somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবনের কথা-৯

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চলছে..

কথা বলতে পারছিলো না সীমানা, ভালো লাগেনি প্রথম দর্শনে, কিন্তু ভদ্রতা করে কথা বললো, কেন যেন কার্ডটাও দিলো। হাঁটছে দুজন, আর মনে মনে ভাবছে কি করে ছুটবে এ জাল থেকে। সে কথা বলে যাচ্ছে আর ও ভাবছি কখন বাসায় যাবে, কিন্তু সে এমন করে কথা বলছে আসতে পারছে না সীমানা। এক পর্যায়ে সে সীমাকে বলে ফেললো ‘আমার বউটাতো সুন্দর’, লজ্জা পেয়েছিলো, কিছুটা বিরক্তও।
অস্বস্তি কাটিয়ে সীমানা বললো, আমি যাই পরে দেখা হবে,
সে কিছুতেই আসতে দিতে চাচ্ছে না, সীমানার ছোট্ট বুদ্ধিতেও বুঝলো ওকে তার পছন্দ হয়েছে। সীমানার বুকের মধ্যে বার বার মনে হলো পছন্দ না হলেই ভালো হতো, তবে কি আমার মুক্তি নাই? একটা মানুষকে কষ্ট দিতে হবে? কচি মনে অদ্ভূত সব ভাবনা।
সন্ধ্যা হয়ে আসছে, তখন ছাড়া পেলো.. কিন্তু বিদায় নেবার সময় বারবার বললো অবশ্যই আমাকে ফোন করো কারণ তুমি ফোন না করলে আমার যোগাযোগ করার কোন পথ নেই, আরো বললো তোমাকে আমার ভালো লেগেছে। খুব তাড়াতাড়ি এড়িয়ে যাবার জন্য শুধু বললো- ঠিক আছে।

পরীক্ষা, জীবনের বিশাল পরীক্ষা ছিলো সেদিন সীমানার, কি করবে নিজেকে প্রশ্ন করে ক্ষতবিক্ষত করলো বারবার।
-কি করবো আমি? কি করবো!!! তাকে ভালো লাগেনি, কিন্তু মায়া লেগেছে, সেটা ছিলো ছোট্ট মনের গভীর মমতা। কাউকে আঘাত দেয়ার কথা ভাবতে পারেনি তখনও, তবে এখনও যে খুব একটা পারে তা নয়, তবে বুদ্ধি দিয়ে অনেক সমস্যার সমাধান পরে করেছে, যা তখন পারেনি। ৭ দিন কিছু খেতে পারেনি টেনশনে, নিজের সাথে যুদ্ধ করেছে অহরহ।
একটা কথাই শুধু ভেবেছে সীমানা আমাকে সে ভালোবাসে, আমি কি করে তাকে কষ্ট দিবো, কারণ এই ঘটনার জন্য আমি নিজেও দায়ী, টেলিফোনে আমিও প্রেম করেছি, আর এখন না করবো? বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে, তবে কি মেনে নেব, ধরা দেবো? নিজেকে প্রশ্ন করলো সীমানা?? উত্তর পায়নি, বড় কঠিন ছিলো সময়টা। শেষ পর্যন্ত ভাবলো কাউকে বলবে, ওদের নিচের ফ্ল্যাটে একটা আপা ছিল, এনি আপা তাকে সব বললো, তার কথা আজো সীমানার কানে বাজে, প্রতিধ্বনিত হয়, সে বলেছিলো- জোর করে কিছু করো না মন যা সায় দেয় তাই করো। সারা জীবনের ব্যাপার তারপরও পারলো না ডিসিশন নিতে, কেন পারলো না তার হিসাব পরেও মিলতে পারেনি সীমানা।

আর পারলো না সীমানা এবার ওর বান্ধবী শিখাকে বললো, সব শুনে শিখাও নিষেধ করলো, ভালো না লাগলে কেনো প্রেম করবি। এটাতো একদিনের ব্যাপার না সারাজীবনের ব্যাপার। সীমানা ভরসা পেলো ডিসিশন নিয়ে ফেললো, না প্রেম করবে না।
সীমানা শিখাকে বললো-শোন একটা মানুষ আমার জন্য অপেক্ষা করবে, তাকেতো জানিয়ে দেয়া উচিত। শিখা বললো দরকার নেই।
সীমানা মানতে পারলো না, এটা কি করে সম্ভব একটা মানুষ ওর জন্য অপেক্ষা করবে তাকে কিছু জানাবে না।
মনে মনে ভাবলো, ফোন করে জানিয়ে দেবে-আমার পক্ষে সম্ভব না, প্লিজ আমার জন্য অপেক্ষা করবেন না।
সীমানার মনে হলো-হয়তো সত্যি প্রয়োজন ছিলো না, আবারো ভুল হলো তার।

ভালো থাকাটা, সিনসিয়ার থাকাটাই কি অন্যায়? কে দেবে এ প্রশ্নের উত্তর। অন্ধকারে উত্তর হাতরায় সীমানা কুল কিনারা পায় না।
ফোন করলো ছেলেটাকে, ফোন করে ভীরু গলায় আমতা আমতা করে বললো একটা কথা ছিলো আপনার সাথে... শুনলো না নিজের কথাই বলতে থাকলো, সে একবারও ভাবলো না যে তাকে সীমানার ভালো লেগেছে কিনা।
বললো, আমার বন্ধুদের কাছে তোমার কথা বলেছি সবাই তোমাকে দেখতে চেয়েছে, আবার কবে দেখা করবে তোমাকে খুব মনে পরছে, তোমাকে খুব ইনোসেন্ট লেগেছে.. ভুলতে পারছি না তোমাকে, দেখা করবে তো?
কিছু বলতে পারছে না সীমানা, তবে কি আটকে গেলো? নিজেকে অসহায় মনে হলো ওর- বশেষ পর্যন্ত বলতে পারলো না যা বলতে চেয়েছিলো, খুব আস্তে শুধু বললো ঠিক আছে...
রানাকে কষ্ট দিতে পারলো না সীমানা, নিজের মনকে যুক্তি দিয়ে বোঝালো শুধু -আমার ভালো লাগেনি তাতে কি হয়েছে আমাকেতো তার ভালো লেগেছে। আমি ভালোবাসিনি তাতে কি সেতো আমাকে ভালোবেসেছে, এমন কাউকেই তো ভালবাসা উচিত, চেহারা নাইবা ভালো হলো, ভালোবাসার প্রতিদানে মানুষ ভালোবাসাতেই পায়, তবে বাধা কোথায়?
সীমানা শুধু ভাবলো ভালোবাসার জলন্ত আগুনে নিজেকে সমর্পণ করলাম, যে আগুনে সে জলছে আজও..

চলবে...
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×