somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবনরে কথা-৪০(১৮+)

২৭ শে জুলাই, ২০১০ দুপুর ১২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অসুস্থ্ ছিলাম তাই অনেক দিন দেরি হলো

চলছে....
আজকাল আমার খুব মন খারাপ থাকে ঝন্টুর সাথে মাঝে মাঝে বসে থাকি,
একদিন আমাকে বললো অন্য কোথাও চলো তোমাকে কিছু কথা বলবো।
আমি বললাম অন্য কোথাও যেতে হবে কেনো এখানেই বলো, আর তোমার কথাতো আমি জানিই,
আবার বললো, তোমাকে ছাড়া আমার চলবে না, তোমাকে আমি বিয়ে করতে চাই, তুমি চলে আসো, তোমাকে দেখে আমার সবসময় মনে হয় তুমি সুখি না, তোমার যা পাওয়া উচিত তুমি তা পাচ্ছো না। তুমি না বললেও তোমাকে দেখলে বোঝা যায়।
বিয়ে? কি বলো উল্টাপাল্টা, মাথা ঠিক আছে তোমার? তুমি জানো তুমি যা বলছো তা অসম্ভব আমি কখোনো তা পারবো না।
আমার ইচ্ছা থাকলেও আমি পারবো না। তবে আমার এমন ইচ্ছাও নেই। তুমি আমার বন্ধু শুধুই বন্ধু।
ঝন্টু বললো যদি মনে করো সামাজিক বাঁধা লোকে কি বলবে, তবে চলো তোমাকে আমি ইন্ডিয়া নিয়ে যাই, ওখানে আমাদের আতœীয়-স্বজন আছে। কেউ জানবে না। শুধু তুমি আর আমি ছাড়া, কেউ চিনবে না আমাদের।
বললাম থামোতো এ বিষয়ে কথা বলতে ইচ্ছা করছে না পরে কথা বলবো। তুমি যা বলছো ইমোশনালি বলছো। ভুল বলছো। না বুঝে বলছো। আমি একটা বিবাহিত মেয়ে, এভাবে ভাবা উচিত না। জীবনতো একটাই।

সেদিন থেকেই ঝন্টু সাথে দূরুত্ব রেখে চলতে শুরু করলাম।
ঘরে শান্তি নেই বাইরে শান্তি নেই, একটা ভালো বন্ধুও পেলাম না, সবাই কেমন যেনো....শুধু পেতে চায় শেয়ার করতে জানে না।

মনের ভিতর ভয় নিয়ে বাসায় ঢুকি আজ রাতে কপালে কি আছে কে জানে?
এখন আর স্বপ্ন দেখি না শুধু ভয়ে থাকি যেনো দুঃস্বপ্ন না দেখি...

