somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবনের কথা-২৭

২৬ শে মে, ২০১০ দুপুর ১২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চলছে...

ভালো খারাপের মধ্যে দিয়ে চলছিলো সময়। শরীরটা একটু ভালো হলো মাঝে মাঝে কলেজে যাচ্ছি। মনের মধ্যে একটা খুশি একটা ভাবনা ঘুরপাক খেতো কবে বাবু হবে কবে আদর করবো।
আম্মার বাসায় যখন থাকতাম সারাদিন মেশিনে সেলাই করতাম, কখোনোই আমি চুপচাপ বসে থাকতে পারি না। আম্মা বকা দিতো আর আব্বা বলতো সারাদিন সেলাই করলে তোমার ছেলে দরজী হবে!
আমি রাগ হতাম আব্বার উপর বলতাম ছেলে কেনো বলছো আব্বা, আমার মেয়ে হবে। আমি মেয়ে পছন্দ করি।
আব্বা হাসতো ঠিক আছে মেয়েই হবে।
রানাদের বাসায় সবাই ছেলেই চেয়েছিলো তথাকথিত নিয়মে।
শরীর পুরোপুরি ভালো হলো, শুরু হলো আমার আবার লাফ ঝাপ, দৌড়ে ছয়তলায় উঠা নামা, আমি ভুলেই যেতাম আমি প্রেগনেন্ট।
বাবু হওয়ার পর পরীক্ষা দিতে পারবো তো তা নিয়েও মাঝে মাঝে চিন্তা, আমার শাশুড়ীতো একদিন বলেই ফেললেন আর পড়ার দরকার কি?
কথাটা শুনে অনেক ভয় পেয়েছিলাম, মনে হয়েছিলো পড়াশুনাটা বোধ হয় বন্ধই হয়ে গেলো, কিন্তু যত কষ্টই হোক পড়া আমি বন্ধ করার কথা ভাবতেও পারিনি।
সবার অমতেই কলেজ যাচ্ছি, এমনিতেই কেউ দেখতে পারতো না, এসব কারণে আরও যেনো অসহ্য হয়ে উঠলাম।
এতো কিছুর পরও বাসায় কাজ করতে হতো, শবেবরাত আসলো অনেক কাজ রুটি বানাতে হবে, বাবু পেটে নিয়ে বসে থাকতে অনেক কষ্ট হতো তারপরও করতেই হবে অনেকগুলো রুটি বানাতে হয়েছিলো, পরদিন হাতে ফোস্কা পরে গেলো, বাবার আহলাদী মেয়ের আজ এই অবস্থা।
কাজের মেয়েকে কোনো রকম অর্ডার করা আমার নিষেধ ছিলো।
একদিন আমি কিছু অর্ডার করেছিলাম মেয়েটা শোনেনি বলে আমি বকা দিয়েছিলাম, রানার মা সেদিনই সরাসরি আমাকে বলেছিলো ওকে তুমি কিছু বলতে পারবে না, এবাসায় থাকতে হলে তোমাকে এভাবেই থাকতে হবে। চুপ করে ছিলাম বলার কিছু ছিলো না। প্রতিবাদের ভাষা একটু কমই জানি আমি। হয়তো তা আমারই দোষ। হঠাৎ করে কাজের মানুষটা বাড়িতে বেড়াতে গেলো, মেয়েটা বাড়ি যাওয়াতে আমার কাজের চাপ আরও বেড়ে গেলো, সব কাজ করতে হতো এমনকি প্রচুর হাড়িপাতিল সবই ধুতে হতো।
আমার শাশুড়ী কখোনো আমাকে রেস্ট নিতে দিতো না, বলতো এসময় বেশী হাটাহাটি করতে হয়।
কেমন যেনো ভয়ে ভয়ে থাকতাম। কখোনো যদি দুপুরে একটু শুতাম, একটু শব্দ পেলেই ভয়ে লাফ দিয়ে উঠতাম, রানার মা আসলো বোধ হয়। মাঝে মাঝে কেমন সিনেমার মত মনে হতো, সত্যি চরম বাস্তবতার সাথে আমার কোনো পরিচয়ই ছিলো না। একটু একটু করে জানতে শুরু করলাম জীবনের বাস্তবতা।
সয়ে যাবার একটা অভ্যাস ছোটবেলা থেকে গড়ে উঠেছিলো। সেটাই আমার জীবনটা এলোমেলো করেছিলো। কিছু অবস্থার প্রতিবাদ করতে হয়, কিছু অধিকার আদায় করে নিতে হয়...কিন্তু সবাই কি তা পারে? সেই না পারাই জীবনের কমতি...পরাজয়

