স্ট্রেস বা মনো শারিরীক চাপ কি?- বিভিন্ন চাপ বা সমস্যার মুখোমুখি হলে আপনি যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন, সেটি যদি স্বাভাবিক সীমা অতিক্রম করে, তবেই তাকে স্ট্রেস বলা যায়। এই মানসিক চাপ বা শারিরীক চাপের অবস্থান বা মুল উৎস হতে পারে স্কুল, কাজ বা স্কুল পরবর্তী কাজ, পরিবার , বন্ধু বান্ধব, ইত্যাদি বা মনের একেবারে গহীনে যেমন আপনি খুব ভাল করতে চাচ্ছেন, প্রথম হতে চাচ্ছেন আর দশজনের সাথে তুলনা করছেন ইত্যাদি। সব সময় সব যুগেই প্রতিটি ব্যক্তিকে স্ট্রেসের মুখোমখি হতে হয়েছে, এটা একটা সাধারন প্রতিক্রিয়া। কাজেই এটা আপনার আবেগ জনিত কারন, শারিরীক কারন বা বিপদকালীন সময়ে হতে পারে।
*আপনি চেষ্টা করেছেন কিন্তু হতাশ বা নিরাশ হয়ে গিয়েছেন:
এটা একটা ঝুকিপুর্ণ বা বিপদের লক্ষন। স্ট্রেস এমন বেশি হতে পারে যে এর সাতে খাপ খাওয়ানো বা তাল মেলানো খুব কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এতে মনে হয় এতো ভয়ানক অনুভুতি চলে আসতে পারে। যে কেউ হয়তো নিজে নিজেকে আঘাতগ্রস্ত করে তুলতে পারেন ব্যাপারটা মৃত্যু পর্যন্ত গড়তে পারে।
* স্ট্রেস জনিত লক্ষন সমুহ :
(১) নিজেকে হতাশ , নিরাশ আশাহত অপরাধী ক্লান্ত মনে হওয়া।
(২) মাথা ব্যাথা, পেটে ব্যাথা, নিদ্রাজনিত সমস্যা।
(৩) কোন কারন ছাড়াই হঠাৎ করে হাসা বা কেদে ফেলা।
(৪) নিজের জন্য খারাপ কিছু হলে অন্যকে অপরাধী করা বা তার উপর দোষ চাপান।
(৫) সর্ব অবস্থায় না বোধক বা বিপরীত ধর্মী জিনিস নিয়ে চিন্তা।
(৬) আগে যে মুহুর্ত গুলোকে উপভোগ করতে পারেন এখন সে গুলোকে বোঝা মনে করা।
(৭) নিজের দায়িত্বে ক্ষুদ্ধ হওয়া বা অন্যকে অপমান করা।
* স্ট্রেস কি সবসময়ের জন্য খারাপ: খুব স্পষ্ট উত্তর হচ্ছে না। আসলে স্বল্প মাত্রার স্ট্রেস শারীরিক ও মানসিক দুই ধরনের স্বাস্থ্যের জন্যই ভালো। মনে করুন কেউ স্কুলে স্পোর্টস, সংগীত, ইত্যাদিতে অংশগ্রহন করেছে। তার ভেতরে ভালো করার নুন্যতম স্ট্রেস না থাকলে প্রতিযোগিতায় তার আশানুরুপ ফল সম্ভব নয়। এছাড়া যে কোন কাজ করতে গিয়ে যদি কোন স্ট্রেস না থাকে তাহলে সে কাজটি সময় মতো করা কষ্ট কর হয়ে দাড়ায়।
* আপনার উপর স্ট্রেস কেমন: স্টেসের মাত্রা বেশি হলে তা আপনাকে ক্ষনিকের জন্য নির্বোধ করে দিতে পারে। বিভিন্ন গবেষনায় দেখা গেছে যে মস্তিষ্ক চরম স্ট্রেস যুক্ত অবস্থায় মোটেও ভাল ভাবে কাজ করতে পারে না। আপনি যা করছেন এবং আপনার নিয়ন্ত্রনের বাইরে যা কিছু করার আছে সব কিছু মিলিয়ে নিজেকে নিজের কাছে বিধ্বস্ত মনে হতে পারে যে কাজ গুলো আপনি করতে পারেন না সেগুলো আপনার জন্য খুব নৈরাশ্য কর হতে পারে। এমন হতে পারে যে, আপনি দেখছেন সমাজে টিকে থাকার জন্য আপনার পিতা মাতা লড়াই করছেন তথাপি আপনার সামাজিক জীবন বিশৃঙ্খলাপূর্ণ। কোন স্টেসের প্রতিক্রিয়া স্বরপ সেটা করা হল। সেটা হচ্ছে নিজের সব কাজের সমালোচনা নিজে করা। আপনি হয়তো জীবনের নানা সমস্যা গুলো নিয়ে এতটাই হতাশ হয়ে পড়েছেন যে, আনন্দ দায়ক কোন কিছুই এখন আর আনন্দ দায়ক মনে হয় না, বরং জীবনটাকে বড় বোঝা মনে হয়। আপনি যদি এমন অবস্থায় পড়েন তবে...
