somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বলুন দেখি কেন?

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক অনেক আগের কথা। আমেরিকার নিউইয়র্কে বাস করত চার জাপানি বন্ধু। নিজেদের বেকারত্ব দূর করার জন্য তারা কাজকর্ম শুরু করার পরিকল্পনা করল। সে মোতাবেক একদা চার জাপানি মিলে শুরু করল পেট্রল পাম্পের ব্যবসা। কিন্তু ব্যবসার অবস্থা এত খারাপ হলো যে একজন খদ্দেরও এল না। বলুন দেখি কেন?কারণ পেট্রলপাম্পটি খোলা হয়েছিল একটা বিল্ডিংয়ের দোতলায়!:D পেট্রলপাম্প ব্যবসায় লস খেয়ে সেটা বন্ধ করে দিল চার বন্ধু। তারপর চারজনে মিলে শুরু করল হোটেলের ব্যবসা। সেই দোতলায়ই। আমেরিকান, জাপানি সব রকমের খাবারের ব্যবস্থা রাখা হলো। কিন্তু সারা দিন বসে থাকার পরও এবারও কোনো খদ্দের এল না। বলুন দেখি কেন?কারণ দোকানের বাইরে পেট্রলপাম্পের সাইনবোর্ডটি তখনো টানানো ছিল!:D হোটেল ব্যবসায় ধস নামার পর এবার চারজনে ঠিক করল ঘরের ভেতর কোনো ব্যবসা করবে না। ব্যবসা যা করার সবই করবে বাইরে। অগত্যা সবাই মিলে টাকা জোগাড় করে কিনল একটা ট্যাক্সি। যাত্রী পরিবহনের জন্য তারা সেই ট্যাক্সি নিয়ে রাস্তায় নামাল। হায় রে! এবারও ব্যবসায় লস। সারা দিনেও কোনো যাত্রী পাওয়া গেল না। বলতে পারেন কেন?কারণ চার বন্ধুর দুজন ট্যাক্সির সামনের সিটে আর বাকি দুজন পেছনের সিটে বসে যাত্রী খুঁজছিল!:D এক দিন সেই ট্যাক্সি রাস্তায় নষ্ট হয়ে গেল। গাড়ি মেরামতের দোকান সেই দুই কিলোমিটার সামনে। গাড়িটাকে ধাক্কা দিয়ে মেকানিকের কাছে নেওয়ার জন্য চারজনে মিলে খুব চেষ্টা করল। কিন্তু ট্যাক্সি নড়ল না একটুও। বলুন দেখি কেন?কারণ দুজন গাড়ির পেছন থেকে ধাক্কা দিচ্ছিল, আর বাকি দুই বন্ধু ধাক্কা দিচ্ছিল সামনে থেকে!:D এই যখন ট্যাক্সি ব্যবসার অবস্থা, তখন বিরক্ত হয়ে চার বন্ধু ট্যাক্সি ফেলে অন্য ব্যবসার কথা ভাবতে বাধ্য হলো। ঠিক করল, এবার করবে মুরগির খামার। সে হিসেবে তারা এক দিন বয়সী ৫০০ মুরগির বাচ্চা কিনে আনল। তিন মাস পর বাচ্চাগুলো বড় হলো, কিন্তু একটা ডিমও পাড়ল না। বলুন তো কেন?কারণ বাচ্চাগুলো সব মোরগ ছিল!:D অগত্যা মোরগগুলো বিক্রির জন্য ভ্যানে তুলে 'ওই মোরগ লাগব, মোরগ' বলে এলাকায় এলাকায় চেঁচাতে লাগল। সারা দিন চেঁচিয়ে তারা একটা মোরগও বিক্রি করতে পারল না। বলুন দেখি কেন?কারণ মোরগগুলো তারা আগেই জবাই করে চামড়া ছুলে ভ্যানে তুলে বিক্রি করছিল।:D পোলট্রি ব্যবসায় ধস নামার পর চার জাপানি বন্ধু সিদ্ধান্ত নিল কোচিং সেন্টারের ব্যবসা ধরবে। উপযুক্ত জায়গা দেখে 'জাপানি কোচিং' নাম দিয়ে তারা চালু করে দিল কোচিং। টিভি-রেডিওর পাশাপাশি লিফলেটের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালাল। হায়! এবারও কোনো ছাত্রছাত্রী ভর্তি হলো না। বলুন তো কেন?