুতি আছে। কিন্তু দিন এবার বদলেছে। এবার প্রতিশোধ নেবার পালা।
ছাত্রসংগঠনগুলো এখন আর শিক্ষক প্রভুদের নিয়ন্ত্রনে নেই। বরং কেন্দ্রীয় মহাপ্রভুদের নিয়ন্ত্রনে। আর এই মহাপ্রভুদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আর ছাত্রনেতা সমান গুরুত্বপূর্ণ। বরঙ ক্ষেত্রবিশেষে ছাত্রনেতা ভিসির চেয়েও বেশী মর্যাদা পেয়ে থাকে।
নিজেদের পৌরুষে মহাপ্রভুর শক্তি সহযোগে এখন তাই ছাত্রনেতারাই বেশী শক্তিশালী। এককালের শিক্ষক মাস্টারেরা এখন ছাত্রনেতাদের কাছে জিম্মি। তাই আগে হয়তো শিক্ষক ছাত্রকে ধমকাতো আর এখন ছাত্র শিক্ষককে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠায়।
যে কুকুর এতোদিন লেজ নেড়ে প্রভুর সব কথায় সায় দিতো, এখন সে ভেংচি কেটে কামড়াতে আসে। শিক্ষক বেটাতো দন্তহীন। তাই তার একমাত্র প্রতিরোধ জলাতংকের টিকা নেয়া। কুকুরের বিষদাত ভাঙার সাধ্য তার নেই।
১০।০৮২০১০ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের সাধারণ সম্পাদক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উপস্থিতিতে চারজন শিক্ষককে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। কারো কিছু করার ছিলো না। সবাই চোখ পাকিয়ে দেখেছে। কারণ, কুকুর জেগে উঠেছে, এবার প্রভুর কামড় খাওয়ার পালা। বলছি না যেসব শিক্ষক মার খেলেন তাদের গুণধর ছাত্রদের হাতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির সাপকে ফনা তুলতে সহায়তা করেছেন। তারা হয়তো করেন নি। কিন্তু তাদের পূর্বসূরী শিক্ষকরাতো করেছেন। সুতরাং এর প্রায়শ্চিত্ত হতেই হবে। তাই হচ্ছে। পুর্বসূরী শিক্ষকদের অপকর্মের কুফল ভোগ করছেন এখনকার তরুণ শিক্ষকরা। সর্যি, আপনাদের জন্য কিছু করার নেই। পাপ বাপকেও ছাড়ে না।
কিছুদিন আগে জাহাঙগীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তো উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রায় সবাইকে একসাথে অপদস্ত করেছিলো সেখানকার ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। কিছুই করতে পারে নি ভিসি। মানে মানে সংঘর্ষস্থল ত্যাগ করেছে। মনের আশ মিটিয়ে মারামারি করেছে দুদল ছাত্রলীগ।
যে ভিসি সবার প্রভু তিনিও এখন তার ছাত্রের কাছে নখদন্তহীন বাঘ। কারণ, রাত পোহালে ঐ ছাত্রলীগ নেতা আর ভিসি একই মহাপ্রভুর কাছে যায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


