চলছে...
রানা আমার সাথে যেমন ব্যবহারই করুক না কেনো আমি রানাকে কখোনো কিছু লুকাইনি।
এতকিছুর পরও তখনও রানার প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা ছিলো আমার, কোন ফাঁকি ছিলো না তাতে, তাই চারুকলায় যাই ঘটতো বলে ফেলতাম তাকে। কাওসারের কথাও বলেছিলাম রানাকে, কিন্তু আমার বলা উচিত হয়নি, সেটা পরে বুঝেছিলাম।
তাকে না বলে আমি থাকতে পারতাম না। তখন বুঝিনি যে একটা মানুষ কখোনো পুরোপুরি অন্য একটা মানুষের মাঝে মিশে যেতে পারে না। মিশে যেতে চেয়েছিলাম পুরোপুরি রানার মাঝে। ভুলে গিয়েছিলাম আমি প্রতিটা মানুষের আলাদা একটা অস্তিত্ব আছে একটা জগৎ আছে। এত কিছু বোঝার মত বুদ্ধি আমার ছিলো না। ক্ষুদ্র গন্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিলাম আমি। রানাকে ঘিরেই ছিলো আমার জীবনের সব ভাবনা। ভুলটা সেখানেই আমার, নিজেকে আলাদা করে ভাবতে পারিনি কখোনো তাই কষ্টও পেয়েছি অনেক বেশি।
রানা মাঝে মাঝেই চারুকলায় আসতো একদিন চারুকলা এসে দেখলো মাঠে বসে ল্যান্ডস্কেপ করছি আমি, ঝন্টুও ছিলো পাশে।
রানাকে আগেই ঝন্টুর কথা বলেছিলাম পরিচয় ছিলো না পরিচয় করিয়ে দিলাম।
রানা হঠাৎ করে আমাকে খোঁচা দিয়ে বললো আমার বউ-এর পছন্দটাতো বেশ ভালোই।
আমার রাগ হলো, ঝন্টু একটু অসস্তি বোধ করলো তবে ও হেসে অন্য কথা বলে সে বিষয়টাকে নরমাল করার চেষ্টা করলো।
সেদিন ঐ পর্যন্তই। রানার সাথেই বাসায় ফিরলাম।
রানা ভেসপা চালাতো মাঝে মাঝে তার সাথেই বাসায় ফিরতাম।
মনে হলো ঝন্টুকে তার পছন্দ হয়নি, দেখতে ভালো অল্প বয়েসি একটা ছেলের সাথে বন্ধুত্ব ঠিক মানতে পারলো না। তাছাড়া কাওসারের ঘটনাটা সে জানে। হয়তো ভয় পেলো।
সেজন্য আমি রাগ করিনি ভালোবাসলে ভয় থাকতেই পারে। তবে কোনো কিছু নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি ভালো না, সেটা মানা যায় না।
তবে রানাকে পাওয়ার পর থেকে আমার ভিতর একটা কনফিডেন্স আমি লক্ষ্য করেছি -
রানাকে ছাড়া অন্য কাউকে কখোনো আমার ভালো লাগবে না তা বলবো না, অল্পবিস্তর লাগতেও পারে তবে ভালোবাসা হতে পারে না কখোনো। এই যে আমার নির্দিষ্ট ভাবনা-এইরকম কিছু কিছু ভাবনা আমার জীবনের জন্য অনেক বড় একটা পাওয়া, যা আমার ভিতর থেকেই তৈরি হয়। যা আমাকে ঠিক পথে চলতে সাহায্য করেছে, জীবন চলার পথে। তবে নির্দিষ্ট ভাবনাগুলো আমাকে সাহায্য করেছে সত্যি কিন্তু এলোমেলো ভাবনাগুলোও অস্তির করেছে সবসময়, তবে আমার অস্থির ভাবনাগুলো যতই আমাকে কষ্ট দেক নির্দিষ্ট ভাবনারই জয় হয়েছে সবসময়। কারণ সেটা যুক্তি দিয়ে ভাবা হয়।
জীবন চলছে আমিও চলছি তবে খুব ধীর গতিতে মৃদু পদক্ষেপে নিস্পৃৃহভাবে। সেই অস্থির পথচলাটা আর ছিলো না।
কি ভাবলাম আর কি পেলাম প্রতি মুহুর্তে এই কথাটি প্রতিধ্বনিত হতো মনের মধ্যে !
