হাফ ছেড়ে বাঁচলো কথা বাড়ালো না বললো ঠিক আছে, ডাইরিতে লিখে নিলো ফোন নম্বরটি ৩২৯৯৩৭
তারপর তিন মাস কেটে গেল। কখোনো মনেই পরেনি আর কোচিং এর ঘটনাগুলি, জীবনের গতিতে ঘটে যাওয়া ঘটনার মতই মনে হয়েছিলো, বিচ্ছিন্ন কিছু মনে হয়নি ওর, জীবনের অনেক ঘটনার মতো এটিও হারিয়ে গিয়েছিলো সময়ের গতিতে, দাগ কাটার মত কোনো উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনা এতে ছিলো না।
সীমানা তখন কলেজে পড়ে হঠাৎ করেই মনে হলো বইটার কথা। হয়তো মনে না পরলেই ভালো হতো, যাক সে কথা, কি হলে ভালো হতো আর কি হওয়া উচিত ছিলো সেটা ভেবে কোন লাভ নেই, যা হবার তাই হয়েছে। কিন্তু মাঝে মাঝেই সীমানা ভাবে কেনো এমন হলো ভাবনার মায়াজাল ছিড়ে বার বার বাস্তবের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে, জীবনের ভবনায় মাঝে মাঝে খুব ক্লান্ত হয়ে যায় সীমানা...
বইটার কথা যখন মনে হয়ে ওর খুব অস্বস্তি লাগছিলো, ভাবছিলো কি মনে করলো রিংকুভাই এতদিনেও বইটা ফেরত দেয়া হয় নাই, অস্বস্তি নিয়েই পরদিন ফোন করলো সীমানা-
সীমানার বাসায় তখন ফোন ছিলো না পাশের বাসা থেকে ফোন করলো, একটা মেয়ে ফোন ধরলো
-হ্যালো রিংকু ভাই আছে?
-মেয়েটি বললো, এটা রিংকু ভাইদের বাসা না, এটা ওনার বন্ধুর বাসা ।
মনে মনে ভাবলো হয়তো রিংকুভাইয়ের বাসায় ফোন নেই পাশের কোনো বাসায় ফোন নাম্বার দিয়েছে
- একটু ডেকে দিবেন?
- উনিতো অনেক দুরে থাকে কেমন করে ডাকবো। উনার বাসা মোহম্মদপুর আর আমাদের বাসা রাজাবাজার।
একটু অবাক হলো, এমনতো হওয়ার কথা না, মনে মনে রাগ হলে সীমানার...
মনের অজান্তেই তাকে বকাবকি করলো মেয়েটিকে বললো, ওনার নিজের বাসায় ফোন না থাকলে ফোন নাম্বার দেওয়ার দরকার কি? ওনাকে বলবেন যে এটা সে না করলেও পারতো, অযথা আমাকে ঝামেলায় ফেলার মানে কি? বাসার ঠিকানা দিলে আমিতো বইটা দিয়েই আসতে পারতাম। এমন কি হতো বাসায় গেলে।
মেয়েটি কিছু বললো না। হঠাৎ খেয়াল করলো সীমানা, কি সব বলছে
মেয়েটিেক জিজ্ঞেস করলো আপনার নাম কি?
- ইভা।
-কিছু করছেন?
-হু, ঢাকা ইফনিভারসিটিতে ইকোনমিক্স-এ পড়ি
-ঠিক আছে রাখি, রিংকু ভাই-এর সাথে কথা হলে বলবেন আমি ফোন করেছিলাম।
কি জানি হিসাব মিললো না এমনতো হওয়ার কথা ছিলো না মনে মনে ভাবছিলো। বিভিন্ন কিছু মনে হলো মেয়েটা যদি রিংকু ভাইকে বলে উনি কি ভাববেন? এভাবে কথা বলা ঠিক হয় নাই, কেমন যেন একটু লজ্জা লাগলো, কি মনে করবেন উনি, হাজার হোক স্যার তো।
কলেজে যেতে যেতে সীমানা ভাবলো মেয়েটাকে ফোন করে বলে দেবে যেন রিংকু ভাইকে কিছু না বলে।
সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে পরদিন আবার ফোন করলো একজন ছেলে ফোন ধরলো
-হ্যালো, কাকে চাচ্ছেন? পুরুষ কণ্ঠ
-সীমানা একটু হচকচিয়ে গেলো- আমাকে চিনবেন না কাল আমি একটা মেয়ের সাথে কথা বলেছিলাম নাম ইভা ওকে একটু চাচ্ছিলাম
- ও তো বাসায় নেই, বলেন কি দরকার ও আমার বোন আমাকে বলেন আমি বলে দেবো
- জ্বী ওনাকে বললেই ভালো হতো (মনে মনে ভাবলো যদি এর মধ্যে আবার বলে ফেলে আবার কখোন ফোন করবো, যদি সুযোগ না পাই)
- ওদিক থেকে-সমস্যা নাই বলতে পারেন
- হু, আসলে কাল একটা ঘটনা ঘটেছে.. পুরা ব্যাপারটা এক নিঃশ্বাসে বললো সীমানা, আরো বললো উনি আমার স্যারতো, কিন্তু রাগ করে ওনাকে দু’একটা কথা বলে ফেলেছি, আপনার বোন ওনাকে যেনো সেটা না বলে।
-আপনার রিংকু ভাই কি করেন?
- বুয়েটে পড়েন
-সাথে সাথে উনি অবাক হলেন, বললেন আমি তো ডাক্তার, ও আমার বন্ধু একসাথে পড়তাম, আপনি ভুল করছেন। ও বুয়েটে কি করে পড়বে?
-আমি মোটেই ভুল করিনি, উনি আমাকে এই নাম্বারটাই দিয়েছেন,
-আমার বন্ধু আমি জানি না আপনি জানেন?
এই নিয়ে দু’জনে অনেকক্ষণ তর্ক হলো, এক পর্যায়ে ফোন রাখলো সীমানা ।
ভাবছিলো ঘটনাটা কি ঘটলো ! মনে মনে ভাবলো তবে কি আমারই ভুল? বুঝতে পারছি না, আমারওতো ভুল হতে পাওে, ফোন নাম্বারটা মনে করে রেখেছিলো তাই ডাইরী না দেখেই ফোনটা করেছিলো সীমানা।
ডাইরিতে রিংকুভাইয়ের নাম্বারটা লেখা ছিলো বের করলো দেখার জন্য, চমকে উঠলো- ভুলটা সীমানরই ছিলো নাম্বারটা ভুল ডায়াল করেছে সে এখানেও ছোট্ট ভুল ৩২৯৯৩৭ এর বদলে ও’ করেছি ৩১৯৯৩৭, শুধুমাত্র একটা ১ সীমানার জীবনটা পাল্টে দিয়েছিলো।
মনে মনে কেমন অপরাধবোধ তৈরি হলো সীমানার ভাবলো অযথা লোকটার সাথে ঝগড়া করলাম, ভুলটাতো আমারই ছিলো।
বয়স কম জীবনের জটিলতা তখনও বোঝেনি তাই মনটাও ছিলো অনেক নরম এই ছোট্ট বিষয়টিকেও অনেক বিশাল মনে হলো, কেন যেন মনে হলো যেহেতু ভুলটা নিজেরই তাই ভদ্রলোককে জানানো উচিত অন্তত একবার সরি বলা।
চলবে.....................

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