কারণ টিভি-রেডিওর প্রচারের সময় এবং তাদের লিফলেটে কোথাও কোচিং সেন্টারের ঠিকানা দেওয়া ছিল না!:D দুই মাস পর চারজনে মিলে ঠিক করল, তারা আর শহরে ব্যবসা করবে না। চলে গেল গ্রামে। সেখানে গিয়ে তারা স্যাটেলাইট কেবল লাইনের ব্যবসার সিদ্ধান্ত নিল। কিন্তু বাড়ি বাড়ি গিয়ে লাইন নেওয়ার জন্য অনুরোধ করার পরও কেউ তাদের কাছ থেকে ডিশের কানেকশন নিল না। বলুন দেখি কেন?কারণ সেই গ্রামে বিদ্যুৎই পেঁৗছেনি!:D অতঃপর তারা ঠিক করল, আদম ব্যবসা করবে। গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে ভালো বেতনের লোভ দেখিয়ে বিদেশে পাঠানোই হবে তাদের কাজ। সুবিধাজনক জায়গায় অফিস নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা ক্যাম্পেইন শুরু করল। কিন্তু এবারও বিদেশে যাওয়ার জন্য তাদের কাছে কেউ এল না। বলুন দেখি কেন?কারণ তারা বাংলাদেশে লোক পাঠানোর চেষ্টা করছিল!:D চার জাপানি বন্ধু অবশেষে ফিরে এল শহরে। অনেক ভেবে ঠিক করল এবার তারা পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে সাহিত্যচর্চা করে টুপাইস ইনকাম করবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। বহু পরিশ্রমের পর চার বন্ধু মিলে চারখানা লেখা নামিয়ে ফেলল। তারপর পাঠিয়ে দিল নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার অফিসে। কিন্তু তাদের লেখা ছাপাই হলো না। বলুন দেখি কেন?ভাই রে, তারা তো সব লিখেছিল জাপানি ভাষায়!:D কোনো উপায় না দেখে তারা সিদ্ধান্ত নিল, ভিক্ষা করার। সে মোতাবেক ভালো পজিশন দেখে বসে পড়ল। তারপর শুরু করল বেদনাবিধুর গান। সারা দিন গান গাওয়ার পরও তারা একটি ডলারও ভিক্ষা পেল না। বলুন দেখি কেন?কারণ তারা স্যুট-বুট ও টাই পরে ভিক্ষা করার জন্য গান গাইছিল!:D সব শেষে তারা শুরু করল কিডন্যাপিংয়ের ব্যবসা। দা-চাকু জোগাড় করে এক স্কুলের সামনে থেকে চারজনে মিলে এক বাচ্চাকে কিডন্যাপ করল। বাচ্চাকে বলল, 'বাড়ি গিয়ে তোর বাবাকে বলবি যে সন্ত্রাসীরা আমাকে কিডন্যাপ করেছে। আমাকে মুক্ত করতে হলে ওদেরকে পাঁচ লাখ ডলার দিতে হবে।' বাচ্চা বাড়ি গিয়ে বাবার কাছে সব ঘটনা খুলে বলল। বাচ্চার মুখে কিডন্যাপিংয়ের কথা শুনে বাচ্চার বাবা তাড়াতাড়ি ব্যাংক থেকে ডলার এনে দিল। এত দিনে চার বন্ধু ধনী হয়ে গেল।বলুন দেখি ওই বাচ্চার বাবা টাকা দিল কেন?আরে ভাই, ওই ব্যাটাও যে একজন জাপানি ছিল!:D:D:D:D:D:D:D:P:P:P:P:-*:-*:-*:-*
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×