রানা কেনো এমন হয়ে গেলো তাই নিয়ে সবসময় ভাবতাম, রানার উপর খুব বেশী নির্ভরশীল হয়ে পরেছিলাম আমি।
আরতো কিছু ছিলো না আমার জীবনে। রানাকে আকড়ে ধরেই বাঁচতে চেয়েছিলাম, আমার ছোট্ট জগতে।
সেভাবেই চলছে রানা চেম্বার থেকে আসে খাওয়া দাওয়া করে শুয়ে পরে, আমার সাথে সেক্স করে তারপর ঘুমিয়ে পরা, আর প্রতি রাতেই চলে আমার কান্না মাঝে মাঝে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারতাম না ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতাম কখোনো কখোনো রানা জেগে যেতো তখন আমার কান্না দেখে সে রাগ হতো বিরক্ত হতো, অথচ আমাকে একটু বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরলেই আমার সব কষ্ট মুহুর্তের মধ্যে মুছে যেতো, শুধু ভাবতাম একটু জড়িয়ে ধরলে কি হয়! আমার সব কষ্ট মুছে দিলে কি হয়! কিন্তু তা হতো না....
সারা জীবন চেয়েছিলাম আমার প্রিয় মানুষটি আমার কান্না সহ্য করতে পারবে না, কখোনো আমাকে কাঁদতে দেবে না, আমি কাঁদলে তার কষ্ট হবে, আমি কাঁদলেই আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে আদরে আদরে ভরিয়ে দেবে!
সেই ভাবনার এই কি প্রতিফলন?? এ কেমন জীবন পেলাম আমি। যে আমি ভালোবাসার স্বর্গ রচনা করেছিলাম তা কেনো সমাধি হলো। আবেগ আর আদরের সাগরে ডুব সাতার দিতে চেয়েছিলাম তা কেনো তপ্ত বালুচর হলো।
রানার অসাবধানতা আর আমার পাগলামীতে আবার প্রেগনেন্ট হলাম আমি।
বাবু ছোট, তারপর পড়াশোনা আবার বাচ্চা হলে কি করে হবে। কি করবো বুঝতে পারলাম না।
রানা বললো এবোরশন করে ফেলতে, আমি চাইলাম না, নিষেধ করলাম।
রানার উপর রাগ হলো একজন ডাক্তার হয়ে এতটুকু সচেতন তোমার থাকা উচিত ছিলো। বাচ্চা পেটে আসবে আর আমি তা নষ্ট করে ফেলবো। আমার কষ্টটা তুমি একবারও ভাবলে না, আমি মা এটা করতে আমার বিবেক বাধা দেয়, কেনো আগেই সচেতন হলে না?
এই নিয়ে ঝগড়া হলো রানার সাথে। বাচ্চা নষ্ট করার বিষয়টা আমার খুব খারাপ লাগতো, মনে হতো মেরে ফেলা হচ্ছে তাকে।
যত কষ্টই হোক রানার কথাই মানতে হলো।
কিন্তু কেনো জানি না রানা আমাকে এবোরশন করানোর জন্য নিয়ে গেলো জুরাইন এলাকার একটা ছোট খাটো স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যেখানে ডাক্তাররা এই কাজটি করে না প্যারামেডিকস্রাই করে। নোংরা অস্বাস্থ্যকর একটা পরিবেশ।
প্রেম করার সময় বাচ্চা পেটে আসলে মানুষ যেমন লুকিয়ে কোন জায়গায় যেয়ে বাচ্চা নষ্ট করে আমার কাছে ঠিক সেইরকম মনে হলো বিষয়টিকে। মনে প্রশ্ন জাগলো কিন্তু কেনো?
কিছু বললাম না কিছু জানতেও চাইলাম না, রানার উপর ধীরে ধীরে একটু একটু করে অভিমান জমতে থাকলো আমার।
এবোরশন করা হলো, অনেক কষ্ট হলো আমার অনেক অনেক। শরীরের কষ্টতো আছেই মনে মনে কষ্ট পেলাম বাচ্চাটার জন্য, আর রানার অদ্ভূত আচরণের জন্য। খালি মনে হতো বাচ্চাটা হলে নিশ্চয় মেয়ে হতো। তারপর মনটা খারাপ ছিলো অনেকদিন। তবু জীবন চলে...তার গতিতে
চলবে....
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০১০ সকাল ১১:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


