সবাই বললো কেনো তা হবে। কাল রিংকুভাইকে জিজ্ঞেস করবো, সীমানা বললো কেউ যদি এতটুকু করে খুশি হয় তো থাক না। কিছু বলার দরকার কি? উনি অস্বস্তি বোধ করবেন। সবাই হাসলো, বললো তুই বেশি পেয়েছিস এটা কোনো ব্যাপার না কিন্তু রিংকুভাইকে একটু না জালিয়ে ছাড়বো না।
শিখা অনেক দুষ্টু ছিলো যথারীতি পরদিন রিংকুভাইকে সরাসরি প্রশ্ন করলো-
রিংকুভাই কিছুটা বিব্রত, বললেন ওর লেখা অনেক ক্লিন ছিলো।
যুক্তিটা খুব জোরদার হয় নাই, এ কথা সেকথায় এক পর্যায়ে শিখার সাথে ঝগড়া লেগে গেলো।
সবাই মিলে শিখাকে থামালো, রিংকুভাই-এর মেজাজ খারাপ, এমনিতেই হাসে না তার উপর মেজাজ খারাপ-
সীমানা দাড়িয়ে শিখার হয়ে ক্ষমা চাইলো। এমনি করে নানা ঘটণার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছিলো ওদের কোচিং-এর দিনগুলো। নিঃশর্ত হাসি আর নিঃস্বার্থ ভালোলাগার মধ্য দিয়ে।
কত সহজ জীবন আর কত সহজ তার ভালোলাগা, জীবনের উত্থান পতন নিয়ে তখনও কোনো ধারণা নেই সীমানার। বাবা মায়ের আদরের একমাত্র মেয়ে ছোট একটা ভাই আছে, বাবার আদরে মাটিতে পা পড়ে না, মায়ের আদর পৃথিবীর জটিলতা জানতে দেয় না। আদরে আহলাদে বেড়ে উঠা সবুজ চাড়া গাছটি লকলক করে বেড়ে উঠছে যেনো লতা হয়ে কাউকে জড়ানোর তীব্র আকাঙক্ষায়।
ক্লাস প্রায় শেষের দিকে, ক্যামিস্ট্রি প্র্যাকটিক্যাল নিয়ে সীমানার কিছু জানার ছিলো, কিন্তু তেমন কোনো বই ওর কাছে নাই, এ নিয়ে রিংকুভাইকে মাঝে মাঝে কিছু প্রশ্ন করতো ও।
ক্লাস শেষ হওয়ার আগে রিংকুভাই ছাত্রী হিসাবে ভালোবেসে ওকে একটা ক্যামেস্ট্রির প্র্যাকটিক্যাল বই দিলো, সেটা নিয়েও ওদের অনেক হাসাহাসি।
ওরা বললো-সবাইকে না দিয়ে শুধু তোকে দিলো কেনো, এখানেও পার্শিয়াল্টি, চক্ষু লজ্জাও নাই ছেলেটার, প্রেমে পড়লে এমনই হয়।
সীমানা বললো, কিজে বলিস, উনিতো জানেই অমাকে দিলেই সবাই পাবে। গাম্ভির্জ বজায়ে রাখতে পারলো না হেসে ফেললো-ফান করে বললো, একটু যদি পছন্দ করেই থাকে হিংসা করিস কেনো। যথারীতি তারপর হাসাহাসি।
যাক তিনি ছিলেন নটরডেমের ছাত্র, বইটি ভালো ছিলো স্বভাবতই। কিন্তু শর্ত ছিলো বইটি ফেরত দিতে হবে তখন তাতেই রাজি। দেখতে দেখতে সময় শেষ। বই-এর কাজ তষনও শেষ হয় নাই।
ওদিকে শিখা রুমা ওরা রিংকুভইকে বললো, আমাদের একদিন খাওয়াতে হবে, উনি রাজি হলেন। কি জানি কি ভেবে উনি রাজি হলেন এত কঠোর মানুষ। যাক দিন ঠিক হলো ২১ ফেব্র“য়ারি সকাল ১০টা, কিন্তু সমস্যা হলো প্রতিবারে মতো সেবারও সীমানা আব্বা আম্মার সাথে শহীদ মিনার যেতে হবে। বান্ধবীদের বলে গেলো ওখান থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আসবে, ওরা যেনো একটু অপেক্ষা করে। মিস করা যাবে না। মনে মনে কিছুটা এক্সাইটেড।
চলবে............

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



