somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুয়েট ছাড়া রুয়েট-কুয়েট-চুয়েটে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা: আমার মতামত

২৩ শে জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সম্প্রতি চুয়েট-রুয়েট-কুয়েট এরা একসাথে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও বুয়েট রাজী হয়নি। আমি অবশ্যই এই সিদ্ধান্তের পক্ষে এবং এখানে সেটা নিয়েই লিখছি। তার আগে কিছু কমন জিনিসে কথা বলি।

একসাথে পরীক্ষা হলে কার লাভ ?? উত্তর: পরীক্ষার্থীর....... কারণ নিজের অভিজ্ঞতা না থাকলেও কিছুদিন আগে কাজিন-টাকে দেখলাম পুরো বাংলাদেশ প্রায় ঘুরে বেড়াতে হল পরীক্ষা দেয়ার জন্যে। ঘুরতে সমস্যা নাই কিন্তু পরীক্ষার টাইমে ঘুরাঘুরি করতেই যদি টাইম যায় সেটা গ্রহণযোগ্য না।
একসাথে পরীক্ষা নেয়ার উদাহরণ কোথা থেকে আসলো ?? উত্তর: মেডিকেল অ্যাডমিশন টেস্ট.........
এর সমস্যা ?? উত্তর: দুর্নীতি-প্রশ্ন ফাঁস-ভার্সিটিতে সিট ফাঁকা থাকা মাইগ্রেশন সিস্টেমের অভাবে ইত্যাদি ইত্যাদি....

**************

এই প্রসেসে আমি (এবং বুয়েটের আরো অনেকে) সমর্থন করি না কারণ আমরা আমাদের অ্যাডমিশন টেস্ট নিয়ে গর্ব করি, সামগ্রিকভাবে পরীক্ষা হলে কোশ্চেন ডিস্ট্রিবিউটর কে হবেন ??? যেই দেশে বিসিএস এর প্রশ্ন আউট হয় সেখানে এটার হবে না এর কোন গ্যারান্টি নাই।

স্টুডেন্ট কোয়ালিটি নিয়ে অনেকে বললেন দেখলাম। আমি মনে করিনা বুয়েটে পড়েছি জন্যে আমি শ্রেষ্ঠ আবার "অমুক" ভার্সিটিতে পড়িনি জন্যে আমার জীবনটাই বৃথা। "বৃক্ষ তোমার নাম কি ? ফলে পরিচয়"........ সুতরাং বুয়েটিয়ান হন, আর যাই হন আপনি পরিচিত হবেন আপনার নিজের পটেনশিয়ালিটিতে। "আমি বাংলাদেশের নাগরিক": এটাই শেষ ও মূল কথা। দেশ থেকে কি নিলাম- দেশকে কি দিলাম সেটা দিয়ে কারো বিচার হবে, অহংকার করলেও এটার বেসিসে করতে হবে।

একসাথে পরীক্ষা হলে আমি প্রথম যেই কারণে বিরোধীতা করব তা হল ট্রাডিশন ব্রেক চাইনা আমি। এই একসাথে পরীক্ষাটা কি স্যাট টাইপের কিছু ??? অবশ্যই না।

দ্বিতীয় কারণ হল কোশ্চেন সেটিং। আমরা বুয়েটিয়ানরা আমাদের অ্যাডমিশন টেস্টের স্বচ্ছতা নিয়ে গর্ব করি সুতরাং আজকে অন্য ভার্সিটির কারো একজন প্রশ্নে পরীক্ষা হবে এটা মেনে নিতে পারছি না। তিনি প্রশ্ন কঠিন/সহজ এর কোনটা করবেন তা জানিনা কিন্তু সেটা বুয়েটে এতকাল হয়ে আসা কোশ্চেন স্ট্যান্ডার্ডকে ফলো করবে কিনা সেটা একটা প্রশ্ন।

এছাড়া বুয়েটে প্রশ্ন ছাপা হয় সম্ভবত পরীক্ষার আগের রাতে যাতে কোন ফাঁস টাইপের কিছু না হয়: এটা কিভাবে গুচ্ছ পরীক্ষায় সাপোর্ট করা হবে ???

তৃতীয় কারণ হল, দূরত্ব। ঢাকা দেশের মাঝামাঝি হওয়াতে সবার জন্যে ঢাকা আসা সহজ কিন্তু পুরো দেশ ঘোরা কঠিন (রাজশাহী-চট্টগ্রাম-খুলনা হলে বাকি থাকলো খালি সিলেট এলাকা)।

চতুর্থ, দেশে তো আরো অনেক ভার্সিটি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ায়, ওরা কেন বাদ যাবে ??? হয় সবাই আসবে গুচ্ছ পরীক্ষায় নয়তো বুয়েট যাবে না: আমি এটাই বলব। নয় সবাই- নয়তো কেউ না।

পঞ্চম, এমআইটি-স্ট্যানফোর্ড এই ভার্সিটিগুলি'র অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট দেখবেন অনেক হাই। কেন ??? কারণ: তারা সেরাদের নিতে চায়। আমাদের বুয়েটও যদি এমনটা চায় তাহলে কারো তো প্রশ্ন তোলার কারণ দেখি না। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে করা rank অনুসারে বুয়েট ১ম নাকি লাস্ট সেটা ফ্যাক্টর না, একটা স্বায়ত্বশাসিত ভার্সিটি যেমন ইচ্ছা তেমন স্টুডেন্ট ভর্তি করতে চাইতেই পারে এবং এ ব্যাপারে কারো কথা বলা উচিত কি ???

