চলছে..
কথা বলতে পারছিলো না সীমানা, ভালো লাগেনি প্রথম দর্শনে, কিন্তু ভদ্রতা করে কথা বললো, কেন যেন কার্ডটাও দিলো। হাঁটছে দুজন, আর মনে মনে ভাবছে কি করে ছুটবে এ জাল থেকে। সে কথা বলে যাচ্ছে আর ও ভাবছি কখন বাসায় যাবে, কিন্তু সে এমন করে কথা বলছে আসতে পারছে না সীমানা। এক পর্যায়ে সে সীমাকে বলে ফেললো ‘আমার বউটাতো সুন্দর’, লজ্জা পেয়েছিলো, কিছুটা বিরক্তও।
অস্বস্তি কাটিয়ে সীমানা বললো, আমি যাই পরে দেখা হবে,
সে কিছুতেই আসতে দিতে চাচ্ছে না, সীমানার ছোট্ট বুদ্ধিতেও বুঝলো ওকে তার পছন্দ হয়েছে। সীমানার বুকের মধ্যে বার বার মনে হলো পছন্দ না হলেই ভালো হতো, তবে কি আমার মুক্তি নাই? একটা মানুষকে কষ্ট দিতে হবে? কচি মনে অদ্ভূত সব ভাবনা।
সন্ধ্যা হয়ে আসছে, তখন ছাড়া পেলো.. কিন্তু বিদায় নেবার সময় বারবার বললো অবশ্যই আমাকে ফোন করো কারণ তুমি ফোন না করলে আমার যোগাযোগ করার কোন পথ নেই, আরো বললো তোমাকে আমার ভালো লেগেছে। খুব তাড়াতাড়ি এড়িয়ে যাবার জন্য শুধু বললো- ঠিক আছে।
পরীক্ষা, জীবনের বিশাল পরীক্ষা ছিলো সেদিন সীমানার, কি করবে নিজেকে প্রশ্ন করে ক্ষতবিক্ষত করলো বারবার।
-কি করবো আমি? কি করবো!!! তাকে ভালো লাগেনি, কিন্তু মায়া লেগেছে, সেটা ছিলো ছোট্ট মনের গভীর মমতা। কাউকে আঘাত দেয়ার কথা ভাবতে পারেনি তখনও, তবে এখনও যে খুব একটা পারে তা নয়, তবে বুদ্ধি দিয়ে অনেক সমস্যার সমাধান পরে করেছে, যা তখন পারেনি। ৭ দিন কিছু খেতে পারেনি টেনশনে, নিজের সাথে যুদ্ধ করেছে অহরহ।
একটা কথাই শুধু ভেবেছে সীমানা আমাকে সে ভালোবাসে, আমি কি করে তাকে কষ্ট দিবো, কারণ এই ঘটনার জন্য আমি নিজেও দায়ী, টেলিফোনে আমিও প্রেম করেছি, আর এখন না করবো? বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে, তবে কি মেনে নেব, ধরা দেবো? নিজেকে প্রশ্ন করলো সীমানা?? উত্তর পায়নি, বড় কঠিন ছিলো সময়টা। শেষ পর্যন্ত ভাবলো কাউকে বলবে, ওদের নিচের ফ্ল্যাটে একটা আপা ছিল, এনি আপা তাকে সব বললো, তার কথা আজো সীমানার কানে বাজে, প্রতিধ্বনিত হয়, সে বলেছিলো- জোর করে কিছু করো না মন যা সায় দেয় তাই করো। সারা জীবনের ব্যাপার তারপরও পারলো না ডিসিশন নিতে, কেন পারলো না তার হিসাব পরেও মিলতে পারেনি সীমানা।
আর পারলো না সীমানা এবার ওর বান্ধবী শিখাকে বললো, সব শুনে শিখাও নিষেধ করলো, ভালো না লাগলে কেনো প্রেম করবি। এটাতো একদিনের ব্যাপার না সারাজীবনের ব্যাপার। সীমানা ভরসা পেলো ডিসিশন নিয়ে ফেললো, না প্রেম করবে না।
সীমানা শিখাকে বললো-শোন একটা মানুষ আমার জন্য অপেক্ষা করবে, তাকেতো জানিয়ে দেয়া উচিত। শিখা বললো দরকার নেই।
সীমানা মানতে পারলো না, এটা কি করে সম্ভব একটা মানুষ ওর জন্য অপেক্ষা করবে তাকে কিছু জানাবে না।
মনে মনে ভাবলো, ফোন করে জানিয়ে দেবে-আমার পক্ষে সম্ভব না, প্লিজ আমার জন্য অপেক্ষা করবেন না।
সীমানার মনে হলো-হয়তো সত্যি প্রয়োজন ছিলো না, আবারো ভুল হলো তার।
ভালো থাকাটা, সিনসিয়ার থাকাটাই কি অন্যায়? কে দেবে এ প্রশ্নের উত্তর। অন্ধকারে উত্তর হাতরায় সীমানা কুল কিনারা পায় না।
ফোন করলো ছেলেটাকে, ফোন করে ভীরু গলায় আমতা আমতা করে বললো একটা কথা ছিলো আপনার সাথে... শুনলো না নিজের কথাই বলতে থাকলো, সে একবারও ভাবলো না যে তাকে সীমানার ভালো লেগেছে কিনা।
বললো, আমার বন্ধুদের কাছে তোমার কথা বলেছি সবাই তোমাকে দেখতে চেয়েছে, আবার কবে দেখা করবে তোমাকে খুব মনে পরছে, তোমাকে খুব ইনোসেন্ট লেগেছে.. ভুলতে পারছি না তোমাকে, দেখা করবে তো?
কিছু বলতে পারছে না সীমানা, তবে কি আটকে গেলো? নিজেকে অসহায় মনে হলো ওর- বশেষ পর্যন্ত বলতে পারলো না যা বলতে চেয়েছিলো, খুব আস্তে শুধু বললো ঠিক আছে...
রানাকে কষ্ট দিতে পারলো না সীমানা, নিজের মনকে যুক্তি দিয়ে বোঝালো শুধু -আমার ভালো লাগেনি তাতে কি হয়েছে আমাকেতো তার ভালো লেগেছে। আমি ভালোবাসিনি তাতে কি সেতো আমাকে ভালোবেসেছে, এমন কাউকেই তো ভালবাসা উচিত, চেহারা নাইবা ভালো হলো, ভালোবাসার প্রতিদানে মানুষ ভালোবাসাতেই পায়, তবে বাধা কোথায়?
সীমানা শুধু ভাবলো ভালোবাসার জলন্ত আগুনে নিজেকে সমর্পণ করলাম, যে আগুনে সে জলছে আজও..
চলবে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



