চলছে...
এখোনো অনুভব করতে পারি রানার ছোঁয়া, সে আমার প্রথম ভালোবাসা, প্রথম প্রেম, প্রথম আদর।
তবে প্রথম ভালোলাগা বলা যায় না.........
ক্লাস টেনে পড়ি, আমাকে পড়াতো বুয়েটের (আর্কিটেক্ট) একজন স্টুডেন্ট। একই এলাকায় থাকতাম। ফাহিমভাই ডাকতাম, খুব ভালো পড়াতো উনি।
ফাহিমভাই একমাসের জন্য নেপাল বেড়াতে যাবে, তো ঐ সময়টা উনার ছোটভাই নাঈমভাইকে দিয়ে গেলেন আমাকে পড়াতে। উনিও বুয়েটে পড়তো। উনি আমাকে যখন পড়াতো মাঝে মাঝেই পড়া রেখে অন্য কিছু গল্প করতো, ভালোই লাগতো...বয়সটাই হয়তো এমন। পড়ার ফাঁকে হঠাৎ চোখাচোখি, সেটুকুই অনেক কিছু,মনে হতো তখন, আর কেনো যেনো মনে হতো উনি আমাকে পছন্দ করে। আমারও কেমন যেনো একটু ভালো লাগতে শুরু করলো। এভাবেই চলতে থাকলো। একটু চোখাচোখি একটু ভালোলাগা।
বুয়েটের নাটকগ্র“পের সাথে উনি যুক্ত ছিলো, আমাকে বললো কোনো একটা নাটকে উনার সাথে অভিনয় করার জন্য, আমারও ইচ্ছা হলো। নাঈমভাই আম্মাকে বললো -প্রথমে আম্মা রাজী হতে চায়নি পরে কেনো যেনো রাজী হলো। এলাকায় খুব ভালো ছেলে হিসাবে উনাদের সবাই চিনতো এছাড়া তাদের বাসায় আমাদের আসা যাওয়া ছিলো। নাটকে অভিনয় করতে হলে রিহার্সেল করতে হবে এবং রিহার্সেলে যেতে হবে নাঈমভাইকে আম্মা শর্ত দিলো আম্মাও প্রতিদিন সাথে যাবে। তাই হলো। শুরু হলো রিহার্সেল। সপ্তাহে তিনদিন করে। একটু একটু করে আরো ভালো লাগতে শুরু করলো নাঈমভাইকে। রিহার্সেল তখন শেষের দিকে কোন একটা দৃশ্যে হয়তো নাঈমভাই আমার হাত ধরেছে এমন কিছু একটা ছিলো। সেইটুকু আম্মা সহ্য করতে পারলো না। বাসায় যেয়ে আম্মা বললো নাটক করতে হবে না গায়ে হাত দেয়া আমার পছন্দ না। সব বন্ধ ফাইনালি আর স্টেজে উঠা হলো না। নাঈমভাই বিপদে পড়লো। যাই হোক কি করে ম্যানেজ করেছিলো জানি না। তবে আমার আর নাটক করা হলো না। কিন্ত নাইমভাইকে মনে ভালোবাসাতে শুরু করেছি, ভালোলাগার কথা তাকে বলার জন্য কিছুটা উদগ্রীব
এর কিছুদিন পর নাঈমভাইকে শাহস করে ফোন করলাম বেশ অস্বস্তি নিয়ে নিচু গলায় আমার ভালোবাসার কথা জানালাম। সেটাই আমার প্রথম এবং শেষ কাউকে ভালোবাসা জানানো। এর পর থেকে হয়তো ভালোবাসার আহবান পেয়েছি কিন্তু সারা দিতে পারিনি। অনেক সময় অনেকের সাথে ফ্রেন্ডশিপ হয়েছে, কিন্তু ভালোবাসার কথা বললে, আর কেনো যেনো ভালো লাগতো না। যা সহজে পাওয়া যায় হয়তো তা কারোই ভালোলাগে না, যা অর্জন করতে হয় এমন কিছু পাওয়ার মধ্যে আনন্দ অনেক ।
সে তখন ২য় বর্ষে, নাঈমভাইও সাড়া দিলো, তবে আমাকে বললো তুমি আর কয়েকমাস ওয়েট করো তোমার পরীক্ষাটা হয়ে যাক তারপর আমরা ডেট করবো। তুমি এখোনো ছোট পার্কে বসে বাদাম ভাজা খাওয়ার বয়স এখোনো তোমার হয়নি।
অপমানিত বোধ করলাম, তা ছাড়া পাগল হবার মত আকৃষ্ট ছিলাম না তার প্রতি, কেন যে বলেছিলাম জানি না। তা ছিলো ছোট মনের হঠাৎ ভালোলাগা। ডিসিশন নিলাম আর ফোন করবো না। তারপর অনেকদিন আর যোগাযোগ হয়নি।
বছরখানেক চলে গেলো রানার সাথে বিয়ের পর, আম্মার এক বান্ধবীর বাসায় দেখা হয়েছিলো নাঈমভাই-এর সাথে।
মনে মনে জেদ ছিলো বলতে ছাড়িনি সেদিন তাকে,
আমাকে জিজ্ঞেস করলো আমি তো জানি না তোমার বিয়ে হয়ে গেছে?
আমি বললাম পার্কে বসে বাদাম ভাজা খাওয়ার সময় বয়স না হলেও, বিয়ের বয়স ঠিকই হয়েছে।
নাঈম ভাই হেসে ফেললো বললো আমার উপর রেগে আছো।
বলেছিলাম আর রেগে লাভ কি! বয়স হয়েছে এমন একটা মেয়ে এখোনো খুঁজে পাননি? সময় চলে যাচ্ছে খুঁজে নিয়ে পার্কে বসে বাদাম ভাজা খেয়েন। তা না হলে আপনার বয়স পার হয়ে যাবে।
কোথা থেকে কোন গল্পে চলে এলাম, নাঈম ভাই এর গল্পও বলতে ভুলিনি রানাকে।
প্রথম প্রথম সবই সহজভাবে নিতো রানা, পরে কিছু সমস্যা হয়েছিলো।
চলবে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


