চলছে.......
ভালোবাসা বড় অদ্ভুত জিনিস, বড় জটিল, একটা মায়াজালের মতো শুধু টানে, মরণফাঁদ জেনেও মানুষ ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় সেই মায়াজালের দিকে, এক পর্যায়ে কঠিনভাবে আটকে যায়। বেরোবার পথ চিরতরে বন্ধ।
আটকে গেছি আমি, সেই জাল থেকে বেরোতে চাইলাম, কিন্তু পারলাম না। রাতের ভাবনা সকালে উঠেই ভুলে গেলাম, মূহুর্তের মধ্যে মনে হলো রানার কোনো দোষ নেই। আবার বেঁকে বসলাম আমি, রানাকে আমার চাই যেভাবেই হোক। রানাকে ভালোবাসতাম সত্যি কিন্তু তখন শরীরের চাওয়াটাও অনেক টানছিলো আমায়, নিজেকে কোনভাবেই কন্ট্রোল করতে পারছিলাম না, তাকে কাছে পাওয়ার প্রবল ভাবনা থেকে হয়তো এমন হচ্ছিলো। আজানার প্রতি তীব্র আকর্ষন আমাকে অস্থির করছিলো।
তখন আমি প্রচন্ডভাবে অপেক্ষা করছি আমার এই তীব্র চাওয়াটাকে পাওয়া হিসেবে রূপান্তরিত করতে। তবে চাওয়টা যত প্রবলই হোক না কেনো বিয়ের আগে আমি কিছু করবো না এটা আমার ডিসিশন ছিলো। জীবনের একটা বড় অংশ জুড়ে আছে যা, ঐশ্বরিক একটা জিনিস, কিন্তু এই চমৎকার জিনিসটটি পাওয়ার তীব্র আকাংক্ষা আমার জীবনটা শেষ করেছে। সব ভুলে গিয়েছিলাম আমি, মাথার মধ্যে শুধু একটা চিন্তাই ঘুরপাক খেতো। ছোটবেলা থেকেই যা চেয়েছি তাই পেয়ে অভ্যাসটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু এতোবড় কঠিন জিনিস চাইলেই পাওয়া যায় না, তা অর্জন করতে হয়, তা বুঝতে পারছিলাম না।
হয়তো অর্জন করার জন্য ছুটলাম রানার কাছে, তার মা কেনো এমন খারাপ ব্যবহার করলো? এখন কি করা যায়? কিন্তু রানা বললো তোমার বাবা কেনো বাসা থেকে বের করে দিয়েছে? অবাক হলাম তার কথা শুনে। যাই হোক অনেক কথা হলো, এক পর্যায়ে রানা বললো তোমার বাবা মাকে আমার বাসার এসে ‘সরি’ বলতে, তারপর ফাইনাল কথা বলতে।
এমনই পাগল হয়েছিলাম যে, আব্বাকে যেয়ে বললাম রানার বাসায় যেতে। যেভাবেই হোক রাজী করালাম। আব্বাকে যে সেদিন কতটা ছোট করেছিলাম সেটা ভাবতে গেলে বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠে। আসলে ঐ মুহূর্তে ওসব ভাবনার সময় ছিলো না, রানা তারিখ জানালো কবে যেতে হবে। রানাকে বার বার বলে রাখলাম তার মা যেনো খারাপ ব্যবহার না করে।
আব্বা আম্মা গেলো বিয়ের তারিখ করতে, ওখানে যেয়ে আব্বা মা কি বলেছিলো আজও জানি না, রাজি হলো রানার মা, ঠিক হলো বিয়ের দিন। তখন মনে হয়েছিলো জীবনের শ্রেষ্ঠ জিনিসটা পেতে চলেছি।
চলবে......

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

