পরদিন আমার বান্ধবী আলোর বাসা থেকে ফোন করলাম আমার সাথে দেখা করার জন্য। রাজি হলো না। খুব অনুরোধ করলাম বললাম- সম্পর্ক না রাখলেও একবার দেখা করো আমার সাথে। মনে মনে আতœবিশ্বাস ছিলো দেখা হলে যে ভাবে হোক তাকে ফিরিয়ে আনবোই।
খুব তীব্র চাওয়া আমার, সব কিছুই তীব্রভাবে পেতে চাই- এই তীব্রতার প্রখরতায় সব চাওয়াগুলো পুড়ে গেছে আমার। মানসিকভাবে খুব একা আমি। সারাটা দিন হাসি কোনদিন কেউ বুঝবে না এই হাসির পিছনে কি বিশাল যন্ত্রণা আর দীর্ঘনিঃশ্বাস লুকিয়ে আছে। কিছু ভাবতে গেলেই দুচোখ ভরে কান্না আসে বার বার তা লুকাতে হয়। সব কিছুতে জিততে জিততে এক সময় হেরে গেলাম সেই আমি।
অনেক কষ্টে রাজী করালাম তাকে, পরদিন আসলো সে আলোর বাসায় আমিও গেলাম সময় মত, জানি না আমার কি হলো কোন কথা বলতে পারলাম না প্রচন্ড আবেগে জড়িয়ে ধরলাম রানাকে, পাগলের মত কেঁদেছিলাম সেদিন মনের সবটুকু চাওয়া নিয়ে, হয়তো মানুষ না হয়ে একটা পশু হলেও তার মনও গলতো। প্রচন্ডভাবে আকড়ে ধরে রেখেছিলাম তাকে মনে হয়েছিলো পৃথিবীর কোন শক্তি নাই যা রানার কাছ থেকে আমাকে আলাদা করতে পারে, অনেকক্ষণ কান্নার পরে শুধু বলেছিলাম, তুমি ছাড়া আমি খুব শুন্য খুব একা, আমার আর কিছু নেই তোমার মধ্যে আমি বিলীন হয়ে গেছি মিশে গেছি ‘আমাকে ছেড়ে তুমি যেও না’ আমি মরে যাবো, আমি শেষ হয়ে যাবো।
সেই আকুল হয়ে রানার কাছে নিজের ভালোবাসাকে ভিক্ষে চাওয়ার ক্ষণটি আমি আজও ভুলিনি, সে দৃশ্য না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না- কি অস্থির, আকুল ছিলো চাওয়াটা।
রানার মন গললো, আমাকে জড়িয়ে ধরলো আমিও প্রবল আনন্দে গভীর সুখে মিশে গেলাম তার মাঝে- তারপর ফিরে পাওয়ার আনন্দে কতক্ষণ কেঁদেছি মনে নেই। ভালোবাসার সুখ দুঃখ দুটোই বুঝেছিলাম সেদিন।
এর পর চললো আবার সেই অস্থির হয়ে ছুটে চলা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