মনে হতে পারে আপনি বুঝি এসব কাটিয়ে উঠতে পারবেন না। প্রকৃত পক্ষে নিচের কিছু টিপস অনুসরন করে আপনি এসব স্ট্রেসযুক্ত সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেন।
স্ট্রেস মোকাবেলায় যা আপনাকে সহায়তা করবে
*পরিমতি পুষ্টিকর আহার করা।
* ক্যাফেইন কম পরিমানে সেবন করা।
* পরিমিত শারীরিক ব্যায়াম।
যা আপনাকে স্ট্রেস কাটাতে সহায়তা করবে না
স্ট্রেস কে জয় করার নিরাপদ ও ঝুকিপুর্ণ দুই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।
স্ট্রেস কে কখোনো পাশ কাটিয়ে বা এড়িয়ে চলবেন না। স্ট্রেস কে কাটানের জন্য ভুলেও কখোনো ড্রগস বা এ্যালকোহল ছোবেন না। আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে ড্রাগ এ্যালকোহল সেবন খুব সহজ পন্থা প্রকৃত মর্মে এগুলো খুব বিপদজনক। স্ট্রেস কাটাতে ড্রাগ বা এ্যালকোহল সেবন আসক্তির পর্যায়ে চলে যেতে পারে। যা কিনা জীবনে নতুন আর এক স্টেসের আগমন ঘটাতে পারে যা আপনার পারিবারিক বা সামাজিক বিভিন্ন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সমস্যা বয়ে নিয়ে আসবে। আপনার স্বাস্থ্য সর্ম্পকীয় ঝুকিও নি:সন্দেহে বাড়বে।
কিভাবে আপনি স্ট্রেস কাটিয়ে উঠবেন ঃ
যে যে ফ্যাক্টরগুলোতে আপনি স্ট্রেস অনুভব করেন, হয়ত তার সবকটিকে আপনি নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন না তবে যেটা প্রথমে করা দরকার সেটা হচ্ছে বিভিন্ন স্ট্রেসে কিভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবেন। আপনি আসলে যেটা চিন্তা করবেন সেরকমটিই অনুভব করবেন। আপনি যদি আপনার চিন্তা ধারাকে পাল্টাতে পারেন, তবে অনুভুতিও অন্য রকম হয়ে যাবে। স্টেসের সাথে খাপ খাওয়াতে কয়েকটি পরামর্শ-
*যা আপনাকে স্ট্রেসে ফেলে দেয় তার একটা তালিকা তৈরি করুন।
*আপনার বন্ধু বান্ধব পরিবার, প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য কর্মকান্ড নিয়ে ভাবুন।
*প্রথমেই স্বীকার করে নিন যে সবকিছু নিয়ন্ত্রন করা আপনার একার পক্ষে সম্ভব না।
*আপনি যা নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম তার উপর স্বছন্দ নিয়ন্ত্রন করুন।
*আপনি যদি একাধারে অনেকক্ষন যাবৎ কাজ করে ক্লান্ত অনুভব করেন তবে আপনার বসকে সরাসরি নম্রতার সাথে স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে বলুন *আপনার একটু বিশ্রামের প্রয়োজন।
*অপারগতার ক্ষেত্রে সম্পর্ক ছিন্ন করুন।
*সব সময় মনে রাখবেন আপনি একা সবসময় সবাইকে সুখী করতে পারবেন না এবং জীবনে চলতে গিয়ে কিছু ভুল হতেই পারে *সেগুলোকে শুরুতেই মেনে নিন।
*যা আপনি করতে পারবেন না বা করতে চাচ্ছেন না তা করতে কখোনই প্রতিক্সগাবদ্ধ হবেন না।
*আপনি যদি সবকিছু নিয়ে ভীষন ব্যস্ত জীবন যাপন করেন তবে কাজের তালিকায় নতুন কিছু যোগ করতে হলে ভেবে চিন্তে করুন।
*আপনি যদি ক্লান্ত থাকেন এবং বাইরে যেতে সাময়িক ভাবে ভালো না লাগে তবে আপনার, বন্ধু বান্ধবকে বলে দিন আপনি আর এক *দিন রাতের পার্টিতে উপস্থিত থাকবেন।
*মনের কথা খুলে বলার জন্য কাউকে খুজে বের করুন।
*বন্ধু বান্ধব বা পরিবারের সদস্যদের সাথে আপনার আবেগ অনুভুতি বা চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে আপনার স্ট্রেস অনেক কমাতে পারেন।
তবে আপনার সমস্যা যদি সামাজিক বা পরিবার কেন্দ্রিক হয় তবে সেগুলো কাউকে বলা কষ্টকর হয়ে দাড়ায়। আপনি যদি চিন্তা করেন যে, এগুলো পরিবারের সদস্য বা বন্ধু বান্ধবদের সাথে বলা যাবে না, তবে আপনি পরোহিত বা কোন প্রতিষ্টানের কাউন্সিলর বা পারিবারিক ডাক্তারের সহায়তা নিয়ে স্ট্রেস কমিয়ে আনুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

