চলছে...
রানার মা আমার সাথে কখোনোই ভালো ব্যবহার করেনি, অদ্ভূত ট্র্যাডিশনাল শাশুড়ি ছিলেন তিনি, বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে হিসাবে খারাপ ব্যবহার তো দূরে থাক ভীষন আহলাদে বড় হয়েছি আমি- তাই তাকে খুব ভয় পেতাম।
আমার ননদ ইভার বিয়ের কথা হচ্ছিলো ওকে দেখতে আসবে, রান্না করতে হবে আমাকে বললো, পোলাও রোস্ট ইত্যাদি। আমিতো এতো কিছু রাধঁতে পারি না, কিন্তু ভয়ে বলতে পারলাম না, টেলিফোনটা ঘরে নিয়ে আম্মাকে ফোন করলাম কিভাবে কি করে জেনে লিখে রাখলাম। পরদিন রান্নার পালা, ভয়ে ভয়ে রাঁধতে গেলাম, আমাকে মুরগী কাটতে দিলো আমিতো পারি না, তাও চেষ্টা করছিলাম কাটতে, উনি রেগে গেলেন বললেন তোমার মা এতোটুকু কাজও শেখায়নি, কিছু বলার নেই চুপ করে ছিলাম মনে খুব কষ্ট নিয়ে।
চুপচাপ ভয় নিয়ে একা একাই রান্না করলাম, যদি খারাপ হয় তবে কি হবে!খুব ভয লাগছে। যাক শেষ পর্যন্ত খারাপ হয়নি, ইভার শশুরবাড়ির মানুষ খাবার খেয়ে অনেক প্রসংশা করলো। আমি হাপ ছেড়ে বাঁচলাম। মেয়েও পছন্দ হলো ওদের, ছেলে ম্যাজিষ্ট্রেট, বিয়ের দিন ঠিক হলো। ইভার পছন্দ হয়নি ছেলেকে, ও অনেক কাঁদলো কিন্তু ওদের ফ্যামিলির নিয়মটাই এমন কোনো প্রতিবাদ করতে পারলো না, অপছন্দ নিয়ে রাজি হতে বাধ্য হলো। আমার শশুর ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন ঢাকার বাইরে চাকরি করতেন। তাঁর কথার কোনো মূল্য ছিলো না, রানার মার ডিসিশনই ফাইনাল। তিনি অদ্ভুত লোক ছিলেন কারো সাথে তেমন কথা বলতেন না।
এত সব লেখার কারণ ওদের ফ্যামিলি সম্পর্কে একটা ধারণা দেওয়া।
যাই হোক নিজের কথায় আসি, বাড়ির সবার ব্যবহারে অতিস্ট থাকলেও রানার ব্যবহারে তখন খুশিই ছিলাম।
আমার ছোটভাই অরণ্য আমার বাসায় যাওয়ার জন্য পাগল ছিলো আমার ঘরটা ওর খুব প্রিয় ছিলো, বলতো আপু তোমার ঘরটা এতো গোছানো ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বেহেস্তে আছি। প্রায় একদিন দুইদিন পরপর ও সাইকেল নিয়ে আসতো। কিছুক্ষণ থাকতো তারপর আবার সাইকেল নিয়ে চলে যেতো।
এতো কাজ করে আমার কাপড় ধুতে খুব কষ্ট হতো, তাই অরণ্য চলে যাওয়ার সময় ওকে নিচে দাড়াতে বলতাম, আমি ধোয়ার কাপড়গুলো একটা চাদরে বেঁধে বারান্দা দিয়ে নিচে ফেলতাম- অরণ্য সাইকেলের পিছনে করে বাসায় নিয়ে যেতো, বাসায় কাজের মেয়ে ধুয়ে রাখতো, আমি বাসায় বেরাতে গেলে আসার সময় নিয়ে আসতাম। কেমন যেনো লুকোচুরি মধ্যে দিয়ে জীবন চলছিলো।
তবু প্রতি রাতের ভালোবাসার রেশটুকু নিয়ে চলতো আমার সারাদিনের সংগ্রাম এবং পরের রাতের অপেক্ষা...
জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে দুজনের মতের মিল হচ্ছিলো না, সে আমাকে ওষুধ খেতে বলতো, কিন্তু আমি ওষুধ খেতে ভয় পেতাম আমার ধারণা ছিলো প্রথম বাচ্চা হওয়ার আগে ওষুধ খেলে অনেক সময় বাচ্চা হয় না। রানা অনেক বুঝালো কিন্তু আমি রাজি হলাম না রানাকে বললাম তুমি ব্যবহার করো, সেটাই হচ্ছিলো কিন্তু স্বাভাবিকভাবে সেটা রানার ভালো লাগছিলো না, ও আমাকে অন্য প্রস্তাব দিলো বললো সে কিছুই ব্যবহার করবে না অন্য নিয়মে হবে, আমি অত বুঝি না। কিছুটা টেনশন মনে থেকে গেলো রিস্কি মনে হলো বিষয়টি, কিন্তু আমিও রাজী হয়ে গেলাম নির্দিষ্ট কোনো কারণে।
সেক্সটাকে আমি যেমন ভেবেছিলাম রানার চাওয়াটা ঠিক সেরকম ছিলো না, আমি চাইতাম আদরের প্রতিটি মূহুর্ত অনুভব করতে, ভালোলাগাটা ধীরে ধীরে প্রচন্ড করে তুলতে তারপর অন্যকিছু...। ছোট ছোট কিছু চাওয়া ছিলো আমার, সুক্ষ কিছু অনুভূতি কিন্তু রানা তার ধারে কাছে কখোনো যায়নি। আমি লজ্জায় কখোনো বলতে পারিনি। কিন্তু তার পাওনাটা সে সবসময়ই পেয়েছে সে যেভাবে চেয়েছে। কখোনো একবার কখোনো বহুবার তার যেমন ইচ্ছা।
কিন্তু মনের ভিতর কেমন যেন একটা অতৃপ্তি থেকে যেতো আমার। তার আদরে আমি পরিপূর্ণ ছিলাম না। আমার খুব সুক্ষ অনুভুতিগুলো আমার কাছে অনেকবেশী গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। অনুভব করতে চেয়েছিলাম প্রতিটি মূহুর্ত। কিন্তু রানার কাছে সেক্সটাই প্রধান ছিলো। মূল কাজের আগে ভূমিকা কম ছিলো।
এভাবেই চলছে রাতের পর দিন, দিনের পর রাত। খারাপ ছিলাম তা বলবো না সবার জীবনেই কিছু না কিছু অতৃপ্তি থাকে। কিন্তু শুনতে খারাপ মোনা গেলেও সত্যি সংসার জীবনে সেক্সুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা একটা বড় বিষয়। পরোক্ষভাবে তা প্রভাব ফেলে শরীর ও মনে।
অতৃপ্ত ছিলাম বলেই কখোনো নিজেকে হালকা মনে হয়নি, সব সময় মাথার মধ্যে ঐ চিন্তাটাই ঘুরপাক খেতো, আবার কখোন পাবো, মুখে কিছু বলতে না পারলেও তাকে সব সময় কাছে পাবার জন্য অস্থির থাকতাম, প্রতিবারই মনে হতো এবার হয়তো একটু অন্যরকম আদর পাবো। কিন্ত যাই হোক................
রানা যতক্ষণ বাসায় থাকতো পুরোটা সময়ই তাকে কাছে পেতে চাইতাম কিন্তু সে বিরক্ত হতো বলতো সব সময় এমন করলে হবে?
আমি লজ্জা পেয়েছিলাম অবাকও হয়েছিলাম, বান্ধবীদের কাছে শুনেছিলাম ছেলেদের যন্ত্রণায় মেয়েরাই নাকি বিরক্ত হয়ে যায়। তবে আমার ক্ষেত্রে উল্টা হলো কেনো! তবে কি আমিই বেশী জালাচ্ছি? কিন্তু এতেতো রানার খুশি হওয়ার কথা তবে এমন হলো কেনো? নানা এলোমেলো চিন্তা মনে ঘুরপাক খেতো। কিছুটা দমে গেলাম।
রানার আদরটা ছিলো খুব ক্রেজি হিংস্রা শুধু ভোগ করা, নিজের চাওয়া পাওয়াটাই প্রধান ছিলো, তার বিনিময়ে আমারও যে কিছু চাওয়ার থাকতে পারে তা সে কখোনো ভাবেনি। সারাজীবন যে আদর আমি কল্পণা করেছি যার জন্য অধীর হয়ে বসে আছি তা যেন মিললো না। দেহের সাথে মনের গভীর একটা সম্পর্ক আছে। আদরটা যেমন দেহের চাহিদা মিটায় তেমন মনেরও বটে। দেহের চাওয়া মিটতো ঠিকই কিন্তু মনের চাওয়া মিটতো না।
ধীরে ধীরে একটু একটু করে জমতে থাকলো কষ্ট, অভিমান।
যে কষ্ট আমি একবার পাই তা আজীবন আমার মনের মধ্যে থেকে যায় তা সে ছোটই হোক আর বড়ই হোক, সব কষ্টগুলো জমা আছে কখোনো ভুলবো না কোন স্মৃতি আমি। এতো বছর পরেও আজও সব পরিস্কার।
এখোনো অনুভব করতে পারি রানার ছোঁয়া, সে আমার প্রথম ভালোবাসা, প্রথম প্রেম, প্রথম আদর।
তবে প্রথম ভালোলাগা বলা যায় না.........
চলবে..

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