ষষ্ঠত ও শেষ, আরো যে কারণে সাপোর্ট করবো না তা হল কোটা সিস্টেম। একসাথে পরীক্ষা হলে অ্যাডমিশন সিস্টেমটা ভার্সিটি থেকে সরকারের কাছে চলে যাবে এবং এর ফলশ্রুতিতে আসবে কোটা সিস্টেম (ভোট টানার সিস্টেম)। মেডিকেলে জেলা কোটা বলে একটা ব্যাপার আছে, এর কারণে অনেক ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট বাদ হয়ে যায়। আমি চাই দেশের সেরা স্টুডেন্টরা বুয়েটে আসুক, এতে আদিবাসী কোটা ব্যতীত আর কোন কোটা প্রথা দেখতে চাইনা আমি......


***********

রুয়েট-কুয়েট-চুয়েট একমত হয়েছে তাদের অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট সমান, তারা একমত হয়েছে অ্যাডমিশন টেস্ট তদারকি নিয়ে তারা সন্তুষ্ট এবং তাদের সিদ্ধান্তে ৩টাতেই পরীক্ষা দিতে চাওয়াদের সুবিধা হয়েছে সুতরাং ওদের একসাথে গুচ্ছ পরীক্ষা নেয়াকে আমি অবশ্যই সাপোর্ট করি।

************

সুতরাং বুয়েটেও গুচ্ছ পরীক্ষা নেয়ার কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর বদলে যদি স্যাট টাইপের কিছু করা যায় তাহলে ভাল। নয়তো নিয়ম করা হোক, ইন্টারের ম্যাথ-ফিজিক্স-কেমিস্ট্রি এর নাম্বার প্রকাশ করা হবে এবং ভর্তি হবে এর ভিত্তিতে: তাহলে অনেক ভাল হবে কারণ তখন আর কোচিং সেন্টারও লাগবে না এবং সবাইকেই আলাদা করা যাবে মেধা অনুসারে ( মানে ৮০ আর ১০০ একই গ্রেড আবার ৮০-৭৯ আলাদা এই সমস্যাগুলি দূর হবে)


***************

সবশেষে বলব, আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে গুচ্ছ পরীক্ষা হলে ভাল তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এটা অ্যাপ্লিকেবল না। যেটা করা যেতে পারে সেটা হল পুরো দেশের সব সায়েন্স স্টুডেন্টকে একটা কমন পরীক্ষা দেয়ানো যেতে পারে এবং সব ভার্সিটি (পাবলিক-প্রাইভেট সব) সেই স্কোরের উপর বেজ করে স্টুডেন্ট নিবে। এই পরীক্ষা হবে জেলা সদরগুলিতে এবং ভীষণ সিকিউরডভাবে হবে ( দরকার হলে ৩মাস ধরে হবে)।

আমি একজন বুয়েটিয়ান জন্যে অবশ্যই আমি কুয়েটিয়ান-রুয়েটিয়ান-চুয়েটিয়ানদের সম্পর্কে ডিটেইলস জানিনা, যা জানি তা বন্ধুদের দ্বারা। এই ৩টি ভার্সিটি যেহেতু একসাথে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নিতে রাজী হয়েছে তাই এগুলিতে পরীক্ষার্থীদের এগুলিতে পরীক্ষা দেয়ার টোটাল কষ্ট চিন্তা করে আমি এদের একসাথে পরীক্ষা নেয়া সাপোর্ট করলেও বুয়েটে সাপোর্ট করতে রাজী না।

**************

ডিসক্লেইমার: বুয়েট নিয়ে লিখা দেখলে অনেকেই ভাবেন ভাব মারা লিখা /:) আমি এখানে যা লিখেছি সেটা আমার "নিজস্ব" ইনস্টিটিউশন এর উপর লিখা। এতে ভাবের দেখা খুঁজে পেলে সেটা আপনার দুর্বল মনের পরিচায়ক হবে এবং সেক্ষেত্রে পোস্টে "বুয়েট" কথাটা এডিট করে "অগা-মগা-য়েট" পড়বেন এবং বিশ্লেষণ করবেন আবার পোস্টটা: এই অনুরোধ থাকলো।

ভাল থাকবেন সবাই...........
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৯
৩২টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×