চলছে....
জানি না সেদিন কাওসার কি ভেবেছিলো, তবে বন্ধুত্ব নষ্ট হয়নি।
ক্লাস চলছে, খুব ভালো লাগতো ছবি আঁকতে। ক্লাসের ফাঁকে মাঝে মধ্যে গল্প হতো বন্ধুবান্ধবদের সাথে।
এভাবেই চলছিলো।
সকালে চারুকলা চলে আসি, তাই বলে কি কাজ বন্ধ থাকবে ! রাতে বাসায় যেয়ে রান্না করতে হতো।
তাই বলে রানার মার কাছে কোন ভালো ব্যবহার কখোনো পেয়েছি বলে মনে পড়ে না। তবে রানার খালারা, খালাতো বোনরা সবাই আমাকে অনেক ভালোবাসতো খুব আদর করতো।
কোরবানী ঈদ চলে আসলো রানারা একটা গরু একটা খাসী কোরবানী দিতো। মাংস বাসায় আনার পর সমস্ত মাংস কেটে ফ্রিজে উঠানো রান্না করা সব আমার একা করতে হতো। কেউ হেল্প করতো না। সবাই হাটাহাটি করতো তবু কাছে আসতো না। কাজ শেষ করে তারপর বিকালে আম্মার বাসায় যেতাম। খুব কষ্ট হতো আমার। রানাও আর সমবেদনা প্রকাশ করে না। কেমন যেনো একা হতে শুরু করলাম। সব মেনে নিতাম শুধু রানার মমতা পেলে। সব সময় একটা এক্সট্রা কেয়ার চেয়েছি আমি, যদিও পাইনি কখোনো তবু আশা করে যেতাম।
রানা ক্লিনিকের চাকরিটা ছেড়ে দিলো, সকালে শিশু হাসপাতালে যেতো বিকালে যাত্রাবাড়ি একটা চেম্বারে বসে।
বাসায় আসতে রাত হয়ে যায় আজকাল। যদিও মন খুব খারাপ হতো তবু করারতো কিছু নাই। বারন্দায় দাড়িয়ে অপেক্ষা করা ছাড়া।
আস্তে আস্তে কল্পণা থেকে বাস্তবে ফিরে আসছি, অনেক কিছুই মিলাতে পারছি না কল্পনার সাথে। হোচট খাচ্ছি মাঝে মাঝেই।
রানা হাসপাতাল থেকে এসে খেয়ে একটু ঘুমাতো তারপর ৩টায় চলে যেতো যাত্রাবাড়ি। দুপুরে রানার সাথে কথা বলার তেমন সুযোগ পেতাম না। সারাদিন অনেককিছুই হতো যাতে আমার মন খারাপ হতো তাই রাতে রানা আসলে তাকে একটু বলে হালকা হওয়ার চেষ্টা করতাম।
কোনো সমাধান আমি চাইনি, শুধু একটু শান্তনা চেয়েছিলাম। আজকাল এসব বললেও রানা কেমন বিরক্ত হয়। রাগ হয়ে যায়। তাতে মনটা যতটুকু খারাপ থাকে তার চেয়ে ডবল খারাপ হয়ে যায়। তারপরও রানা টায়ার্ড এই ভেবে চুপ করে থাকতাম। মনের ভিতর কষ্ট জমতে থাকলো একটু একটু করে। চেপে রাখতাম, ঝগড়া করতে ভালো লাগে না আমার।
রাতে শোয়ার পরে ইদানিং আদরটাও ঠিকমত করে না কেমন যান্ত্রিক হয়ে গেছে ব্যাপারটা, সেটা আমার ভালো না লাগলেও কিছু করার ছিলো না। প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলেই অন্যদিক ফিরে শুয়ে ঘুমিয়ে পরতো ।
কখোনো আমার সবটুকু ভালো করে দেখারও চেষ্টা করেনি। কিছু ছোট ছোট অনুভূতি যা মানুষকে ছুঁয়ে যায় তার ধারে কাছে সে কখোনো যায়নি সে। কোথায় সে পরশ? তবে কি জীবন এমনই? নানা ভাবনায় জর্জরিত হতাম আমি।
রানাকে না ধরে আমি ঘুমাতে পারতাম না, রানা অন্যদিক ফিরে শুয়ে থাকলেও আমি পিছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমানোর চেষ্টা করতাম। আর চোখ বুজে কল্পনা করতাম আমি যা চাই তেমন কিছু, মাঝে মাঝে পুরোপুরি মিশে যেতাম আমার কল্পণার স্বপ্ন পুরুষের সাথে যার চেহারা দেখা যায় না শুধু অনুভব করা যায়, আর রানাকে জড়িয়ে ধরে সেই স্বপ্ন পুরুষের ছোয়া অনুভব করার চেষ্টা করতাম। কারণ চোখও বন্ধ লাইটও বন্ধ তাই দেখতে পাচ্ছি না কিছু তাই পূর্ন কল্পণা শক্তি দিয়ে আমার সেই কল্পণার মানুষটির কাছ থেকে পুরোটাই নিয়ে নিতাম যা আমি চাই, যে আমার ভাবনার রাজ্যে এক অদেখা স্বপ্নপুরুষ.......
পূর্ণ অনুভুতিতে ভাসাতাম নিজেকে। মুহুর্তের জন্য পরিপূর্ণ হয়ে উঠতাম আমি। ভুলে যেতাম এটা আমার কল্পণা। যখন চোখ খুলে দেখি সবটাই কল্পণা তখন একটু খারাপ লাগলেও, কল্পণায় ভালোলাগার অনুভুতিটাইবা কম কিসে।
হয়তো অকুল সাগরে এ আমার নীরব শান্তনা।
চলবে.....
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১০ বিকাল ৫:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


