somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বায়োটেকনোলোজি এবং ভবিষ্যৎ অর্থনীতি

২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই লেখাটি বায়োটেকনোলোজি এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবী এর সিকুয়াল হিসাবে ব্লগায়ীত।।।।।

মানব কল্যাণে পরিবেশ পরিবর্তন করার ক্ষমতা বায়োটেকনোলোজির আছে। যা আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। তাই OECD (The Organization for Economic Cooperation and Development) সদস্য দেশগুলো ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের একটা চাবি হিসেবে বায়োটেকনোলোজিকে গণনা করছে। বায়োড্রাগ ভবিষ্যৎ ঔষধশিল্পে একটা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে, তা এখনই অনুমান করা যায়। OECD এর ধারণা ২০১৫ সাল নাগাদ পৃথিবীর অর্ধেক ঔষধ এবং বীজ বায়োটেনোলোজির মাধ্যমে উৎপন্ন হবে। ২০৩০ সাল নাগাদ OECD সদস্য দেশগুলোতে বায়োটেকনোলোজি ভিত্তিক GDP ২.৭% এ উন্নীত হবে যা বর্তমানে ১% এরও কম। এর ফলে OECD সদস্য দেশগুলো ছাড়াও অন্য দেশগুলো লাভবান হবে। বর্তমানে OECD সদস্য দেশগুলোতে মাত্র ৬% ব্যবসা-বানিজ্য হয় বায়োটেকনোলোজি কেন্দ্রিক যা মূলত কৃষি সামগ্রী। OECD এর The International Futures Programme (IFP) ২০৩০ সাল পর্যন্ত বায়ো-অর্থনীতি প্রণয়ন করেছে। যা নয়টি পরিচ্ছদে বিভক্তঃ
1. Defining the Bio-economy
2. What External Factors Will Drive the Bio-economy to 2030?
3. The State of the Bio-economy Today
4. The Bio-economy to 2015
5. Institutional and Social Drivers of the Bio-economy
6. The Business of the Emerging Bio-economy
7. The Bio-economy of 2030
8. Policy Options for the Bio-economy: The Way Ahead
9. Conclusions: On the Road to the Bio-economy

এই নয়টি পরিচ্ছদে অর্থনীতির ওপর বায়োটেকনোলোজির ফলাফল এবং বায়োটেকনোলোজির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন কি ভাবে সম্ভব তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে; এবং সেই সাথে বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে। যেমন
# পৃথিবীর জনসংখ্যা হবে ৮.৩ বিলিয়ন!
# প্রতিবছর এউচ বৃদ্ধি পাবে উন্নত দেশগুলোতে ৪.৬% এবং OECD সদস্য দেশগুলোতে ২.৩%(প্রায়)
# চীন এবং ভারত বায়োপ্রোডাক্ট রপ্তানি শুরু করবে যা হবে মূলত কৃষি, বনায়ন ও মৎস সম্পর্কিত।
# যদিও এখন বায়োটেকনোলোজি তার প্রাথমিক অবস্থা পার করছে এবং এখনও বায়োটেকনোলোজির ব্যবসায়িক পণ্যগুলো কৃষিক্ষেত্রেই ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু খুব শীগ্রই তা চিকিৎসা ক্ষেত্র সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বিস্তৃতি লাভ করবে। বায়োইনফরমেশন এবং উঘঅ শিকোয়েন্সিং যত সমৃদ্ধ হবে তত ফার্মকোজেনেটিক্স এবং বায়োমেডিসিন আবিষ্কার সহজ হবে। তাই বর্তমানে মানব জিন ব্যাংক নির্মাণে OECD দেশগুলো বিনিয়োগ করছে। OECD এর মতে ২০১৫ সাল নাগাদ Genetically Modified (GM) উদ্ভিদ সহজলভ্য হবে। ফলে ফার্মাকোজেনেটিক্স এর উন্নতি হবে। ফার্মাসিটিক্যাল ও বায়োকেমিকেল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে ১২-২০% এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে ১.৮%। বায়োইথানল থেকে বায়োডিজেল উৎপাদন ২০১৫ সালের মধ্যে সম্ভব হবে বলে OECD দেশগুলো ধারণা করছে। সমাজ, অর্থনীতি এবং প্রযুক্তি বায়োটেকনোলোজিকে নিয়ে নতুন ধরনের ব্যবসার সূচনা করেছে, যা সুদূরপ্রসারি। বায়োটেকনোলোজির বর্তমান পণ্য এবং জিন পরিবর্তনের ক্ষমতা বায়োইকোনোমিকে খুব দ্রুত যৌথ অর্থনীতিতে রূপান্ত-রিত করবে। ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্ব অর্থনীতি বায়োটেকনোলোজিকে ভিত্তি করে গড়ে উঠবে; তার আভাস এখনই পাওয়া যায়। এছাড়াও বর্তমানে GM শস্য বায়ো-অর্থনীতি সম্পর্কে জনগণকে ভাবতে বাধ্য করেছে। ফলে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ছাড়াও ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বায়োটেকনোলোজি নিয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী হচ্ছে। এবং শুধুমাত্র বায়োটেকনোলোজির সঠিক প্রয়োগ পৃথিবীকে করতে পারে আমাদের স্বপ্নের মত। সঠিক বিনিয়োগের মাধ্যমে পৃথিবী বায়োটেনোলোজি থেকে অনেক উপকৃত হতে পারে। এর ফলে যেমন আসন্ন মহা গণবিলুপ্তি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে ঠিক তেমনি পৃথিবীর অর্থনীতি হবে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী।

প্রকৃত অর্থে বায়োটেকনোলোজি কতকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বপ্নের সমষ্টি যা বাস্তবতায় রুপ নেয়। ভবিষ্যৎ পৃথিবীর ইতিহাস লেখা হবে বায়োটেকনোলোজির ওপর নির্ভর করে। সুতরাং বায়োটেকনোলোজির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদেরই দ্বায়ীত্ব। কারণ বায়োটেকনোলোজির যে ক্ষমতা তা পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী! একটা ভুল পৃথিবী থেকে সভ্যতাকে পুরোপুরি মুছে দিতে পারে।



তথ্য সূত্র
http://www.interscience.wiley.com
http://www.oecd.org
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৫০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×