যাক অনেক বাধাবিপত্তির মধ্য দিয়ে সময়টা শেষ হলো- বাবু হওয়ার সময় হয়ে গেলো, শরীর শেষের দিকে ভালোই ছিলো। ১৬মার্চ বাবু হওয়ার তারিখ, কিন্তু ১৫ তারিখ রাতেও রানা আমাকে ছাড়েনি, তার কথায় রাজি হতে হয়েছিলো অনেক ভয় মনের ভিতর নিয়ে, যদি বাচ্চার কোনো সমস্যা হয় আমি শুনেছিলাম বাবু হওয়ার আগে মাস খানেক গ্যাপ দিতে হয়। হয়তো সেটাই হওয়া উচিত ছিলো। তবে তা হয়নি।
পরদিন বাচ্চা হবার তারিখ কিন্তু আমার ব্যাথা উঠলো না, বিকালে ডাঃ এর কাছে গেলাম, বসে আছি সময় যাচ্ছে না বিশাল লাইন, রানাকে বললাম আমার কিছু খেতে ইচ্ছা করছে- পেটিস খাবো, কাছেই একটা দোকানে গেলাম পেটিস আর কোক খেলাম। সময়মত ডাঃ দেখে বললো ভর্তি হতে বাবু হওয়ার সময় হয়ে গেছে।
ভর্তি হলাম ক্লিনিকে সারারাত গেলো কোন লক্ষণ নাই, সকালে ড্রিপ দিলো তারপর ব্যাথা শুরু হলো অসহ্য ব্যাথা চিৎকার শুরু করলাম আমি, ডাঃ অনেক ট্রাই করলেন নরমাল বাচ্চা হওয়াবার জন্য কিন্তু হচ্ছে না, আমি চিৎকার করেই যাচ্ছি। সত্যি কষ্ট সইবার ক্ষমতা তখনও তৈরি হয়নি। হসপিটালের অনেকে ছুটে এলো এত চিৎকার শুনে- সবাই এসে বলছে এ যুগে এত অল্প বয়সে বাচ্চা হচ্ছে...?
ডাক্তাকে বার বার বলছি অপরেশন করে বাচ্চাটা বের করে ফেলেন, তারপরও তারা বিকাল পর্যন্ত চেষ্টা করলো, শেষ পর্যন্ত অপরেশন করতেই হলো। অপরেশন থিয়েটারে নিয়ে গেলো ভয় করছিলো, জ্ঞান ফিরে জানলাম ছেলে হয়েছো ওজন ৮ পাউন্ড।
১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, ভালো লাগলো এই ভেবে আমার ছেলেরও জন্মদিন এমন একটা দিনে।
সবাই খুশি কারণ ছেলে হয়েছে, যদিও আমি মেয়ে চেয়েছিলাম ঠিকই কিন্তু বাচ্চা দেখার পর আর কিছু মনে ছিলো না খুব ভালো লেগেছিলো, জীবনে অন্য অধ্যায়ের সূচনা। পরম আনন্দে বুকে জড়িয়েছিলাম ওকে। কিছুটা সময়ের জন্য জীবনের ছোট খাটো কষ্টগুলো ভুলে গিয়েছিলাম।
চারদিন হাসপাতালে ছিলাম-তারপর চরম আনন্দে বাচ্চা নিয়ে বাসায় ফিরলাম, ওকে নিয়ে তখন আমার জগৎ খেলনার মত ওকে নিয়ে এটা করছি সেটা করছি, অদ্ভূত সে ভালোলাগা....

চলবে....
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:০০
২২টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×