সেদিন খুব নিস্তেজ মনে হচ্ছিলো নিজেকে, একটা পথতো বের করতে হবে কতদিন চলবে এই ঝগড়া, মানুষ কি পারে এভাবে বাঁচতে? আর ঝগড়া করতে ভালো লাগে না আমার।
একটা শান্তিও যদি আমার থাকতো তবে আমি এটুকু ভেবে শান্তনা পেতাম সবাইতো সব পায় না,
কিন্তু সব থেকেও কিছুই যেনো নেই আমার।
সামনে তাকালেই শুন্য মরুভুমি দেখি।
রাত অনেক, এখনই রানা বলবে কোনো ছেলের সাথে কথা বলতে ঝগড়ার পর্ব শুরু হবে এখন অপেক্ষার পালা, শক্তি নেই ঝগড়া করার, আবার ইচ্ছাও নেই ছেলেদের সাথে কথা বলার।
যে কোনো একটা আমার করতেই হবে, হয় ছেলেদের সাথে ফোনে কথা আর না হয় ঝগড়া- কোনটা করবো আমি, আর কত দিনই-বা চলবে এই ঝগড়া। সমাধানতো লাগবেই।
প্রতিনিয়ত চলছে নিজের সাথে যুদ্ধ, কেউ নেই যাকে বলতে পারি, বুদ্ধি চাইতে পারি!
সুখের আশা আর করি না চলছে বেঁচে থাকার লড়াই। জন সমুখ্যে সুখি থাকার অভিনয় করার লড়াই।
টেলিফোনটা ঘরে নিয়ে আসলো রানা ফোন করলো হাসুর কাছে রিসিভারটা দিলো আমার হাতে কি করবো ! দম আটকে কথা শুরু করলাম,
কেমন আছো?
এতো দিন পর?
এমনি...(কথা আসছে না কেমন যেনো জড়িয়ে যাচ্ছে কথা) খুব বেশি মন খারাপ।
পাশ থেকে রানা বললো অন্য কথা বলো।
হাসু বললো কি করো?
কিছু না।
তোমার হাজবেন্ড কি করে? তোমার পাশে?
না পাশের ঘরে ঘুমাচ্ছে।
হাসু বললো জানো আমার বিছানা থেকে শুয়ে শুয়ে চাঁদ দেখা যায়। খুব সুন্দর চাঁদ উঠেছে, দেখবে তুমি?
‘না’ আমার জীবনে চাঁদ দেখা নেই। রানা মুখটা চেপে ধরলো আমার। চমকে উঠলাম মূহুর্তের জন্য ভুলে গিয়েছিলাম রানা পাশে।
কি হলো চুপ হয়ে গেলে?
কই নাতো এমনি,
তোমার কি মন খারাপ? তোমার হাজবেন্ডকে ঘুম থেকে উঠাও ছাদে যেয়ে চাঁদ দেখো মন ভালো হয়ে যাবে।
রানা ফোনটা কেটে দিলো। এসব কথা বলার জন্য তোমাকে ফোন করে দিয়েছি?
আমি বললাম তোমার কি লাভ আমি কথা বললে?
সেটা আমি বুঝবো, আমি আবার ফোন করে দিচ্ছি এবার ঠিকমত যা বলছি তাই বলবে।
নিজের কাছে হেরে গেলাম আমি, হার মানলাম, আর পারছি না আমি, নির্বিকার জীবন চাইলেও কথা বলতে হবে আমার,
বুঝে গেছি এতদিনে এই কঠিন সত্যটা। বুঝলাম রানার সাথে সংসার করতে হলে তার কথা মানতেই হবে আমার, চেষ্টাতো অনেক করলাম পারলাম কই?
সব মেনে নিয়ে আজ নিজেকে বিসর্জন দিলাম! বললাম ঠিক আছে তুমি যা বলো তাই হবে।
নিজেকে চিনতে নিজেরই ভুল হচ্ছে আমার, আমিতো সেই আমি নাকি অন্য কেউ।
রানা ডায়াল করতে গেলো আমি বললাম কি বলবো বলে দাও।
যা বলা যায় সবই বলবে।
আমিতো জানি না কি বলা যায় কখোনোতো এমন কথা বলিনি।
রানা বললো বলবে ওর সে´ করতে ইচ্ছা করছে কিনা যদি ইচ্ছা করে তা কিভাবে ....। এইসব।
বুঝতে পারছি না কিভাবে বলবো। হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিলো।
ফোন করে দিলে হাসুর কাছে শুরু করলাম কথা, এমন সরাসরি আমি বলতে পারবো না, জিজ্ঞেস করলাম একা থাকতে কষ্ট হয় না? ও বললো কেনো? আমি বললাম কিছু করতে ইচ্ছা করে না?
ইচ্ছা করলে কি করবো?
যা ইচ্ছা করবে।
কার সাথে.. মানুষ কই?
মানুষের অভাব? চাইলেই পাওয়া যায়।
ঐ রকম সবাই চায় না।
তবে তুমি কি চাও। ...........?
..........?
.............?
................................
.......?
.............
...........
তবু রানা খুশি হতে পারলো না। আরও বিস্তারিত বলতে বললে.... একটা ব্লু ফিল্ম দেখার যে অনুভূতি সেটা সে নিতে চাইলো।
আর পারছি না অঝরে কাঁদতে থাকলাম রানা ফোনের লাইনটা কেটে দিলো। জীবনের নতুন অধ্যায়ে তিক্ত আস্বাদ পেলাম।
পাথর হয়ে বসে থাকলাম, কি কঠিন পরীক্ষায় আমি পরলাম এটা কি একটা মানুষের জীবন? এর চেয়ে বেশী কি আমি পারবো ?
সকল প্রতিবাদ যেনো থেমে গেলো। নিজেকে একটা যন্ত্রচালিত পুতুল মনে হলো।
রানা বললো আজ প্রথম দিন এর পর থেকে আরও বিস্তারিত বলতে হবে। চুপ করে থাকলাম। সব কথা যেনো কোথায় হারিয়ে গেছে আমার। নির্বাক আমি, নিথর আমি, নিশ্চুপ আমি...
ফোনের পর্ব শেষ হলো এরপর সেক্স করতে চাইলো রানা,
মূহুর্তের মধ্যে আমার সমস্ত শরীরের মধ্যে ছড়িয়ে পরলো রানার প্রতি ঘৃণার বিষ।
রানা আমাকে ধরলো আমার সমস্ত অনুভূতি বিকর্ষণ করলো রানার ছোঁয়াকে। অসহ্য মনে হলো। সংকুচিত হয়ে গেলাম আমি।
যে আমি রানার একটু ছোঁয়া পেলে অনুভূতির শীতল ঝাপটায় ভিজে যেতাম, আমি কি সেই আমি?
কোথায় গেলো আমার সেই অনির্বাণ চির চাওয়া, যার জন্য আমি চীর কাঙ্গাল।
ও ভুলেই গিয়েছিলাম...আমার চাওয়াগুলোতো ঘুমিয়ে আছে।
রানার ছোঁয়া কাঁটার মত শরীরে বিধতে থাকলো, এক বিন্দু অনুভূতি ছাড়া জীবনের প্রথম সেক্স করলাম।কষ্ট হলো।
রানা একটুও খেয়াল করলো না, আমার একবিন্দু ভালোলাগাও ছিলো না সেদিন, ছিলো শুধু ঘৃণা আর যন্ত্রণা ।
সেদিন আরও বেশী করে জানলাম- ভালোবাসা আর মমতা ছাড়া সেক্সকে অনুভব করা যায় না।
একে ঘিরে আছে মায়া, মমতা, ভালোবাসা, আবেগ, এর একটিকে ছাড়া অসম্পূর্ণ অন্যটি।
এই কঠিন খেলার পরমপ্রাপ্তিকে চরমভাবে অনুভব করতে পারাটাই হলো পূর্ণ অনুভব, অর্থাৎ পূর্ণতা।
আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেলো সে অনুভব....

চলবে.....
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০১০ বিকাল ৪:০৭
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×