somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হ্যালোটিউনসের নামে সিটিসেলের ভাওতাবাজি

০২ রা আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালবেলা হঠাৎ আমার সিটিসেল নম্বরে পরপর ৫টি এসএমএস এলো। মেসেজগুলো হ্যালোটিউনস সম্পর্কিত। প্রথম মেসেজটি পড়ে জানতে পারলাম আমি নাকি হ্যালোটিউনস সার্ভিসটির জন্য সিটিসেলের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করেছি। সিটিসেলও আমার এই আকুল অনুরোধ ফেলতে পারেনি। তারা আমাকে আশ্বস্ত করলো যে, অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি এই সার্ভিসটি উপভোগ করতে পারবো। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা আমাকে জানালো সার্ভিসটি চালু হয়েছে এবং এই সার্ভিস বাবদ আমার পোস্টপেইড একাউন্ট থেকে ভ্যাটসহ মাত্র ৪৯.৪৫ টাকা (রেজিস্ট্রেশন ফি ৩৪.৫০/- ও গান ডাউনলোড ফি ১৪.৯৫/-) চার্জ করা হয়েছে। আমি সিটিসেলের এই দ্রত সার্ভিস দেয়ার ধরন দেখে পুলকিত হলাম এবং সেই সাথে ৩য় বারের মতো বিস্মিত না হয়েও পারলাম না। বিস্মিত হলাম এজন্য যে, আমি কখন এ সার্ভিসটির জন্য তাদের কাছে অনুরোধ করেছি তা আমি নিজেই জানি না। অবশ্য আমি অনুরোধ না করলেও সিটিসেল সেবা প্রদান করতে ভুল করেনি এবং একাউন্ট থেকে টাকা কাটতেও বিলম্ব করেনি। যেহেতু আমি এর আগেও ২ বার এ ধরনের সেবা পেয়ে বিস্মিত হয়েছি তাই বিস্মিত মনেই সিটিসেল কল সেন্টারে কল দিলাম। তাদের ইচ্ছায় আমাকে এ সেবাটি প্রদান করায় তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে সার্ভিসটি বন্ধ করে আমার একাউন্টের টাকা ফেরত দেয়ার জন্য বললাম। কল সেন্টার থেকে রওশন নামের এক নারীকণ্ঠ আমাকে জানাল, আমার অভিযোগটি তিনি সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টে পাঠিয়ে দিয়েছেন। শিগগিরই সিটিসেল অফিস থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। আমি যেন তাদের ফোনের অপেক্ষায় থাকি। যেহেতু আমি আগে আরও ২ বার এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়েছি তাই রওশন নামের নারী কণ্ঠটির সঙ্গে আর কোনো উচ্চবাচ্য না করে ফোন রাখলাম।
এবার একটু পেছনে ফিরে তাকানো যাক। প্রায় ২ মাস আগে আমার সিটিসেল নম্বরে হ্যালোটিউনস সম্পর্কিত একই ধরনের এসএমএস এসেছিল এবং আমি প্রায় ১০-১২ বার কল সেন্টারে অভিযোগ জানানোর পর তারা সার্ভিসটি বন্ধ করেছিল। অবশ্য তারা বারবার দাবি করছিল যে, আমিই নাকি এ সার্ভিসের জন্য তাদের কাছে অনুরোধ করেছি। আমিও তাদের এ বক্তব্যের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছিলাম। তাদের শেষ বক্তব্য ছিল এটা যদি তাদের কারিগরি ত্রুটি হয় তাহলে অবশ্যই একাউন্ট থেকে কাটা টাকা ফেরত দেয়া হবে এবং সার্ভিসটিও বন্ধ করা হবে। অবশেষে তারা প্রায় ১৫ দিন পর সার্ভিসটি বন্ধ করেছিল এবং মাস শেষে আমি আমার পোস্টপেইড বিলের কপি হাতে পেয়ে দেখেছিলাম আমার একাউন্ট থেকে ঠিকই ৪৯.৪৫ টাকা চার্জ করা হয়েছে। আমি সিটিসেলের এই দ্রুত (১৫ দিন) সেবা প্রদান দেখে যারপরনাই আরেকবার বিস্মিত হয়েছিলাম।
গত মাসের ২৪ তারিখে আমার এক বড় ভাইয়ের নম্বরেও ঠিক একই সমস্যা হয়েছে। তিনিও আমার মতো কল সেন্টারে ফোন করে অভিযোগ জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৯ দিনে তিনি ৪ বার কল সেন্টারে ফোন করেছেন এবং কল সেন্টার থেকে প্রতিবারই তাকে জানানো হয়েছে সিটিসেল অফিস থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। তিনি আজ ৯ দিন ধরে ফোনের অপেক্ষায় আছেন। আমার এক চাচার নম্বরেও একই ঘটনা ঘটেছে। তিনি আমার কাছে জানতে চেয়েছেন কিভাবে তিনি এ সার্ভিসটি বন্ধ করতে পারবেন। আমার পরিচিত আরও কয়েকজন সিটিসেল ফোন ব্যবহারকারী না চাইতেই সিটিসেল থেকে এ সেবা পেয়েছেন।
সম্প্রতি সিটিসেল * বাটন প্রেস করে হ্যালোটিউনস সার্ভিস চালুর ব্যবস্থা করেছে। কোনো সিটিসেল নম্বরে ফোন করলে সেই নম্বরটির হ্যালোটিউনটি যদি পছন্দ হয় তাহলে * বাটন প্রেস করে খুব সহজেই সেই টিউনটি নিজের সিটিসেল ফোনে সেট করার সুযোগ পাচ্ছেন সিটিসেল গ্রাহকরা। আমার পরিচিত যে কয়েকজন এই সার্ভিসটি না চাইতেই পেয়েছেন তাদেরকে কল সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে তারা * বাটন প্রেস করায় সার্ভিসটি চালু হয়েছে। তারাও ভেবেছেন হয়তো কখন * বাটনে চাপ পড়ে গিয়েছে তারা বুঝতেই পারেননি। কল সেন্টার থেকে আমাকেও এমনটাই বলা হলো আজ সকালে। কিন্তু আমিও কল সেন্টারের নারী কণ্ঠটিকে জানিয়ে দিলাম মনের ভুলে কিংবা অজান্তে আমি * বাটন প্রেস করিনি।
এবার একটু হিসাব করা যাক। আমি বলতে চাই সিটিসেল বর্তমানে হ্যালোটিউনস সার্ভিসের নামে গ্রাহকদের সঙ্গে ভাওতাবাজি করছে। আমার জানা মতে সিটিসেলের বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা ১৫ লাখের ওপরে। এর মধ্যে ৫ লাখ গ্রাহককেও যদি সিটিসেল এই সার্ভিসটি না চাইতেই জোর করে দিয়ে দেয় তাহলে সিটিসেল সেসব গ্রাহকের কাছ থেকে নিচ্ছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। আর যেসব গ্রাহক এ ব্যাপারে জানার জন্য কিংবা অভিযোগ করার জন্য কল সেন্টার ফোন করছেন কল সেন্টার থেকে তাদের জানানো হচ্ছে যে, তারা নিশ্চয় * বাটন প্রেস করেছেন। যারা কল সেন্টারে কল করছেন তারা কল করা বাবদ প্রতি মিনিটে সিটিসেলকে দিচ্ছেন ২.৩০ টাকা। এখান থেকেও সিটিসেল বাড়তি আয় করছে। অর্থাৎ সবদিক থেকেই সিটিসেল গ্রাহককে প্রতারিত করছে এবং গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আয় করছে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:৩১
১৮টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×